শীতকালীন সবজির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

শীতকালীন সবজির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

 
বিবিএস নিউজ ডেক্স :
শীতকালে বিভিন্ন রকম সবজিতে বাজার সয়লাব হয়ে যায়। এসব সবজি পুষ্টি, স্বাদ ও উপকারিতায় অনন্য। শাকসবজি ভিটামিন, খনিজ, আঁশ, পুষ্টি ও ভেষজ উপাদানে ভরা। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন লোকের প্রত্যহ ২০০ গ্রাম শাকসবজি খাওয়া দরকার। অথচ আমরা খাই মাত্র ৬০-৭০ গ্রাম। পুষ্টির অভাবে সব বয়সি মানুষ বিশেষত নারী ও শিশুরা দৈহিক, মানসিক ও পুষ্টিহীনতায় ভুগে। শতকরা ৭০ জন লােক বিশেষত নারীরা লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত। ভিটামিন এর অভাবে অনেক শিশু অন্ধ হয়, রাতকানা রোগে ভুগে, কেউবা চোখে কম দেখে। প্রায়শই কম বয়সি ছেলেমেয়েরা চোখে চশমা ব্যবহার করে। অথচ শাকসবজি খেতে শিশুদের রয়েছে অনীহা। শাকসবজিতে রয়েছে এসব সমস্যার প্রতিকার । শীতকালীন সবজি ফুলকপি, পাতাকপি, গাজর ও বেগুনের পুষ্টি ও ভেষজগুণ আলােকপাত করা হল।
ফুলকপি : পুষ্টিগুণে ভরা শীতকালীন সবজি ফুলকপিতে আছে প্রচুর ভিটামিন সি। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন সি আছে ৯১ মিলিগাম। যা করলা, সজিনা, ওলকপি, মূলা ও টমেটোর চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া আছে ভিটামিন বি, কে, আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ক্যারােটিন। সুস্থতার জন্য ভিটাসিন সি খুব প্রয়োজন। ফুলকপির ভাজি, তরকারি দারুণ মজার। ফুলকপির সাথে আলু, শিম, মটরশুটির মিশ্রণসহ বিভিন্ন ছোট, বড় মাছ বা শুটকি মাছ দিয়ে রান্না করা তরকারি, সবজি স্বাদে, পুষ্টিতে, গুণে, মানে অনন্য। ফুলকপির তৈরি বড়া, চপ, সিঙ্গারা, পুরি খুব মজাদার।
বাধাকপি : খাদ্যমানের হিসেবে বাঁধাকপি পুষ্টিকর সবজি। এতে প্রচুর ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ, শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন এ, বি ও সি আছে। ভিটামিন এর অভাবে রাতকানা, হজমের সমস্যা, ঘন ঘন অসুস্থতা, শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুর রিকেট, অস্থি ও হাড় গঠন ও নারীর গর্ভের সন্তানের দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এসব সমস্য প্রতিরোধ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাঁধাকপি অনন্য। ভিটামিন এ ও ক্যালসিয়ামের ভাল উৎস বাঁধাকপি। এর তরকারি, ভাজি, অন্যান্য সবজির মিশ্রণে তৈরিকৃত সবজি, তরকারি, বড়া, সালাদ খেতে খুব সুস্বাদু।
গাজর : নজরকাড়া লাল রঙের সবজি গাজরে আছে ক্যারোটিন। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে আছে ১০ হাজার ৫ শত ২০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন। আরাে আছে আমিষ, চর্বি, লৌহ, ভিটামিন বি ও সি এবং ৫৭ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি। পাতায় আছে ক্যারোটিন, আমিষ, শর্করা, ক্যালসিয়াম, চর্বি, লৌহ, ভিটামিন বি ও সি এবং ৭৭ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি। গাজর কাঁচা, রান্না দু’ভাবেই খাওয়া যায়। অন্যান্য সবজির মিশ্রণে রান্না করা তরকারি, সবজি, সালাদ বেশ মজার। গাজর হতে তৈরি হয় হালুয়া, সুপ, চপ, বড়া, পায়েসসহ নানা উপাদেয় খাবার।
গাজর ওষুধিগুণে ভরপুর। গাজরের রস ত্বকে লাগালে রুক্ষ ত্বক সজীব ও সতেজ হয়। গাজরের গুড়া শরীরে মাখলে কালো দাগ দূর হয়। কাঁচা গাজর খেলে কৃমি দূর হয়। এছাড়া প্লীহা বৃদ্ধি রোধ, আমাশয় নিরাময়েও উপকারী।
টমেটো : টমেটো শীত ও গরমকালে পাওয়া যায়। টমেটো ডাল ও যে কোন সবজিতে রান্না করে খাওয়া যায়। এর সালাদ ও ভর্তা মজাদার। প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয় সস, সুপ, জ্যাম, জেলি, কেচাপ, মোরব্বা ঈত্যাদি। এতে আছে ক্যালসিয়াম, লৌহ, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন এ, বি ও সি। টমেটোর লাইকোপেন দেহকোষ হতে বিষাক্ত ফ্রি র্যাডিকেল অপসারণ করে প্রোস্টেট, মূত্রথলি, অন্ননালি ও অগ্নাশয়ের ক্যান্সার এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। হজমে সহায়তা, স্কার্ভি, রিকেটস, ও বেরিবেরি রোগ নিরাময়ে টমেটো কার্যকর। এছাড়া দেহের মেদ কমায়, শক্তি যোগায় ও শরীর সজীব রাখে।
বেগুন : শীত ও গরমকালে পাওয়া যায় বেগুন। এতে আছে আমিষ, শর্করা, ক্যালসিয়াম, চর্বি, লৌহ ও ভিটামিন সি। বেগুন ভাজি, ভর্তা, তরকারি, রমজানের ইফতারে মুড়ির সাথে গরম বেগুনি খেতে খুব মজা । বেগুন দেহের চর্বি কমায়, যকৃতের সমস্যায় কার্যকর ও ডায়াবেটিক রোগীর উত্তম পথ্য।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © bbsnews24 2020
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!