যশোরের কেশবপুর থেকে হাসানপুর হয়ে সাগরদাঁড়ী পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘ দিন যাবত অবহেলিত রয়েছে

যশোরের কেশবপুর থেকে হাসানপুর হয়ে সাগরদাঁড়ী পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘ দিন যাবত অবহেলিত রয়েছে

বিবিএস নিউজ ডেস্কঃ
যশোরের কেশবপুর থেকে হাসানপুর হয়ে সাগরদাঁড়ী পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘ দিন যাবত অবহেলিত রয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে থাকা এই সড়কটি লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র জরুরী ও গুরুত্বপুর্ণ মাধ্যম হলেও অবৈধ ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল ও দীর্ঘদিন যাবত সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় শত-শত গর্তের। যে কারণে এই গুরুত্বপুর্ণ সড়কটি হয়ে পড়েছে চলাচলের অযোগ্য।

এই সড়কটি দিয়ে শুধুু কেশবপুর উপজেলার মানুষ নয় পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার তালা ও কলারোয়া উপজেলার অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। কেশবপুর থেকে সাগরদাঁড়ী পর্যন্ত ১২ কিঃ মিঃ এর মধ্যে প্রায় ৮কিঃ মিঃ সড়ক ভেঙ্গেচুরে ছোট-ছোট নালায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে, সাগরদাঁড়ীতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৬ তম জন্ম জয়ন্তি উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কবির জন্মভূমি সাগরদাঁড়ীতে ২২ জানুয়ারী থেকে শুরু হবে মধুমেলা। ২৫ জানুয়ারী জন্মদিবস হলেও এস এস সি পরীক্ষার কারনে জন্ম জয়ন্তি উৎসব ২২ জানুয়ারী থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৮ জানুযারী পর্যন্ত। সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধিনে অনুষ্ঠিত হবে এ মেলা।

কিন্তু নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে কেশবপুর থেকে সাগরদাঁড়ী যাতায়াতের এই সড়কটিতে। বড়-বড় গর্ত আর খানা খন্দে প্রতি নিয়ত বাস-ট্রাক-পিকআপ-মাইক্রো বেঁধে থাকা যেন রুটিনে পরিনত হয়েছে। একই সাথে সড়কটিতে থাকা অধিকাংশ ব্রীজ কাল ভার্ট ভেঙ্গে গেছে। মধুমেলার আগে এগুলো সংস্কার বা নতুন ভাবে নির্মান করা না হলে এ সড়ক দিয়ে মধুভক্তদের যানবাহনে যাতায়াত করা রিতিমত অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।

মধুকবির স্মরনে প্রতিবছর মেলার আগে সড়কটির সংস্কার হয়ে থাকে। এবছরও হয়ত তার ব্যত্যয় ঘটবেনা। সাগরদাঁড়ীর মধু মেলায় এ সড়ক দিয়ে লক্ষ-লক্ষ মানুষের যাতায়াত হয়ে থাকে। এসড়কে সারা বছর চলাচলকারী মাষ্টার আলী আজগার, মাষ্টার হযরত আলী, সার ব্যবসায়ী রিজাউল ইসলাম ও ব্যবসায়ী তৌহিদুর রহমান জানান, সড়কটিতে চলতে অসংখ্য গর্তের কারনে নাগর দোলার ঝাকুনির মত আতংকে থাকতে হয়। সারাবছর সড়কটির প্রতি কর্তৃপক্ষ নজর দেননা। মাঝে মধ্যে সিটে ফোটা যে সংস্কার হয়ে থাকে তাতে সড়কের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপকারী হতে সক্ষম হলেও বাস্তবে জন দূর্ভোগের থেকে মুক্তি মিলছেনা। মধুমেলা আসলেই তড়িঘড়ি করে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। মেলা শেষ হলে কাজবন্ধ থাকে। কয়েক মাস পর আবার শুরু করে যেন তেন ভাবে ব্যপক অনিয়ম দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে কাজ শেষ করা হয়। যেকারনে এক বছর যেতে না যেতেই সড়কের পীচ খোয়া উঠে যেতে থাকে। ফলে সরকারের অর্থের অপচয়টা বেশী হয়ে থাকে।

কেশবপুর কলেজের শিক্ষার্থী সাথি খাতুন ও তন্নি খাতুন জানান, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। ভাঙ্গা রাস্তায় ধুলা বালিতে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়, অনেকের সর্দি, কাশি ও বিভিন্ন রোগে ভুগতে হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান এ সড়কের দু পাশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থীরা।

এব্যাপারে আলাপ হলে উপজেলা এলজিইডি অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মুনছুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য অনুমোদন হয়েছে। ইষ্টিমেট তৈরি করার কাজ চলছে। ইষ্টিমেট অনুমোদন হলে টেন্ডারের পর কাজ শুরু করে।

তিনি বলেন, বড় বড় গর্ত গুলোতে পিচ দেয়া না গেলেও আমরা খোয়া দিয়ে ঠিক করে মধুমেলার আগেই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে। ওয়ান নিউজ যশোর

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © bbsnews24 2020
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!