Logo
শিরোনাম :
আশাশুনিতে সাংবাদিক সাহেব আলীর ভাইয়ের দাফন সম্পন্ন মহা নবমীতে সদরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মারামারি মামলার আসামি মায়ের কোলে চড়ে আদালতে।। মামলা খারিজ বাঁচতে চায় শিশু নাতিশা রংপুরে ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছে আড়তদাররা বেনাপোল ফিলিং স্টেশনের বিক্রিত পেট্রোলে কেরোসিন মিশ্রন থাকার অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এমপি শিমুলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন বেনাপোলে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহে মৃত মানুষও পাট চাষের প্রণোদনার টাকা নিয়েছে ! নোয়াখালীর চাটখিলে এক ভূয়া সিআইডি কর্মকর্তা আটক।

ছোট গল্প: ‘‘ভ্যালেন্টাইন ডে’’ -তাপস দেবনাথ

লেখক:- তাপস দেবনাথ, সহকারী শিক্ষক, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’। ভাবতেই অবাক লাগে ভালবাসার আবার নাকি দিবস আছে। তা আবার সারা বিশ্ব জুড়ে। ভাবুন তো দেশটা কি আর গোল্লায় যাওয়ার বাকি আছে। যাবেই না বা কেন দেশের ভবিষ্যৎ ছেলে মেয়েরা যে ভাবে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে লালন করে বসেছে তাতে এদেশের সংস্কৃতিতে কি বারটা বাজার আর বাকি আছে। তাই তো বলতে হয়-
১৪ই ফেব্রুয়ারি তুমি কি?
ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি
তোমায় নিয়ে দুরন্ত
ছেলে মেয়েরা
শুধুই করে মাতামাতি?
তমা সবে মাত্র নবম শ্রেণির ছাত্রী। পৃথিবীর বহু বঞ্চনাকে তার এখনো জানা হয়নি। প্রেম ও ভালোবাসার বুকে আজ সে অন্ধ। ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই মাকে বলে উঠল শুভ ‘ভ্যালেনটাইন ডে’ সাত সকালে মেয়ের এ কথা শুনে মা বেশ চিন্তিত হলেন। চিন্তিত হবারই কথা ঘুম থেকে মানুষ ওঠে সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে কিন্তু মেয়ে আজ এসব কি বলে আসলে মায়েরা এসব ভাবার সময় পায়না শুধু মুচকি হাসে আর বলে পাগলী মেয়ে।
তমা ঘুম থেকে উঠে গোসল করার পর এক ঘণ্টা ধরে শুধু সাজ গোজ করছে নিজেকে আয়নার সামনে বার বার উপস্থাপন করছে। কেমন দেখাচ্ছে ও কেমন লাগছে বার বার কাজের মেয়েকে ডাকছে আর তাকে কেমন লাগছে তা প্রশ্ন করেছে।
অবশ্য কাজের মেয়েটি প্রত্যেক বারই বলেছে আপা আপনারে না আজ ফাটাফাটি লাগছে। যেই আপনাকে দেখব সেই আজ টাস্কি খাইয়া যাইবো।
ফুলের দোকান গুলোতে আজ প্রচন্ড ভীড় পড়েছে। গোলাপ চাই লাল গোলাপ চাই ফুল চাই একটা স্লোগান। ফুলের দাম ও আজ বেশ চড়া তবু ও আজ ফুল নেই।
ছেলে-মেয়েদের এই ভীড়ে প্রবীনরা আর ভিড়তে পারছেনা। ভিড়লে বা মানুষই কি ভাববে এই সংকোচ নিয়ে। তবুও মাঝে মধ্যে যদি কেউ গেছে মেয়েরা খিল খিল করে হেসে উঠছে।
আর বলে উঠছে বুড়ো বয়সে নাকি ভিমরতি ধরেছে।
তমা বেড়িয়ে পড়ে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে নিরূদেশের উদ্দেশ্যে।
তন্ময় তমার জন্য আজ গোলাপ ফুল কিনেছে মোট একান্নটি, পঞ্চাশটি লাল গোলাপ ও একটি হলদে গোলাপ।
তমার ফোনটি বেজে উঠল।
হ্যালো তমা তুমি কোথায়?
তুমি তাড়াতাড়ি শিশু পার্কে চলে এসো। প্লিজ লক্ষিটি আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
আজ শিশু পার্কটি দেখলে ভীষণ হিংসা হয়। সে পার্কে শুধু প্রবীনদের ব্যায়াম করতে দেখা যেত আর আজ সেই পার্কে জমে ওঠেছে ভালবাসার স্বপ্ন দুয়ার। পাঁপড়ি মেলেছে ডানা। আচ্ছা পাঠক বন্ধু তারা এত ভালোবাসা পায় কোথায়? প্রিয়ার চোখের দিকে তাকালে নাকি সারা বিশ্ব দেখতে পাওয়া যায়। যা দারুন মজার ব্যাপারতো বিশ্ব ঘুরার প্রয়োজন নেই সঙ্গে একটি প্রিয়া থাকলে।
তমা ও তন্ময় দু’জন নির্জনে বসে প্রেমের রসালো কথা বলছিলো আর মাঝে মাঝে শুধু একটু মুচকি হাসি। ও আজকের এই দিনটির কথা ও স্মৃতি গুলোকে ধরে রাখার পণ করছে মনে মনে।
নবম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা যখন প্রেমের বাগানে গোলাপ ফুল চিড়বে বলুন তো শিক্ষা ব্যবস্থার কি হবে?
থাক ওসব কথা ভালোবাসার দিনে শুধুই নাকি ভালোবাসারি কথা বলতে হয়।
জোড়া জোড়া ছেলে-মেয়ে আজ কপোত কপোতির মত বসে গুনগুন করে গান গাইছে। বেশ মজাই লাগছিলো। উড়ন্ত মনগুলো চলন্ত হাওয়ার সাথে মিশে যাচ্ছে। সবার মুখে শুধুই ভালোবাসার গুণ কীর্তন।
দুপুরের খাওয়া দাওয়া বুঝি আজ কোন চাইনিজ হোটেলেই হয়েছে। হোটেল মালিকদের মুখেও আজ বেশ হাসি ফুটেছে প্রেমের বাজারের ব্যবসা তো তাই?
তমা দুপুরে বাড়ি ফিরেনি বলে ওর মা বেশ চিন্তিত। মেয়ে ফোন ও রিসিভ করতেছে না। ব্যাপারটা ঠিক বুঝে ওঠতে পারছেনা তমার মা। মনে দুরু দুরু ভাবনা মেয়ে সকালে জানি কি! ডে বলেছিল কিন্তু ভেবে ওঠতে পারছেনা। দিন নিরক্ষন কেলেন্ডারের পাতায় ও পাচ্ছে না দিনটির মর্ম কথা।
সন্ধ্যা গড়িয়ে এলো তবুও তমা নেই। তমার মা তাই বেশ চিন্তিত।


পূবের সূর্যটা পশ্চিমে নেমে এলো তবুও ছেলে মেয়েদের আজ ভীড় কমছে না। মনে ওচ্ছে চিড়িয়া খানাটাও আজ একটা………………।
সবার হাতে ফুল-তো তাই মনে হয় প্রেম পাড়া………………….।
তাহলে কি বলতে হয় সন্ধ্যা গড়িয়ে বাড়িতে ফিরে না আসার নামই কি ভালোবাসা দিবস?
সবার হাতে হাত চোখে চোখ ঠোঁটে ঠোঁট যেন আজ একাকার হয়ে এসেছে এই সন্ধ্যা ঘনিয়ে বিদায়ের ক্ষনে।
তমা বাসায় ঢুকতে না ঢুকতেই তমার মা দৌড়ে নীচে নেমে আসে বার বার তাকায় মেয়ের মুখের দিকে আর হতাশা ভরা মুখে বলে ওঠে তুমি সারাদিন কোথায় ছিলে মা?
ফোন ধরিস না ব্যাপার কি?
তোমার হাতে এত ফুল কেন?
কে দিয়েছে এত ফুল? বল কোথায় ছিলে সারাটা দিন।
তমা ধীরে ধীরে বলে ওঠে মা তোমায় না সকাল বেলা বলে ছিলাম আজ………।
ও এতক্ষনে বুঝলাম আজ এ দিন।
আমরা জানি, লাইলী, মজনু, শিরীন-ফরহাদ ও রজকীনি-চন্ডীদাস, এরাই প্রেমের শিরোমনি। কিন্তু আজ?
তমার মা অনেকক্ষন ধরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলো হঠাৎ এক সময় বলে ওঠল আজ কার ভালোবাসার দিবস ছিল ওদের না তোমার?
মায়ের প্রশ্নের উত্তর তমা খুঁজে পায় না। তার তো জানা নেই এই দিনটির ইতিহাস।
পাশ্চাত্য দেশগুলো পালন করছে তাই আমরাও করছি কোন কিছুর ইতিহাস না জেনেই শুধু লাফা-লাফি। কেউ হেসেছে তাই হাসতে হবে এটা বাঙালীর একটা বড় গুন।
বিদেশী সব ফোন কোম্পানিগুলো এদেশে ব্যবসা করার নামে যুব সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে ধংসের দিকে। তেমনি বিদেশি সংস্কৃতি এদেশের সংস্কৃতিকে করছে কুলসিত। তমা আজ কোন উত্তর দিতে পারে নি, শুধু নীরবে মায়ের কাছ থেকে সহ্য করছে জ্বালা যন্ত্রণা।
রাত্রিতে বহু অশ্রু জমা হয়ে যায় তমার দু’চোখের কোণায় আর ভাবতে থাকে তন্ময়কে ও ভালোবাসার এই দিন টিকে।
শুধু বলার ছিল একটি কথা
ইতিহাস জানুন
দেশকে ভালোবাসুন, ভালোবাসুন
দেশের সংস্কৃতিকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!