Logo
শিরোনাম :
আশুলিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ আলী মেম্বারের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ ঈশ্বরদীতে রীড একাডেমিক কোচিং সেন্টারের আয়োজনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান উপকূলীয় ক্রীড়াপ্রেমিক কর্তৃক নাইট গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ২য় রাউন্ডের ১ম খেলা সম্পন্ন চিলমারীতে ৩শতাধিক শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষার্থীর অনশন ভঙ্গ করান খুবি উপাচার্য নাইক্ষ্যংছড়িতে দুইটি কালভার্টের মাঝে বন্দী দুইটি গ্রাম চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪২তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন মধুপুরে গরুর দুধের নামে চায়ের দোকানে বিক্রি হচ্ছে ডানো গুড়ো দুধ কেন্দ্রে এজেন্টদের মারপিট ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ ডাঃ শাহাদাতের শার্শায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নাজমুল হাসানের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

চট্রগ্রামে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ৬০ হাজার শিশু

আল আমিন চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে ৫৮ হাজার ৮০৫ শিশু। এসব শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১০ বছর। এদের একটি বড় অংশ শিশু শ্রমের সাথে জড়িত। চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ‘শিশু জরিপে’ এসব তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৯ সালের শিশু জরিপের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী জরিপকৃত শিশুর সংখ্যা ৯ লাখ ৪০ হাজার ৭১৯ জন। এরমধ্যে স্কুলগামী শিশুর সংখ্যা হচ্ছে ৮ লাখ ৮১ হাজার ৯১৪ জন। সে তথ্য অনুযায়ী চটগ্রামে শিক্ষার বাইরে রয়েছে ৫৮ হাজার ৮০৫ জন শিশু।প্রতিবছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা থানা ও উপজেলা ভিত্তিক এই শিশু জরিপ তৈরি করেন। তবে বিভিন্ন এনজিও, ভ্রাম্যমাণ স্কুল ও সামাজিক সংগঠনের সহায়তায় প্রাথমিক শিক্ষা নেয়া শিশু শিক্ষার্থীরা এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সর্বশেষ ২০১৯ সালের মার্চের এই তথ্য। শিশু শিক্ষার বাইরে থাকার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দারিদ্রতা, পুস্তক ভারী শিক্ষা এবং যোগ্য শিক্ষকের অভাবে মূলত শিশুরা শিক্ষার বাইরে থাকছে। শিক্ষার বাইরে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে দারিদ্রতা। নিবৃত্ত শ্রেণির মানুষের মধ্যে যারা গার্মেন্টস এ চাকরি করে, তাদের ছোট সন্তানদের দেখার জন্য বড় সন্তানকে স্কুলে যেতে দেয় না। আমাদের দেশে প্রতিবছর জনসংখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীও বাড়ছে। তাই এরকম শ্রমজীবী মানুষের সন্তান দেখাশুনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, পুস্তক ভারী শিক্ষার কারণেও শিক্ষা থেকে বাইরে থাকছে অনেকে। পাঠ কঠিন হওয়ায় অনেকেই সন্তানকে শিক্ষামুখী করার বিপরীতে শিক্ষাবিমুখ করে। শিক্ষার বাইরে থাকার অরেকটি কারণ হচ্ছে যোগ্য শিক্ষকের অভাব। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সম্পর্কে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, আমাদের দেশের অনেক পরিবার এখনো দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। পারিবারিক অবস্থার করণে এসব পরিবার তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারে না। শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়া বা শিক্ষার বাইরে থাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে শিশুরা স্কুলে
আনন্দ পায় না। শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষক একেবারেই কম। এছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরাও গুরুত্ব দিয়ে পড়াতে চায় না। অন্য চাকরির মত করে চালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকের তুলনায় শিক্ষার্থী অধিক হওয়ায় শিক্ষকও পাঠ দান করে আনন্দ পান না। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হবে। তাহলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত থাকবে।
এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক শিক্ষার চেয়ে পরীক্ষাকে গুরুত্ব দেয়। তাই তারা ক্লাসে উপস্থিত না থেকে কোচিং বা টিউটরের পিছে ছুটে। একটা শ্রেণি পর্যন্ত শিশু শিক্ষার্থীকে পরিবারের সাপোর্ট দিতে হয়। অনেক পরিবার তা পারে না। ফলে তারা শিক্ষা থেকে সরে যায়। এছাড়া, এখন স্কুলগুলোতে শিক্ষার চেয়ে পরীক্ষা হয় বেশি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সূত্র মতে, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিবছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিশু জরিপ শুরু করেন। সরকার কর্তৃক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত এলাকায় শিক্ষকরা এ জরিপ করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম চলে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলে শিক্ষকদের নির্ধারিত এলাকায় মোট স্কুলগামী শিশুর সংখ্যা (ছয় থেকে ১০ বছর) এবং স্কুলে ভর্তিকৃত শিশুর সংখ্যার মাধ্যমে এই জরিপ তৈরি করা হয়। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সরকার শিশুদের স্কুলমুখী করার জন্য বিনামূল্যে বই, উপবৃত্তি দিয়ে আসছে। এছাড়াও আগামী বছর থেকে উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি স্কুল ড্রেসের জন্য অর্থ প্রদান করা হবে। এরপরও কিছু শিশু শিক্ষার বাইরে থাকে। শিক্ষার বাইরে থাকা বা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বের করতে প্রতিটি জেলায় শিশু জরিপ করা হয়। জরিপের তথ্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!