বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল কাস্টমস গোডাউন থেকে ভারতীয় জবাদকৃত পণ্য পাচারের সময় এক কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় পণ্য পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানসহ জব্দ ও প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২১ জুন) বিকালে বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্প থেকে আটককৃতদের পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) শ্রী ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, চালক মহসিন আলী ও হেলপার জাহিদ হাসান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ হওয়া চালানে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস এবং আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোলে অধিকাংশ শুল্ক ফাঁকি, পণ্য চুরি ও অনিয়মের ঘটনা গভীর রাতে সংঘটিত হয়। অথচ প্রতিবার ঘটনার পর তদন্ত, কঠোর ব্যবস্থা ও নজরদারি বৃদ্ধির আশ্বাস দেওয়া হলেও একই চিত্র বারবার ফিরে আসে।
তবে, এসব অনিয়ম উদঘাটনে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বিজিবি।
বেনাপোলের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দীন বলেন, কাস্টমসে কোনো বড় অনিয়ম বা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়লে পরে প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটনাগুলো প্রথমে শনাক্ত করে বিজিবি। যদি সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়মিত অভিযান না চালাত, তাহলে অনেক বড় বড় চালান গন্তব্যে পৌঁছে যেত।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি কাভার্ডভ্যানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের হিসাব ও সিজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমস হাউস দুজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তবে ব্যবসায়ী মহলের প্রশ্ন, শুধু সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় তদন্তে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে কি না।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী রাজ্জাক হোসেন বলেন, কাস্টমসে এর আগে নানান অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। কখনো পণ্য উধাও, কখনো শুল্ক ফাঁকি, আবার কখনো মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে অনিয়ম বন্ধ হবে না।
প্রসঙ্গত,সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে কাস্টমসের জব্দ করা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য উধাও হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১ নম্বর শেড থেকে প্রায় ২৫ টন আমদানিকৃত পণ্য নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে। এর আগে ২৬ নম্বর শেড থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ঘোষণাবহির্ভূত ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিকস জব্দ করা হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বন্দর ও কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বেনাপোল কাস্টমস সহকারি কমিশনার রাহাত হেসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুজন এআরও ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বারবার ঘটে যাওয়া এসব অপরাধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।