Logo
শিরোনাম :
ব্যবসায়ী রফিক মুন্সির ব্যবসায় অবনতি, মাথায় হাত জবি উপাচার্যের সাথে সমকাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের সৌজন্য সাক্ষাৎ আশাশুনিতে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইউএনও’র ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায় পোরশায় উপনির্বাচনে নব নির্বাচিত দুই ওয়ার্ড সদস্যের শপথ গ্রহন উখিয়াতে ঝুকিপূর্ণ বাজার ব্যবস্থাপনাঃদেখা নেই অগ্নিনিবার্পক যন্ত্র পিতৃ হন্তারক ঢাকা থেকে গ্রেফতার বাণিজ্য সহজীকরনে বেনাপোল বন্দরে যৌথ এন্ট্রি শাখার উদ্বোধন শার্শা সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থায় ভোরের চেতনা পত্রিকার আলোচনা সভা কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনের কাউন্সিল সম্মেলন ফুলবাড়ীতে পৌর নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়-ঝাপ

বাকেরগঞ্জ থানা’র ওসি’র ঘুষ, দুর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর নালিশি অভিযোগ

============================
স্টাফ রিপোর্টারঃ বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার ওসি’র ঘুষ, দুর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর নালিশি অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। নালিশি অভিযোগে বলা হয়েছে বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম অত্র থানায় যোগদানের শুরু থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত ঘুষ, দুর্নীতি, লুট-পাট, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানান অনিয়মের মধ্য দিয়ে ইত্যেমধ্যে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যোগদানের শুরুটা ছিল অপরাধীকে ধরপাকর, মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সহিত জড়িতদের ধাওয়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। এর পরপরই শুরু হয় তার বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও ঘুষবাণিজ্য। কোন সাধারণ মানুষ তার সামনে এসে কথা বলার সুযোগ পায়না তার বিকৃত মনোভাবের কাছে। কেউ কোন অভিযোগ-সাধারণ ডায়েরী করতে থানায় আসলে প্রথমে ডিউটি অফিসারের কাছে পাঠায়, পরবর্তীতে দেখা যায় জিডি করতে লাগে নুন্যতম ১০০০ (এক হাজার) টাকা, অভিযোগের তদন্ত করতে লাগে ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা এছাড়াও সালিশীর মাধ্যমে মিমাংসাযোগ্য বিষয়গুলি উভয়পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে থানায় এনে সমাধান দিতে লাগে ৫০০০ (পাঁচ হাজার) করে ১০০০০(দশ হাজার) টাকা। মামলা রেকর্ড করাতে হলে লাগে সর্বনিম্ন ১০০০০ (দশ হাজার) টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা যাই হোক অভিযুক্তদের ধরপাকর সৃষ্টি করেই তাদেরকে দিয়ে পুনরায় আরেকটি কাউন্টার মামলা রেকর্ড করায়। এরকম ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে। ক্ষমতাধর ঘুষখোর এই ওসির সঙ্গে রয়েছে জামায়াত-শিবির পন্থী একাধিক দালালদের ওঠা-বসা। যা ওসি আর তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রথমে তাদেরকে ধরপাকর সৃষ্টি করে পরবর্তীতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে রাতের আধারে যোগসাজেসের মাধ্যমে থানা বেষ্টনীতে ঘুরাফেরার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ায় প্রকাশ্যে তারা একাধিক মামলার আসামী হয়েও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ কলসকাঠী বাজারে ঘটে গেলে তামিল স্টাইলের ডাকাতি। নদী পথে এসে প্রায় ২ ঘন্টা ধরে ডাকাতি করা হয়। ভুক্তভোগীরা বলেন, ডাকাতি চলাকালীন সময়ে থানা পুলিশকে বারবার ফোন করা হলেও তারা ঘটনা স্থানে সময়মত আসতে পারেনি। অথচ বাকেরগঞ্জ থেকে কলসকাঠীতে স্থলপথে আসতে মাত্র ৩০ মিনিট সময় লাগে। ডাকাতরা বাজারের জুয়েলারিগুলো থেকে প্রায় কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা নিয়ে নদী পথেই চলে যায়। বাজারে থাকা বিভিন্ন সিসি ফুটেজে ডাকাতদের ছবি ধারন করা থাকলেও অভিযোগ দায়ের পর দুই একজনকে ধরপাকর করে ধরলেও প্রকৃত ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার না করতে পারার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের বদলির ব্যাপারেও রয়েছে এই ওসির হাত। এ ছাড়াও নিয়ামতি ইউনিয়নের বড় পুইউয়াটা গ্রামে রাজ্জাক কারিকরে ছেলে কলেজ ছাত্র সজিব কারিকর প্রকাশ্য দিবালকে খুন হয়। খুনের সময় ভিডিও ধারণকারীকে গ্রেফতার করে ভিডিও উদ্ধারের দাবি জানিয়ে মানব বন্ধনসহ বিক্ষোভ মিছিল করে মামলার বাদি ও এলাকাবাসী। ভিডিও ফুটেজের ব্যাপারে ওসি আবুল কালাম জানান, ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হলে মামলার বাদি ও মামলার ক্ষতি হবে। মামলার বাদির ক্ষতি হলে আসামি হলো কারা? কারাই বা সজিবকে খুন করলো? এ নিয়ে এলাকাবাসী মধ্যে তীব্র ক্ষোভসহ নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তথ্য সুত্রে জানা যায়, উপজেলাধীন প্রত্যেকটি ইট ভাটা ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে অনিয়ম তান্ত্রিক হারে চাঁদা আদায় করেছে সে।

ওসি আবুল কালামের অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলে সেই সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে দোলনার মত ঝুলিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছেন। ওসির ক্ষমতার দাপটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীসহ ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও। বর্তমান মহাজোট সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে পুলিশ জনগনের সেবা নিশ্চিত করতে পারবেনা তার থানায় থাকার দরকার নেই। এসব কথার কোন মূল্যই নেই ক্ষমতাধর ঘুষখোর এই ওসির কাছে। অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন “পুলিশ জনগনের বন্ধু” জনগনের জান ও মাল হেফাজত করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আর এই মহান দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে পুলিশী ক্ষমতা প্রয়োগ করে শুধুই অর্থ বাণিজ্যের ধান্দায় মেতে উঠেছে এই ওসি। এহেন একাধিক অনৈতিক কর্মকান্ডের হাত থেকে অনতিবিলম্বে নিষ্কৃতি পেতে চায় বাকেরগঞ্জবাসী। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ গোপন তদন্তের ভিত্তিতে ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পুলিশী নির্যাতন ও হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাবে বাকেরগঞ্জবাসী এমন প্রত্যাশা সুশীল সমাজসহ সর্বশ্রেণীর মানুষের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!