বরিশাল

তালতলীতে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার তালতলীতে সাংবাদিক জলিল আহমেদ’র বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিক জলিল তালতলী রিপোর্টার্স ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও বেসরকারি টেলিভিশন এশিয়ান টিভির তালতলী উপজেলা প্রতিনিধি।

গত (১৭ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার আমতলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে মারধরের হুকুমদাতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন মালেক আকনের ছেলে হিরো আকন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মালেক আকনের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজ আক্তারের বাড়ি উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের খোট্টারচর এলাকায়। স্ত্রীকে মারধর করে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন মালেক। রবিবার (১৬ অক্টোবর) শ্বশুরবাড়িতে বেরাতে এসে আবার শাশুড়ি ও স্ত্রী শাহনাজকে বেধড়ক মারধর করে। ঘটনা শুনে সাংবাদিক জলিল আহমেদ সহ সাংবাদিকরা উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে। সাংবাদিকরা উপস্থিত হওয়ার পরও কয়েক দফায় মালেক আকনের শশুর বাড়ির লোকজনের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় সাংবাদিকররা ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় মালেক আকন সাংবাদিক জলিলকে হুমকি দেন। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ এসে মালেক, তার শ্বশুর মো. নিজাম ও স্ত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে উল্টো সাংবাদিক জলিলের নামে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মালেক আকন তার শাশুড়িকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয় এ সময় মালেকের শ্বশুর- ও স্ত্রী বাধা দিলে মারধরের ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিক জলিল আহমেদ বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনে সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ভিডিও ধারণ করি এ সময় মালেক আমাকে হুমকি-ধমকি দেয় যে, তুই ভিডিও করিস না, তোকেও কিন্তু মামলায় দেব। মালেকর অপকর্ম ঢাকার জন্যই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাই মালেক ও তার ছেলে হিরুর এখন একমাত্র কাজ।

মালেক আকন বলেন, আমাকে যখন মারধর করেছে তখন সাংবাদিক জলিল ওখানে উপস্থিত ছিল, আমাকে মারধর না ফিরিয়ে তিনি ভিডিও ধারণ করেন এ কারণেই আমি তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তালতলী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মল্লিক মো.জামাল বলেন, একজন সাংবাদিকের কাজ সংবাদ সংগ্রহ করা। সেখানে শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্ত্রী সহ একটি পরিবারের মধ্যে ব্যাপক মারধরের ঘটনা শুনে সাংবাদিকরা সেখানে সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত হন। মালেকের অপকর্ম লুকানোর জন্যই জলিলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, থানায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে শুনেছি আদালতে সাংবাদিক জলিল’র বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button