সোলেমানির জানাজায় পদদলিত হয়ে ৩৫ জন নিহত

সোলেমানির জানাজায় পদদলিত হয়ে ৩৫ জন নিহত

বিবিএস আন্তজার্তিক ডেস্কঃ
মার্কিন বাহিনীর হামলায় নিহত ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল কাসেম সোলেমানির জানাজায় পদদলিত হয়ে অন্তত ৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৪৮ জন।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে সোলেমানির জন্মস্থান দেশটির কেরমান প্রদেশের রাজধানী কেরমানে তার মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানেই তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে লাখো মানুষের ঢল নামে। এখানেই পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

ইরানের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসের প্রধান পির হোসেইন কৌলিভান্দ বলেন, সোলেমানির জানাজায় পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেকেই হতাহত হয়েছেন।

তবে কতজন হতাহত হয়েছেন, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি তিনি।

এর আগে সোমবার (৬ জানুয়ারি) তার মরদেহ তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হলে তাকে শেষ বিদায় জানাতে সমবেত হয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ। এসময় তাদের অনেকের হাতে ছিল ইরানি পতাকা ও সোলেমানির ছবি। জেনারেল সোলেমানির জানাজায় ইমামতি করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। কাঁদতে কাঁদতে জানাজার নামাজ পড়েন তিনি। সমবেত জনতার কেউই চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি সেদিন।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দিনগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেমানিকে হত্যা করা হয়।

মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৬২ বছর। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মেছিলেন তিনি। পরিবারকে সাহায্য করার জন্য মাত্র ১৩ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন তিনি। আর অবসর সময়ে যোগ দিতেন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে।

১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় ইরানের সামরিক বাহিনীতে কাজের মাধ্যমে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে শুরু করেন সোলেমানি। ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরাকি সীমান্তের কাছে একটি মিশনের নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় বীর হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি।

তার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ যেন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে! ইতোমধ্যে সোলেমানি হত্যাকাণ্ডের ‘কঠোর প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন খামেনি। প্রতিশোধ নেওয়ার পণ করেছেন ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহর প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহও। অন্যদিকে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ইরানের ওপর আরও হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © bbsnews24 2020
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!