Logo
শিরোনাম :
বাকেরগঞ্জের পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জাকারিয়া সোয়েব মিরাজ দলীয় ফরম সংগ্রহ খুলনায় ঘাতক প্রাইভেটকার কেড়ে নিলো কলেজ ছাত্রের জীবন কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচন..নৌকা বিজয়ের পথসভায় নজরুল ইসলাম শার্শা নাভারন কলেজ ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল অনুষ্টিত বাঁশখালীতে এ,বি,এম মোকাম্মেল হক চৌধুরী আলালের পক্ষে শীতবস্ত্র বিতরণ চুনারুঘাট সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত… যশোরে প্রায় ২ লক্ষ ইউএস ডলারসহ ৪ হুন্ডি ব্যবসায়ী আটক বাঁশখালীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন সুন্দরবনে নিখোঁজ দুই জেলের লাশ উদ্ধার মহেশখালী মাতারবাড়ী গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৪, আহত ৮

কর্ণেল অলি আহাম্মদ বীর বিক্রম কলেজের শিক্ষক আব্দুল মাসুদ চৌধুরীর কান্ড

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলায় বাজালিয়া কর্ণেল অলি আহম্মদ বীর বিক্রম কলেজের শিক্ষক আবুল মাসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রমোশনের জন্য অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া নিয়োগপত্র ও ভূয়া যোগদানপত্র তৈরীর অভিযোগ উঠেছে।

কলেজের কয়েকজন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষক এ অভিযোগ করেছেন, আবুল মাসুদ চৌধুরীর নিয়োগও পেয়েছেন জালিয়াতির মাধ্যমে।

তৎকালীন কমিটি পরীক্ষায় প্রথম স্থানে থাকা ব্যক্তিকে নিয়োগ না দিয়ে আবুল মাসুদ চৌধুরীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগে জানা যায়।
এসব বিষয় এতদিন গোপন থাকলেও প্রমোশনের জন্য গঠিত কলেজ কমিটি তদন্ত করতে গেলে আবারো বিষয়গুলো প্রকাশ হয়ে পড়ে। কলেজের তৎকালীন কার্যবিবরণী ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯৯সালের ২০আগস্ট যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে পরীক্ষায় প্রথম স্থানে জয়নাল আবেদীন। ২য় স্থানে আবুল মাসুদ চৌধুরী, ৩য় স্থানে কাউছার বানু। ঐবছরের ২৩আগস্টের রেজুলেশনে দেখা যায়, যুক্তিবিদ্যা শিক্ষক জয়নাল আবেদীনকে নিয়োগ প্রদান করা হয় এবং তিনিসহ অন্য শিক্ষকদের ঐবছরের ২৫ আগস্ট হতে ৩০আগস্টের মধ্যে যোগদান করতে বলা হয়।
১৯৯৯সালের ০২সেপ্টেম্বরের কার্যবিবরনীতে দেখা যায়, একই বছরের ২৩আগস্ট কার্যবিবরনী মোতাবেক প্রভাষক পদে ইংরেজি বিষয়ে শরাফত উল্লাহ, অর্থনীতি বিষয়ে হারুনর রশিদ, পৌরনীতি বিষয়ে হামেদ হাসান যোগদান করেন। এছাড়াও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের শিক্ষক আবুল মাসুদ চৌধুরী, সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক বেলাল মোহাম্মদ চৌধুরী ও হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হাদিউল ইসলামকে ১৯৯৯সালের ০৫সেপ্টেম্বরের মধ্যে যোগদান করতে বলা হয়।

০৮সেপ্টেম্বরের কার্যবিবরনীতে জানা যায়, ২য় হওয়া আবুল মাসুদ চৌধুরী, বেলাল মোহাম্মদ চৌধুরী হাদিউল ইসলাম যোগদান করেছেন। এখানে প্রথম হওয়া জয়নাল আবেদীনের যোগদান না করা সংক্রান্ত কোন কাগজ পত্রাদি নেই। তৎকালীন কমিটি নিয়ম বর্হিভূত ভাবে জয়নাল আবেদীনকে নিয়োগ না দিয়ে আবুল মাসুদ চৌধুরীকে নিয়োগ প্রদান করেন।
তার অপরাধ এখানেই শেষ নয়।
জানা গেছে ০২সেপ্টম্বর কার্যনিবাহী কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী মোতাবেক আবুল মাসুদ চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি অধ্যক্ষের সাক্ষর জাল করে ভূয়া নিয়োগ পত্র ও ভূয়া যোগদান পত্র তৈরী করেছেন ২৪আগস্ট। অর্থাৎ তিনি (আবুল মাসুদ চৌধুরী) নিয়োগের আগে যোগদান করেছেন। যা অবৈধ, নিয়ম বর্হিভূত ও শৃঙখলা পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

কলেজের কয়েকজন প্রভাষক অভিযোগ করেন, আবুল মাসুদ চৌধুরী অবৈধ যোগদানপত্র ও জাল স্বাক্ষরের নিয়োগপত্র দিয়ে অন্যান্য শিক্ষকের চাইতে নিজেকে সিনিয়র তালিকায় অন্তভূক্ত করেন।
সম্প্রতি প্রভাষক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদানের বিষয়টি সামনে আসলে নিয়ম অনুযায়ী ১৯৯৯সালের ২৩ আগস্ট নিয়োগ পাওয়া হামেদ হাসান প্রমোশনের জন্য আবেদন করেন এবং ১৯৯৯সালের ০২সেপ্টেম্বর নিয়োগ পাওয়া বেলাল মোহাম্মদ চৌধুরী আবেদন করেন। পাশাপাশি আবুল মাসুদ চৌধুরীও উক্ত ভূয়া নিয়োগপত্র ও ভূয়া যোগদানপত্র দিয়ে সিনিয়র দাবি করে প্রমোশনের জন্য আবেদন করনে। তখনেই ঘটে বিপত্তি।
এবিষয়কে সামনে রেখে কলেজ কমিটি ২০১৯সালের ১৪ আগস্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কলেজের সভাপতি সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ মং তেঝকে আহবায়ক, দাতা সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান রফিক আহম্মদ চৌধুরী, বিদ্যাৎসাহী সদস্য এডভোকেট রামপদ কায়স্থগীরকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আবুল মাসুদ চৌধুরীর নিয়োগ ও যোগদান প্রশ্নবিদ্ধ হিসাবে চিহ্নিত করেন এবং কলেজের সিনিয়র প্রভাষক হামেদ হাসানকে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে প্রমোশনের জন্য সুপারিশ করেন।
এদিকে উক্ত কলেজের আরো একজন প্রভাষক জালিয়াতি করে নিয়োগ আগে দেখিয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে র্দীঘদিন থেকে কর্মরত আছেন ও বেতনভাতা উত্তলন করছেন।

এবিষয়ে সরকারি ও সায়ত্বশাসিত চাকরিজীবিদের বিভিন্ন সমস্যা ও আইনগত বিষয় নিয়ে কাজ করা এক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র অবৈধ হলে ঐ ব্যক্তি চাকরিচ্যুত হবেন এবং ইতিপূর্বে সরকারী কোষাগার থেকে গ্রহণকৃত সমস্ত অর্থ ফেরত প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন।
এদিকে সম্প্রতি সময়ে আবুল মাসুদ চৌধুরীর অবৈধ নিয়োগ ও ভূয়া যোাগদান পত্রের বিষয় প্রকাশ হয়ে গেলে কলেজের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছেন, অবৈধ ভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকের কাছে কি নৈতিকতা আশা করা যায়। এঘটনায় কলেজের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই উক্ত বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত দাবী করেছেন।
#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!