বিবিএস নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের উত্তাপ এখন এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রেম-ভালোবাসাও যেন একটু হিসাব করে চলতে বাধ্য হচ্ছে! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে ভারতের কনডম বাজারে যেখানে ‘সেফটি’ নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা। আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার টালমাটাল পরিস্থিতিতে এমন এক পণ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণত কেউ প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বললেও, এর গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ, বিশেষ করে লোহিত সাগর ঘিরে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে ভারতের কনডম শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সিলিকন অয়েল ও অ্যামোনিয়ার সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এই সংকট তাদের উৎপাদন সচল রাখাই কঠিন করে তুলেছে।
ভারতের মতো জনবহুল দেশে বছরে প্রায় ৪০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদিত হয়, যা পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির এই শিল্পটি কাঁচামাল সংকট, ব্যয় বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক জটিলতার কারণে চাপে রয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কাঁচামালের দামের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি প্যাকেজিং উপকরণের সংকটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিভিসি ও অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়তে পারে, যেখানে কনডমের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি শিল্পটিকে আরও চাপে ফেলছে। সম্প্রতি ভারতের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, জ্বালানি ও শক্তি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে পেট্রোকেমিক্যাল খাতে সম্পদ বরাদ্দ কমানো হতে পারে। এতে করে কনডম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের জোগান আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রভাব শুধু শিল্পখাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কনডম পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ (এসটিআই) প্রতিরোধে সবচেয়ে সহজলভ্য ও কার্যকর উপকরণগুলোর একটি। ফলে এর মূল্য বৃদ্ধি বা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে ব্যবহার কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইতোমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইসহ বড় শহরগুলোর কিছু ফার্মেসিতে এই পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করছেন, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের অভিঘাতে এমন এক বাস্তবতা সামনে আসছে, যেখানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েন সরাসরি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলছে আর সেই প্রভাব কখনো কখনো হয়ে উঠছে অস্বস্তিকর, আবার কিছুটা ব্যঙ্গাত্মকও।