শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিনে সাভারে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ সাতক্ষীরায় ১০টি স্বর্ণের বারসহ বৈকারী সীমান্তে এক যুবক আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুজনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় আধুনিকায়ন উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন সচিব বেনাপোলে ১৩ পিস স্বর্ণের বারসহ এক মহিলা পাচারকারী আটক লক্ষ্মীপুরে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার হরিরামপুরে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ইয়াবা সহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ঝিকরগাছার নাভারণে ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ ঘুমধুমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাণীহাটি গুচ্ছগ্রামে নেই নিরাপত্তা : সন্ধ্যা হলেই ভূতুড়ে পরিবেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাণীহাটি গুচ্ছগ্রামে নেই নিরাপত্তা : সন্ধ্যা হলেই ভূতুড়ে পরিবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত গুচ্ছগ্রাম। শিবগঞ্জ উপজেলার রাণীহাটি ইউনিয়নে বিশাল এলাকায় গড়ে উঠেছে এ গুচ্ছগ্রাম। অসহায় গরীবদের জন্য তৈরি এ গুচ্ছগ্রাম কে ঘিরে নানা রকম অনিয়ম আর অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সরেজমিনে গেলে গ্রামের মানুষদের সাথে কথা বলে পাওয়া গেছে নানারকম অসঙ্গতি।

গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্ত নাজমা বেগম জানান, জমিজমা না থাকায় আবেদনের মাধ্যমে গত ২ মাস আগে রাণীহাটি গুচ্ছগ্রামে উঠেছি। একটি সন্তান ও মাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। এনজিও থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নিজ ঘর সংলগ্ন একটি ছোট দোকান দিয়েছি। সামান্য বেচা-কেনা হয়। সেখান থেকে যা লাভ হয় তা দিয়ে সংসার চালায়। তবু আছি আতঙ্কের মধ্যে। কারণ প্রায় প্রতি রাতে মাদকসেবিরা বাড়ির ভিতর ঢুকে ফেনসিডিল, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন ধরনের নেশা করে। মাতাল অবস্থায় দোকনের সিগারেট নিয়ে টাকা দেয় না। আবার বলে যে আমাদের ট্যাক্স না দিলে এখানে থাকতে দিব না।

আরেকজন বাসিন্দা মুনিরুল ইসলাম বলেন, জমিজমা না থাকায় শুধু কামলা খেটে কোন রকমে সংসার চললেও জমি কিনতে না পারায় এক বছর আগে আবেদনের ভিত্তিতে কিছুদিন আগে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পেয়েছি। ভেবেছিলাম এখানে নিরাপদে থাকবো। কিন্তু আমাদের কোন নিরাপত্তা নেই। এখানকার প্রায় ৬০০ নারী পুরুষের একই অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, এখানে কোন রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ নেই, স্কুল নেই, নেই মসজিদ ও নেই মন্দির। এখানে মুক্তিযোদ্ধারা এক সময় এক ঘর নির্মাণ করেছিল যা বর্তমানে দুর্গন্ধে ভরা। ঘরটির পাশ দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। এ ঘরটিতে ময়লা ও ফেনসিডিলের বোতলের স্তুপ জমে রয়েছে। তারা আরো বলেন নিরাপত্তার জন্য গুচ্ছগ্রামের চারিদিকে সীমানা দেয়াল দেয়া অত্যন্ত জরুরী।

গুচ্ছ গ্রামের ঘরগুলো নির্মান করা হলেও পারিবারিক ভিত্তিক ঘেরা নেই। যে টয়লেটগুলো নির্মাণ করা হয়ে সে গুলো এখনি নষ্ট হতে চলেছে। টিউবওয়ের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় পানি রাখা পাত্রগুলো লাল হয়ে গেছে। পরিবার গুলো বাস করার জন্য শুধু প্লাষ্টিকের ছালা দিয়ে চারিদিক ঘিরে রেখেছে।

অনেক পরিবারের টিউবয়েল নেই। কোন মসজিদ না থাকায় নামাজ পড়ার জন্য ঝুঁকি বহন করে অনেক দূরে যেতে হচ্ছে। সড়ক দূর্ঘটনার ভয়ে অনেক শিশু স্কুল দূরে হবার কারণে স্কুল যাওয়া বন্ধ করেছে। কেউ কেউ নিজ সন্তানকে স্কুলে রেখে আসে আবার ছুটি হলে নিয়ে আসে। গুচ্ছ গ্রামের এলাকাটি এখনো খানাখন্দে ভরা।

আফসার আলি, সোনার্দ্দি, মনিরুল, রাসেদা বেগম, নরেসা বেগম ও নুরেফা বেগমসহ ৬১টি মুসলিম পরিবারের প্রায় ৪০০ মানুষের দাবী নিরাপত্তার জন্য সীমানা প্রাচীর, মসজিদ, রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানির সু-ব্যবস্থা ও মাদক মুক্ত পরিবেশের ব্যবস্থা করা হোক।

অন্যদিকে শ্রী মতি শাপলা রানী রবিদাস,শ্রী কনক রানী রবিদাস, প্রতিবন্ধী গিরুদাস রবিদাস, শ্রী শুকচান সহ এ গুচ্ছগ্রামে ২৯টি রবিদাস সম্প্রদায়ের হিন্দু পরিবারের প্রায় ২০০ মানুষ রয়েছে। তাদের দাবি সমস্যগুলির সমাধানের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রার্থনা করার জন্য একটি মন্দিরের ব্যবস্থা করা জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। এছাড়া এখানে কয়েকজন প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক রয়েছে তাদের পূণর্বাসনের জন্য সমাজ সেবা অফিসের দৃষ্টি কামনা করেছে তারা।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুল আলম শাহ বলেন, খুব শীঘ্রই গুচ্ছ গ্রামের মাদক সহ বিভিন্ন ধরনের উপদ্রব কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, গুচ্ছগ্রামের প্রায় সবগুলো ঘর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ৯০টি অসহায় পরিবারকে দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। আরো ৪০টি অসহায় পরিবারকে দলিল হস্তান্তরের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিটি ঘর-বাড়ি নির্মাণে দেড় লাখ টাকা করে খরচ হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আখতার বলেন যেহেতু কোন লিখিত অভিযোগ নেই, সেহেতু সব ঠিক আছে। তবুও মনিটরিং চলছে।

শিবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক রাণীহাটি গুচ্ছগ্রামের বসবাসী কারী বিভিন্ন ধর্মের সকল মানুষের সবধরণের নিরাপত্তা, সীমানা প্রাচীর, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শিশুদের পড়াশুনার ব্যবস্থা, মসজিদ ও মন্দিরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © bbsnews24 2020
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!