রাজশাহী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন কোনো সরকারি বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি

ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাত দিবস ১২ রবিউল আওয়ালকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হয়েছে।

সরকারী প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর দিবসটিতে বাংলাদেশের সব সরকারি-বেসরকারি ভবন ও অফিস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। এছাড়া বিদেশি কূটনৈতিক মিশন ও দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক।

প্রসঙ্গত, মুসলমানদের কাছে এক পবিত্র দিন হচ্ছে ‘বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাত দিবস ১২ রবিউল আউয়াল’। এ দিনটি মুসলমানরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করে থাকেন।

উল্লেখ্য, সরকারি এই নির্দেশ অমান্য করে ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন সমূহে।
সরকারের নির্দেশনা ছিল ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন সকল প্রতিষ্ঠানে সকালে সূর্য উঠার পর থেকে সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে রাখতে হবে।

কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শহরে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে কোনো সরকারি- বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজ, সড়ক ও জনপদ ভবন, এলজিইডি ভবন, জেলা মৎস্য ভবন, ঠিকাদার সমিতি ভবন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা নির্বাচন অফিস, গণপূর্ত ভবন, সিভিল সার্জন ভবন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন গ্রুপ, এমনকি আদালত ভবন সহ কোনো সরকারি বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে কোন পতাকা চোখে পড়েনি। রবিবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে এমন অবস্থা দেখে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।

এবিষয়ে শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল আলম বলেন, আমি নির্দেশনা দিয়েছিলাম পতাকা উত্তোলনের। আমার কলেজের স্টাফরা বলছে উত্তোলন করেছিলাম। এর বেশী মন্তব্য করেন নি তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুক মুঠোফোনে বলেন, এবিষয়ে জেলা প্রশাসনের কিংবা আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা পাইনি পতাকা উত্তোলনের। নির্দেশনা না পেলেও নিজ দায়িত্বে পতাকা উত্তোলন করলেন না কেনো? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব ইসলাম বলেন, আমার অফিসের স্টাফরা বলছে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন, তবে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নাইমা খাঁন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি এমূহুর্তে কোনো মন্তব্য করতে চাইছিনা, মিটিং এ আছি বলে ফোন কেটে দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিব খান বলেন জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি দপ্তরে ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন পতাকা উত্তোলন ও উদযাপন বিষয়ে যথা সময়ে নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছিলো। সড়ক ও জনপথ বিভাগের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ঝিনুক জেলা প্রশাসনের কোনো চিঠি পাননি বক্তব্য বলেছেন কেনো? এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক ভিত্তিহীন কথা বলার জন্য সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এলাকাবাসী সহ জেলার সচেতন মহল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button