বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৩ জমিদারের কলসকাঠী

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৩ জমিদারের কলসকাঠী

স্টাফ রিপোর্টারঃ
কালের বিবর্তনে এখন সবই ইতিহাস জমিদার নেই, নেই জমিদারিত্ব জমিদারের স্মৃতিচিহ্ন খুঁজে পাওয়া দায় তবে এখনো যে কারণে কলসকাঠী বরিশাল সহ দেশের অনেক স্থানের কাছেই বেশ পরিচিত তা হল এখানকার মৃৎশিল্প। বরিশাল শহর থেকে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরে বাকেরগঞ্জ উপজেলার তুলাতলী নদী পেরিয়ে প্রত্যন্ত কলসকাঠী ইউনিয়ন এই কলসকাঠী বাজারের পাশেই ছোট খালপাড়ে পালপাড়া। এখনকার পালেরা এখন ব্যস্ত মাটির জিনিসপত্র তৈরিতে, বছরের এই সময়টিতে অর্থাৎ পৌষ-মাঘ মাসে পালদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কারণ বছরের অন্য সময় মাঝেমধ্যেই হানা দেয় বৃষ্টি যা এই শিল্পের জন্য বড়ই অন্তরায়। মাটির জিনিসপত্র তৈরির পরে শুকাতে হয় রোদ্রে তাই এই কলসকাঠীর কুমারপাড়ায় এখন প্রায় প্রতিটি ঘরের সাবনেই চলছে মাটির তৈজসপত্র বানানোর কাজ এ যেন মৃৎশিল্পের এক বিশাল কারখানা, ছেলে থেকে পুরুষ, নারী থেকে বুড়ো সবাই ব্যস্ত কাদামাটি কে শিল্পে রূপ দেয়ার কাজে, তবে এই শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ বেশি। খালপাড়ের দুধারের প্রায় শতাধিক পরিবারের ব্যস্ততা হাড়ি, পাতিল, কলস সহ অনন্য তৈজসপত্র বানানের কাজে। শুধু তাই নয় ব্যস্ততা রয়েছে প্রতিমা বানানোর কারিগরদেরও শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় কাদামাটি হয়ে উঠে আরাধনার পাত্র। প্রতিমা এবং মাটির তৈজসপত্র বানানোর মাটি নিয়ে আসা হয় লেবুখালী থেকে, কারণ সব মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা যায় না অর্থাৎ সব মাটি দিয়ে তৈজসপত্র তৈরি করা যায় না। এজন্য প্রয়োজন নদীর পাড়ের এটেল মাটি দূরদূরান্ত থেকে এই মাটি এনে প্রস্তুত করতে হয় বাসন-কোসন বানানোর কাজের জন্য। এরপরে চাকে ও মেশিনে কাজ করতে হয়, যদিও আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে এখনো অনেকই কিনতে পারিনি ইঞ্জিন চালিত মেশিন হাতে চাকা ঘুরিয়ে এখনো বানাতে হয় তাদের মাটির তৈজসপত্র। মাটির বাসন কোসন বানানের পরে শুকাতে হয় রোদ্রে তারপরে রং দিয়ে পোড়াতে হয় পূইনএর আগুনে। এ রং সাধারন রং নয় বানাতে হয় নিজেদের এক বিশেষ উপায় সব রং দিয়ে রাঙানো যায় না মাটির বানানো তৈজসপত্র, বিশেষ এই রং তৈরিতে রয়েছে নানা ঝুঁকি। কলসকাঠী পালপাড়ার ইতিহাস শত শত বছরের পুরনো, এক সময় অনেক পাইকার আসত এই কলসকাঠী পালপাড়ায় কালের বিবর্তনে এখন আর শতশত পাইকার আসেনা এখানটায় আগের মত আয় রোজগার হচ্ছে না এদের যে হারে বেড়েছে তৈজসপত্র বানানোর কাঁচামালের দাম, সেই তুলনায় তারা বিক্রি মুনাফাপাচ্ছেনা, অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন এই পেশা অনেকেই আবার ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন এই শত বছরের পুরনো পেশাকে। বরিশাল জেলার ১৩ জমিদারের এই কলসকাঠী কুমোর পাড়ার মৃত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরকারের কাছে মৃৎশিল্পীদের দাবি তাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা করে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার মধ্য দিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে আয় করা যেতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা। আর এর মধ্য দিয়ে কারিগরেরা ফিরে পেতে পারে আর্থিক সচ্ছলতা এমনটাই দাবি কলসকাঠী কুমোর পাড়া বাসিন্দাদের।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © bbsnews24 2020
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!