Logo

ভারতের হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় অবস্থিত একটি পৌরশহর ডালহৌসি

বিবিএস আন্তজার্তিক ডেস্কঃ
ভ্রমণের জন্যে মানুষ সাধারণত শীতকালকেই বেছে নেয়। বছরের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ছুটি পাওয়া ই আর এর একটা অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়াও শীতে প্রকৃতি এক অনন্য রূপে সেজে থাকে। তবে, সে যাই হোক, বাঙ্গালিদের কাছে শীতের একটা আক্ষেপ হয়ে থাকে তুষারপাতের অভাব, আমাদের দেশে বরফ পড়ার মতো ঠাণ্ডা পরে না। আর তাই অনেক ভ্রমণপ্রেমীরা এই আক্ষেপ কাটিয়ে উঠতে শীতে ভারত থেকে ঘুরে আসে। শুভ্র বরফে স্নিগ্ধ হয়ে ফিরে আসে এক বিশেষ মুহূর্ত নিয়ে। ট্র্যাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের জন্যে শীতকালে ভ্রমণের জন্যে ভারতের সেরা একটি স্থান নিয়েই আজকের আয়োজন।

ভারতের হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় অবস্থিত একটি পৌরশহর ডালহৌসি, যাকে ভারতের সুইজারল্যান্ড ও বলা হয়ে থাকে।  ভারতীয় উপমহাদেশের তৎকালীন গভর্নর লর্ড ডালহৌসির নামাঙ্কিত হিমাচল প্রদেশের কোলে ছোট ছোট টিনসেল একটি মনোরম শৈলশহর ডালহৌসি। ১৮৫৪ সালে সেনাবাহিনী ও সরকারি পদাধিকারিকদের গ্রীষ্মাবকাশ যাপনের জন্য ব্রিটিশ সরকার এই শহরের পত্তন ঘটান।

শহরটি পাঁচটি শৈলশিখর নিয়ে গঠিত। হিমালয়ের ধৌলাধর পর্বতশ্রেণির পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এই শহর চতুর্দিকে মনোরম তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত। শহরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬,০০০-৯,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। মে থেকে সেপ্টেম্বর এই শহরে পর্যটনের সময়। স্কটিশ ও ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যের বাংলো ও গির্জা এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ।

ডালহৌসি প্রাচীন চাম্বা পার্বত্য রাজ্যের (বর্তমানে হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের চাম্বা জেলা) প্রবেশপথ। খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে এক সুপ্রাচীন রাজবংশের শাসনাধীন এই রাজ্য হিন্দু সংস্কৃতি, শিল্পকলা, মন্দির ও হস্তশিল্পের কেন্দ্র। চাম্বা এই সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল। এই রাজ্যের প্রাচীন রাজধানী ভরমৌর গদ্দি ও গুজ্জর উপজাতির বাসভূমি। খ্রিষ্টীয় সপ্তম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত একাধিক মন্দির এই শহরের দ্রষ্টব্য।

ডালহৌসি সমস্ত ভ্রমণকারীদের জন্য এক টুকরো স্বর্গ। পাইন গাছের উপত্যকা, ফুলের বিছানাযুক্ত চারণভূমি, বহমান নদী,  কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড় নিয়ে বিশ্বের সেরা কিছু দর্শনীয় স্থানের একটি এই ডালহৌসি। স্কটিশ এবং ভিক্টোরিয়ান আর্কিটেকচারের বাতাসের গন্ধ এবং পরিবেশটি আপনাকে ব্রিটিশ স্বাদের মূল স্মরণ করিয়ে দেয়।

এখানে প্রতি ডিসেম্বর ট্রেকিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে, এই সময়ে যে কেউ চাইলে ট্রেক করতে ছুটে যেতে পারেন হিমাচলের বিশুদ্ধ এই ছোট্ট শহরটাতে। প্রতিবছর ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকে জানুয়ারির ৬ তারিখ পর্যন্ত এখানে ট্রেকিং করা যায়, যাতে ভারতীয় মুদ্রায় ৬ হাজার ৩০০ রূপি খরচ হয়ে থাকে।

গন্তব্য থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত জজ্ঞাল বিমানবন্দর। এছাড়া ডালহৌসি থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত পাঠানকোট রেলওয়ে স্টেশন। বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন কিংবা অন্যকোনো স্থান থেকে প্রাইভেট ক্যাব, লোকাল বাস কিংবা বিলাসবহুল কোচ ভাড়া করে ডালহৌসি পৌঁছতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!