শিরোনাম :
রামগতি আলেকজান্ডার সড়কের বেহাল অবস্থা! জনদুর্ভোগ চরমে নিউমার্কেটের দোকানে আগুন শিবগঞ্জে শিশুবিয়ে প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে জেলাবাসী জেলার শেষ্ঠ অফিসার নির্বাচত হলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানারওসি মুহাম্মদ আলমগীর বাকেরগঞ্জ থানার দুর্নীতির বরপুত্র এএসআই রেজাউলকে অপসারণ দাবী! সাত মাস বিরতির পর ওমরাহ পালনের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য সেক্টরে ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ জাতি হিসেবে অনন্য!! পুলিশের পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শার্শার বাগআঁচড়ায় বাজার কমিটির জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
গ্রাম-বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস

গ্রাম-বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস

মো.মিজানুর রহমান নাদিম,বরগুনা প্রতিনিধি :

হেমন্তকাল শীতের পাশাপাশি খেজুর রসের স্বাদ আহরণের মাস হলেও এখন আর সে ঐতিহ্য নেই। হেমন্তের আগমনে পদধ্বনি পাওয়া গেলেও নেই গাছীদের খেজুর রস অহরণের তোড়জোর।

এরই মধ্যে ঋতুবৈচিত্রের ধারায় প্রকৃতিতে ফোঁটায় ফোঁটায় শিশির বিন্দু গায়ে জড়িয়ে আসতে শুরু করেছে শীত। তবে এবছরের শীতের সঙ্গে খেজুর রসের ঐকান্তিক সম্পর্ক যেন বিলুপ্তির পথে।

দেশের দক্ষিণ উপকূলের অন্যতম জেলা বরগুনা। এ জেলার আমতলী-তালতলী, পাথরঘাটা, বামনা-বেতাগীসহ বরগুনা সদর উপজেলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খেজুরের রস।

এক সময়ে শীত মৌসুমের শুরুতেই গ্রামগঞ্জের মানুষরা খেজুর গাছ কাটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। খেজুর রসে তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েস ছিল এ অঞ্চলের মানুষের নবান্নের সেরা উপহার।

রস দিয়ে তৈরি করা হতো বাটালি গুড়, ভীড় মিঠাসহ নানা রকমের মজার মজার খাবার সামগ্রী। খেজুর গাছ কাটার সাথে নিয়োজিতদের এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় শিয়ালী অথবা গাছি।

সময় বদলে যাওয়ার সাথে সাথে বদলাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন প্রণালী। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রচলিত সংস্কৃতি। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এখন অপসংস্কৃতির কাছে জিম্মি।

আমাদের সুপ্রচলিত একটি প্রবাদ হচ্ছে, আমরা ভাত-মাছে বাঙ্গালি। এক সময় এটাই ছিল বাঙ্গালী জাতির বড় পরিচয়। সে সময় ছিলো বাংলার নানা ঐতিহ্য, যেগুলো আমাদের গ্রাম বাংলাকে করেছিলো সমৃদ্ধ। কালের বিবর্তনের সাথে সাথে এখন গ্রামবাংলার বহু ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস।

এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিডর, মহসিন, আইলায়,বুলবুলসহ বহু খেজুর গাছ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে খেজুর গাছ ব্যবহার করার কারণেও এ গাছ কমে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের খেজুর রস ও গুড় দুস্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। এক সময় বরগুনা জেলার আমতলী-তালতলী, পাথরঘাটা, বামনা-বেতাগীসহ বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করত গাছিরা। কিন্তু গত ৮-৯ বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চলে খেজুর গাছের সংকট দেখা দেয়ায় রস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনে দিনে খেজুর রস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামগঞ্জের মানুষ। কয়েক বছর আগেও শীত মৌসুমে খেজুর রসের তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েসসহ সুস্বাদু নবান্নের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে উৎসাহ ও আনন্দের মধ্যে নবান্নকে বরণ করত এ অঞ্চলের মানুষরা। এখন আর খেজুর রস না পাওয়ায় নবান্নের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামীণ সমাজের লোকজন। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ শীত মৌসুমে অতিথিদের রসের তৈরি পায়েস দিয়ে আপ্যায়ন করানোর প্রচলন এখন ভুলতে বসেছেন। গাছ কাটার কাজে ব্যস্ত বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের মো. আলতাফ হোসেন জানান, গ্রামে এখন খেজুর গাছ না থাকায় শীতের আনন্দটাই হাড়িয়ে গেছে গ্রাম থেকে। অন্য এক কৃষক সহিদুল ইসলাম বলেন, এখন আমার নিজের খেজুর গাছ না থাকায় পরের গাছ কেটে রস সংগ্রহ করতে হয়। গাছের মালিককে সপ্তাহের ৩ দিন রস দিয়ে বাকি ৪ দিন আমি নিয়ে বাড়িতে বসেই বিক্রি করি,তারপরেও সবার চাহিদা মতন দিতে পারিনা। অনেক বছর ধরে গাছ কাটি,কিন্তু মৌসুমি রসের স্বাদ পেতে গাছ কাটা এখনো ছাড়তে পারিনি।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © bbsnews24 2020
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!