Logo
শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবির পৃথক অভিযানে মাদক সহ ৩ জন আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে হত্যা মামলার ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি নলছিটিতে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে কেএম মাসুদ খানের প্রার্থীতা বহালের নির্দেশ সুপ্রিমকোর্টের জেলা ক্রীড়া পরিষদের কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায়ে সক্রিয় না থাকায় যুবকরা আজ মাদকাশক্ত পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের বিভাগীয় টিম’র প্রথম প্রস্তুতিমুলক সভা   চাটমোহরের নব নির্বাচিত পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের অভিষেক অনুষ্ঠান-অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়ি থানার আলমগীর হোসেন ৫ম বারের মত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি মনোনীত বাগেরহাটে ৪৮হাজার করোনা ভ্যাকসিন পাঠাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে র্র্যাবের হাতে অস্ত্র সহ আটক ১ রাণীশংকৈলে দিন ব্যাপী পিঠা উৎসবের উদ্বোধন

যশোর বোর্ডে গত বছরের চেয়ে ৪ হাজার বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে 

এম ওসমান, বিশেষ প্রতিনিধি : এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ বছর যশোর বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ব‍্যপক সাফল্য ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৪ হাজার বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন শিক্ষার্থী। গতবছর এ সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৯৪৮।

তবে বোর্ডে পাসের হার কিছুটা কমেছে। এ বছর পাসের হার ৮৭ দশমিক ৩১ ভাগ। গতবছর এ সংখ্যা ছিল ৯০ দশমিক ৮৮। রোববার প্রকাশিত ফলাফলে যশোর বোর্ডের এ চিত্র উঠে এসেছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, এ বছর যশোর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৩৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ২৪৩ জন। পাসের হার ৮৭ দশমিক ৩১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন।

গতবছর এই বোর্ড থেকে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ৯ হাজার ৯৪৮। সে অনুযায়ী গতবছরের চেয়ে এ বছর যশোর বোর্ড থেকে ৩ হাজার ৮১৬ জন শিক্ষার্থী বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে পাসের হার ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে বলে জানান তিনি।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যশোর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮৮ জন। পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৮৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৯৪৮ জন।

আর ২০১৮ সালে যশোর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৯৯ জন। পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৬৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৩৯৫ জন।

২০১৭ সালে যশোর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৯৯৫ জন। পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ০৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৪৬০ জন।

তবে রেকর্ড পাসের হার ছিল ২০১৬ সালে। ওই বছর ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৯৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৮৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৪৪৪। ২০১৯ সালের আগে ২০১৬ সালেই পাসের হার ৯০’র কোটা অতিক্রম করেছিল।

সূত্র মতে, প্রতিবছরের মতো এবারও যশোর বোর্ডে অন্য বিভাগের তুলনায় তাক লাগানো ফলাফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এই বিভাগ থেকে ৩৭ হাজার ৪৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৩৪ হাজার ৪৪০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৯০০ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ছেলেরা। সর্বোচ্চ এ ফল অজর্নকারীদের মধ্যে ৬ হাজার ৩৮৪ জন ছাত্র ও ৫ হাজার ৫১৬ জন ছাত্রী। এই বিভাগে পাসের হার ৯২ দশমিক ৯৭ ভাগ।

বোর্ডে পাসের হারে এগিয়ে গেছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। এই বিভাগ থেকে ২৬ হাজার ৮০১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৪ হাজার ৬৮৯ জন। পাসের হার ৯২ দশমিক ১২ ভাগ। এই বিভাগ থেকে এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪৬ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৩৪০ ও ছাত্রী ৫০৬।

এছাড়া মানবিক বিভাগ থেকে ৯৬ হাজার ৭৮৮ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৮১ হাজার ১১৪ জন। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৮১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৮ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ২৩২ ও ছাত্রী ৭৮৬ জন।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানিয়েছেন, এ বছর যশোর বোর্ডের ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বড় সাফল্য পাওয়া গেছে। পাসের হার সামান্য কমলেও তা অন্যান্য বোর্ডে তুলনায় ভালো।

ফলাফলের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এ বছর মেধাবীরা অনেক ভালো করেছে। এজন্য জিপিএ-৫ প্রাপ্তি অনেক বেড়েছে। এ বছর স্কুলগুলো থেকে নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। বোর্ড এ বিষয়ে কঠোর ছিল। ফলে যোগ্যরাই এসএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং উত্তীর্ণ হয়েছে। আর প্রশ্নব্যাংক পদ্ধতি গ্রহণ করায় বোর্ড ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এতে বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নভীতি কমেছে। আর শিক্ষার্থীদের গাইড নির্ভরতা কমেছে এবং মূল বইয়ের প্রতি মনোযোগী হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!