নির্বাচন কমিশনের জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী জনসভা, মিছিল বা শোডাউন করতে পারবে না। তবুও ছাত্রদল প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মী নিয়ে তিন দফা দাবিতে কমিশন ভবনের সামনেই বিক্ষোভ চালায়। এতে এলাকায় যানজট ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের জমায়েত কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের সময় দেশের প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাটি বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (নাম গোপন রাখার শর্তে) বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। কমিশনের সামনেই এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টরা পদক্ষেপ নিচ্ছেন।”
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম বলেন, “কমিশন যদি নিজের সীমানায় আচরণবিধি রক্ষা করতে না পারে, তাহলে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসিকে শক্ত হাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”
এদিন বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম। এতে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, শিগগিরই বিষয়টি সমাধান হবে।
ছাত্রদল এই বিক্ষোভের মাধ্যমে তিন দফা দাবি জানাচ্ছে:
পোস্টাল ব্যালট ইস্যু: আসন্ন নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কমিশনের “পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ” সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ: কোনো বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের অধীনে হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
শাকসু নির্বাচন: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন (শাকসু) সংক্রান্ত ইসির “বিতর্কিত ও প্রভাবিত” প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “আজকের মূল বিষয় হলো ব্যালট পেপার। এটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব এবং কমিশনের প্রতি তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তার মাধ্যমে ঘটেছে।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। কেন্দ্রীয় নেতাসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং বিভিন্ন থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।