Logo
শিরোনাম :
গরু ব্যবসায়ীর সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে মাইক্রোবাস চাপা দিয়ে হত্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ! শিক্ষার্থীরা ঘরের বাইরে-বইয়ের বাইরে সীমান্তে পুলিশ ও বিজিবির পোশাকে স্বর্ণ,মাদক চোরাচালানি পণ্য আটকের অভিযোগ উঠেছে ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর নেই পঞ্চগড়ে বিজিবির হাতে ৭ পিস BR, ১৬ পিস ইয়াবা,২০ গ্রাম গাঁজা সহ একটি বাইসাইকেল জব্দ করা হয় বান্দরবানের লামায় পাহাড়ের খাদে লরি ট্রাক চারজন স্বপ্নবাজ তরুণের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প সাতক্ষীরায় পরকীয়ার জরিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নিজস্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা। পঞ্চগড়ে ফুটবল একাডেমীর ৫ জন প্রমিলা ফুটবলারের প্রিমিয়ার লীগে খেলার সুযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পুলিশ সদস্য পরিচয়ে টাকা ছিনতাই

বাকেরগঞ্জে খাল দখলে ভূমিদস্যুদের বাঁধ নির্মাণ, পণ্য পরিবহনে ব্যবসয়ীদের ভোগান্তি

শাহিন হাওলাদার,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাকেরগঞ্জ সুন্দরকাঠি গ্রামের ভাড়ানি খালে বাঁধ নির্মাণ করছে ভূমিদস্যুদ। যাতে ভোগান্তিতে পড়ছে নলুয়া, ফরিদপুর, দুধল ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, কলসকাঠী, কালীগঞ্জ, বোয়ালীয়াসহ কয়েকটি হাট ও বাজারে যেতে এই ভাড়ানি খাল ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু খালে বাঁধ নির্মাণ করায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথ দিয়ে ওইসব বাজারে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে পাশাপাশি খরচও গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ। খাল তীরবর্তী কয়েকটি পরিবারের দাবি অতিরিক্ত স্রোতে দুই পাশের ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় তারা খালে বাঁধ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার সুন্দরকাঠি গ্রামের ভাড়ানি খালের সুন্দরকাঠি বাজারসংলগ্ন স্থানে স্থানীয় বিএনপি নেতা জহির মোল্লা ও জাহাঙ্গীর মোল্লা স্থায়ীভাবে দুইদিক দিয়ে ১শ’ ফুট জায়গা ধরে বড় বড় গাছের খুঁটি পুঁতে বালুর বস্তা ও কনক্রিট ফেলে বাঁধ নির্মাণ করছে। সুবিধাভোগী ও প্রভাবশালী পরিবারগুলো বলছে, ভাড়ানি খালের খাঁড়া স্রোতে খালের দুই পাশ ভেঙে যাচ্ছে, যার কারণে এ খালটি তারা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। যার ফলে দুই মাস ধরে খালে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, বিএনপি নেতা জহির মোল্লার নির্দেশে ঘরপ্রতি এক থেকে দুই হাজার করে টাকা তুলে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়াও সুন্দরকাঠী বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকানপ্রতি ৫শ’ থেকে এক হাজার টাকা করে তুলছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে ফরিদপুর ইউনিয়নের একাধিক ব্যবসায়ী বলেছেন, খালের দুই তীরে কিছু পরিবারে জমি ভেঙে যাওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ খালে বাঁধ দেয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। আর এ খালে বাঁধ দেয়ায় ইট ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। ভাড়ানি খালের একদিকে রয়েছে পাণ্ডব নদী আর অন্যদিকে আছে রাঙ্গাবালী নদী।

যার দুই পাশে আছে শতাধিক ইটভাটা। ইটভাটার ইট দু’দিকে আনা-নেয়ার জন্য এ খালটি একমাত্র নৌপথ হিসেবে ব্যবহার করছে ইট ব্যবসায়ীরা। খালটি বন্ধ করে দেয়ায় ইট বিক্রয় কমে গেছে বলে জানান একাধিক ইট ব্যবসায়ী। দুধাল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোর্শেদ খান উজ্জল জানান, ‘ভাড়ানি খালে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলায় বেইলি ব্রিজটি অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যা খালের স্রোতে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এটা রক্ষা করা ও স্থানীয়দের জমি ভেঙে যাওয়ায় অস্থায়ীভাবে একটি বাঁধ নির্মাণ করছে স্থানীয়রা। তবে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ হলে বাঁধটি কেটে দেবে।’ তিনি আরও জানান, খাল দিয়ে তার ইউনিয়ন পরিষদের মালামাল নিতে ও আনতে সুবিধা হতো। এখন বিকল্প পথ দিয়ে মালামাল আনতে হয়। তাতে খরচ ও ঝামেলা দুটিই বেড়েছে।’ সরকারি খালে বাঁধ দেয়া যায় কিনা এ প্রশ্নে তিনি বলেন, খালে বাঁধ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা আইনসম্মত না।’ তবে একটি সূত্র বলছে, বাঁধ নির্মাণ করার দু’মাসের মধ্যে খালে স্রোত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় খালের তলদেশে পলিমাটি জমে সাত থেকে আট ফুট নাব্য কমে গেছে।

সূত্র বলেছে, দুই মাসেই যদি ৭ থেকে ৮ ফুট নাব্যতা কমে যায়। তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে খাল ভরাট হয়ে যাবে। এখনি এর একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। ওই সূত্র আরও জানান, একটি চক্র খালের জায়গা দখল নিতে খালে বাঁধ নির্মাণ করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয়রা জানান, মোল্লা বাড়ির লোকজন খালটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার উদ্দেশে বাঁধ নির্মাণ করছে। তবে ওই পরিবারের দাবি, এলাকার সবার সিদ্ধান্তে খালে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশ আছে, প্রবহমান কোনো খালে বাঁধ বা ভরাট করা যাবে না। আমিও শুনেছি ওই খালে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে খালের প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত বাঁধ কাটার ব্যবস্থ গ্রহণ করব।’

বরিশাল পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক আবদুল হালিম বলছেন, প্রবাহমান কোনো খাল বা নদীতে বাঁধ দেয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। আর এ বিষয়ে আমরা অবগত নই, আপনার মাধ্যমে জেনেছি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান বলেন, খালে স্থায়ী বাঁধ দেয়া যাবে না। এটা বেআইনি, আমরা ব্যবস্থা নেব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!