নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের এক অসহায় দিনমজুর পরিবার দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যমজ দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে কোলে নিয়েই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের নেই পর্যাপ্ত আয়, নেই সন্তানদের চলাচলের জন্য হুইলচেয়ার, নেই নিরাপদ বসতঘর। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না বাবা-মা।
জানা গেছে, কায়বা ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর শরিফুজ্জামান মিলন ও তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের যমজ দুই ছেলে সাজেদুল ইসলাম মাহি ও সাকিবুল ইসলাম রাফি জন্মের পর থেকেই গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে। বর্তমানে তাদের বয়স প্রায় ১৭ বছর হলেও তারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না, কথা বলতে পারে না এবং নিজের দৈনন্দিন কাজও নিজেরা করতে সক্ষম নয়।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সন্তানদের গোসল করানো, খাওয়ানো, কাপড় পরিবর্তন, টয়লেটে নেওয়াসহ সব কাজই বাবা-মাকে কোলে তুলে করতে হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই সন্তানের ওজনও বেড়েছে, ফলে তাদের দেখাশোনা করা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী শরিফুজ্জামান মিলন দিনমজুরের কাজ করেন। কাজ থাকলে সংসারে খাবার জোটে, আর কাজ না থাকলে ধার-দেনা কিংবা প্রতিবেশীদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। এমন অবস্থায় দুই সন্তানের চিকিৎসা, পুনর্বাসন কিংবা প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জাম কেনা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, ছোটবেলা থেকেই মাহি ও রাফিকে একই অবস্থায় দেখে আসছেন তারা। এখনও দুই সন্তানকে কোলে করে গোসল করাতে ও টয়লেটে নিতে হয়। তাদের চলাচলের জন্য একটি হুইলচেয়ারও নেই। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় চিকিৎসাও নিয়মিত করানো সম্ভব হয়নি।
মা তাসলিমা আক্তার বলেন, “একজন মা হিসেবে সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, আমার সন্তানরা কোনো দিন আমাকে ‘মা’ বলে ডাকতে পারেনি। অন্যদের সন্তানদের স্কুলে যেতে, খেলতে দেখি। তখন বুকটা ভেঙে যায়। আমার সন্তানদের কষ্ট আমি বুঝি, কিন্তু অর্থের অভাবে কিছুই করতে পারছি না।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সরকার, সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে অন্তত দুটি হুইলচেয়ার, উন্নত চিকিৎসা এবং একটি নিরাপদ বসতঘরের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে যাওয়া পরিবারটির কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “পরিবারটির পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। খুব দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জরাজীর্ণ টালির ঘরে আজও দিন কাটছে শরিফুজ্জামান মিলন ও তাসলিমা আক্তারের। তাদের একটাই প্রত্যাশা—দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, দুটি হুইলচেয়ার এবং মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘর। সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাই পারে তাদের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে।