Logo
শিরোনাম :
ফুলবাড়ীতে পৌর নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়-ঝাপ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেল সহ ২ চোরকে আটক করেছে র্র্যাব জেলা প্রশাসকে ই-নথি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত শরীয়তপুরে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যানেট ইয়েলেনকে অর্থমন্ত্রী করা হচ্ছে বদরগঞ্জে জামায়াতের আমীরসহ চারজন গ্রেফতার কক্সবাজারের বিশিষ্ট পরিবহন শ্রমিক নেতা বাদশার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন নিউজের তীব্র প্রতিবাদ গনমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সামনে কঠিন বিপদের আশংকা: ফরিদুল মোস্তফা খান আশাশুনিতে অফিস উদ্বোধন ও আলোচনা সভা আশাশুনিতে বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা আশাশুনিতে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

শাহিন হাওলাদার / স্টাফ রিপোর্টার /বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগী ভর্তিতে ১১টার পরিবর্তে ৩০-৫০ টাকা রাখার ঘটনা অনেক পূর্বে থেকেই আলোচিত। তবে পূর্বের সেই আলোচনাকে বাড়ে ফেলেছেন এক আরআরএফ পুলিশ সদস্য।

তিনি ৫০ বা ১০০ টাকা নয়, একজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য হাতিয়ে নিয়েছেন ৬ হাজার টাকা। তাও আবার খোদ হাসপাতালের উপ-পরিচালকের রোগীর কাছ থেকে।

কিন্তু টাকা হাতিয়ে নিয়ে শেষ রক্ষা করতে পারেননি পুলিশের ওই প্রতারক সদস্য। সর্বশেষ বিনা মূল্যের ওষুধের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং অপারেশনের জন্য ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা কালে ধরা পড়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার শেবাচিম হাসপাতালের উপ-পরিচালকের হস্তক্ষেপে শামীম হোসেন নামের ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হলেও স্বজনপ্রীতি করে তাকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের হাতে আটকের পরে মুক্তি পাওয়া প্রতারক শামীম হোসেন ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার উত্তমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বরিশাল আরআরএফ পুলিশের সদস্য।

প্রতারণার শিকার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট থানাধীন সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেনের স্ত্রী রাখি খানম (২৪) জানান, গত ৭ জানুয়ারি পিত্তে পাথর জনিত সমস্যা নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হতে আসেন। একটু সুযোগ সুবিধার আশায় পূর্ব পরিচিত আরআরএফ পুলিশ সদস্য শামীমকে হাসপাতালে ডেকে আনেন।

রাখি জানান, ‘শামীম পুলিশ সদস্য এবং সরকারি লোক হওয়ায় কম খরচে এবং সল্প সময়ের মধ্যে চিকিৎসা করানোর প্রতিশ্রতি দেন। এজন্য তিনি ভর্তির রেজিষ্ট্রারে রাখির স্বামীর নাম এবং ঠিকার পরিবর্তে শামীমের নাম-ঠিকানা লেখান। ওই পরিচয়ে জরুরী বিভাগ থেকে ভর্তির সময় বিনামূল্যের টিকেট গ্রহন করেন পুলিশ সদস্য শামীম।

কিন্তু ভর্তিসহ আনুসাঙ্গীক খরচের জন্য ওই রোগীর কাছ থেকে আদায় করে নেন ৬ হাজার টাকা। পরবর্তীতে হাসপাতালে প্যাথালজী এবং রেডিওলজীতে রাখির বিনামূল্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা করান শামীম। বিনিময়ে আদায় করে নেন আড়াই হাজার টাকা।

সর্বশেষ দ্রুত অপারেশন এবং ওষুধ ক্রয়ের জন্য পৃথকভাবে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন পুলিশ পরিচয়ের আড়ালে প্রতারক শামীম। এর মধ্যে অপারেশনের জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে অপারেশনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রতারনার বিষয়টি আচ করতে পারেন। পরে রোগীর গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী শেবাচিম হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ইউনুস’র এর স্মরণাপন্ন হন তারা। এর পর পরই ধরা পড়ে যান পুলিশ পরিচয়ে দালাল শামীম হোসেন।

হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, প্রতারক শামীমকে আটক করে থানায় প্রেরণের জন্য হাসপাতালে কর্মরত এসআই নাজমুলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নাজমুল তাকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গার্ড রুমে আটকে রাখেন তাকে। কিন্তু পরে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

যদিও এসআই নাজমুল জানিয়েছেন, ঘটনাটি সমাধাণ করা হয়েছে। পরীক্ষাবাদ যে টাকাটা পুলিশের ওই সদস্য নিয়েছেন সেটা ফের দেয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!