শিরোনাম :
পাটগ্রামে গোলাম রব্বানী প্রধান জনমতে এগিয়ে রাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২ ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বগুড়া আদমদিঘী বাজারে ও নওগাঁ পাইকারী বাজারে আলুর লাগামহীন মূল্যে -বিপাকে ক্রেতারা যশোরের নাভারণে ভেজাল শিশু খাদ্যসহ কারখানা মালিক আটক বাংলাদেশের রাকিমের তোলা ছবি ছয় হাজারেরও বেশি ছবির মাঝে সেরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডিবি পুলিশের আবারও সাফল্য ; সোয়া ২ কেজি গাঁজা সহ গ্রেপ্তার ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পৃথক অভিযানে অস্ত্র সহ ২ জন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্র্যাব নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৭ সদস্য গ্রেফতার ঝিকরগাছায় ৭৪৮টি গভীর নলকূপ বিতরণ করলেন এমপি ডা. নাসির উদ্দিন সিভিল সার্জনের কথা উপেক্ষা করেই চলছে ঝিকরগাছার আয়সা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার
তথাকথিত সিন্ডিকেট গ্রুপের কারণে বাল্লা স্থলবন্দর এর কার্যক্রম বন্ধ

তথাকথিত সিন্ডিকেট গ্রুপের কারণে বাল্লা স্থলবন্দর এর কার্যক্রম বন্ধ

মীর জুবায়ের আলমঃ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা স্থলবন্দর এর কার্যক্রম নিয়ে সিন্ডিকেটের কারণে হিমশিম খেতে হয়েছে । দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাধারণ মানুষের দাবি ছিল বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা অনুযায়ী ভারত-বাংলাদেশের মাধ্যমিক তৈরি হবে একটি বিশাল স্থলবন্দর ।সেই বন্দরের মাধ্যমে উপকৃত হবে বাংলাদেশ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল হবিগঞ্জের একটি বিশাল সেন্ডিগেট গ্রুপের কারণে আজ বন্ধ রয়েছে সেই বন্দরের কার্যক্রম।

নানা জটিলতার কারণে বাল্লা শুল্ক স্টেশনটি স্থল বন্দর হিসেবে রূপ নিতে পারেনি। জমি অধিগ্রহনে দীর্ঘ সুত্রতার কারণে স্থাপন করা যায়নি স্থল বন্দরের অবকাঠামো। ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রশাসন ও বন্দর র্কতৃপক্ষের সমন্বয়ে স্থল বন্দরের জন্য ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণরে জন্য ভূমি জরিপ সম্পন্ন করেছিলো।

হবিগঞ্জ জেলার দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বন্দরের আশ পাশের জমি ও অধিগ্রহনের আওতাধীন সমুদয় জমি কম দামে খরিদ করে কিনে এবং এখন বেশী দাম দাবী করায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। যার কারণে বাল্লা বন্দর প্রতিষ্টা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাল্লা স্থলবন্দর এর বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী নিকট মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে বন্দরের কার্যক্রম নিয়ে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আরো জানান এবং হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম সমাপ্ত করে আমাদের নিকট প্রতিবেদন পাঠালে আমরা সেই বন্দরের কার্যক্রম সুরে করতে পারব। পরবর্তীতে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় কে সেই জমি অধিগ্রহণের জটিলতার বিষয়টি জানানো হলে তিনি জানান যে বা যারা বন্দরের জমি অধিগ্রহণের বিভিন্ন সিন্ডিকেট তৈরি করছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসী আরও জানান সেই বন্দরের জমি অধিগ্রহণের সিন্ডিকেটের গ্রুপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ।

১৯৫১ সালে চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তর্বতী বাল্লা নামক স্থানে ৪ দশমকি ৩৭ একর জায়গা নিয়ে বাল্লা চেকপোষ্ট চালু করা হয়। র্দীঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৯৯১ সালে পুনরায় তা চালু করা হয়। সেই শুল্ক বন্দরটি দিয়ে মাঝে মধ্যে সিমেন্ট রপ্তানী হয়ে থাকে। কিছু কিছু লোকজনও ত্রিপুরার সাথে যাতায়াত করেন। দুই দেশের সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলছে খোয়াই নদী। বর্ষায় নৌকা আর শুকনো মৌসুমে শ্রমিকরা মাথা ও কাঁধে করে পণ্য আনা-নেয়া করে থাকেন। ফলে এক দিকে ঝুঁকি অন্যদিকে আমদানি ও রপ্তনীকারকদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে বেশী।

২০১২ সালরে ১১ জুন দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল কেদারাকোট এলাকাটি পরর্দিশন করেন। এরপর আরো কয়েক দফা পরিদর্শন করেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। পরির্দশন শেষে উভয়েই শুল্ক স্টেশনের অদুরে যেখানে খোয়াই নদী নেই সেই কেদারাকোটে স্থলবন্দর করার ব্যাপারে উভয়পক্ষই একমত হয়।

২০১৭ সালে ৮ জুলাই স্থলবন্দর র্কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী হবিগঞ্জে এক মতবনিমিয় সভায় জানান, ওই বছরে একনেক সভায় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পেয়েছে। অবকাঠামো তৈরীর জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালরে ৩১ মার্চ তৎকালিন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান হবিগঞ্জে এক মতবিনিময় সভায় বাল্লায় নতুন স্থল বন্দর নির্মাণ কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে ঘোষনা দিয়েছিলেন।

এ দিকে, স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের জুলাইয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে ২১ একর জমি অধিগ্রহণরে জন্য প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু প্রস্তাবিত জমিতে বসতবাড়ি থাকায় আপত্তি জানান স্থানীয়রা। এ অবস্থায় থমকে যায় পুরো প্রক্রিয়া।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, বসতবাড়ি বাদ দিয়ে খালি জায়গায় যেখানে প্রভাবশালীরা আগে ভাগেই জমি কিনে বেশী মুনাফা লাভের আশায় দখলে রেখেছে সেখানে স্থলবন্দরটি নির্মাণে তাদের কোন বাধা নেই। কিন্তু বাড়িঘর উচ্ছদে করতে হলে তাদেরকে স্থায়ী পুর্নবাসন করতে হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গত বছর বলেছিলেন, চুনারুঘাট থেকে কেদারাকোট পর্যন্ত দুই লেনের রাস্তা নির্মাণের পক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মাঝে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সড়কে নানান ধরনের মাপ জোকও সম্পন্ন করে কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পরও স্থলবন্দরের কাজ, সড়কের কাজে হাত দিতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ।

হবিগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, বেসামরিক পরিবহন বিমান ও পর্যটন প্রতি মন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, অচিরেই বাল্লা স্থলবন্দরের কাজ শুরু হবে।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © bbsnews24 2020
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!