Logo

ঝিকরগাছার নাভারণের আলোচিত কাজী ও তার সহকারী শশুর শ্রীঘরে

আফজাল হোসেন চাঁদ : ঝিকরগাছায় উপবৃত্তি করে দেয়ার কথা বলে মাদ্রাসার পরিছন্নতাকর্মী মনির দিয়ে পাতানো ছকে ফেঁসে গেল শিক্ষার্থী, অবশেষে কাজীকে ইউএনও’র তলব শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে সেই কাজী ইকরাম উদ্দিন ও তার সহকারী শশুর ইব্রাহিম শেখ এখন শ্রীঘরে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে করিমালী আলিম মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ১৩বছর বয়সের এক শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি করে দেয়ার কথা বলে মাদ্রাসার পরিছন্নতাকর্মী মনোয়ারা ওরফে মনি’র দিয়ে নাভারণের কুন্দিপুর গ্রামের পাতি আলম নাভারন ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার ইকরাম উদ্দিনের শশুর ইব্রাহিম শেখকে ঘটনাস্থালে নিয়ে গিয়ে তার (পাতি আলম) নির্দেশে তারই ছেলে বাবলুর রহমানের সাথে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া হয় ওই শিক্ষার্থীকে। এই বাল্য বিবাহ হওয়ার কারণে এলাকার মধ্যে অনেক গুনজন সৃষ্টি হয়। গুনজনের বিষয়টি শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত হন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষনিক উক্ত বিষয়ের উপর তদন্ত করতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাসরিন আখতার সুলতানা ও শিওরদাহ ফাঁড়ির আইসি এসআই এজাজুর রহমান এজাজকে ঘটনাস্থলে পাঠান।
এসময় অভিযুক্ত নাভারন ইউনিয়ন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার মাদ্রাসা শিক্ষক ইকরাম উদ্দিনের অফিস থেকে বেশ কয়েকটি (স্বাক্ষরিত) সাদা স্ট্যাম্প নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এভিডেভিট করানো সীলমোহর, ১৯টি জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধণসহ সন্দেহভাজন কাগজপত্র জব্দ করেন। এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে নিকাহ্ রেজিস্টার ইকরাম উদ্দিন ও তার শশুর ইব্রাহিম শেখকে আগামী রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদে তার নিজেস্ব দপ্তরে তলব করেছে।
রবিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নাভারন ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার ইকরাম উদ্দিনের শশুর ইব্রাহিম শেখ হাজির হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থানার অফিসার ইনচার্জকে অবগত করে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাসরিন আখতার সুলতানার সাথে তাদেরকে থানাতে পাঠান। পরবর্তীতে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক উভায় পক্ষের বিবারণী শুনে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মেয়ের মাতা রজিনা বেগম বাদী করে একটি মামলা নেন। মামলা নং ১৩, তাং ১৪/০৬/২০২০। অত্র মামলার আসামীরা হলেন, নাভারণ ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামের পাতি আলমের ছেলে বাবলুর রহমান, মৃত এসএম গাজীর ছেলে পাতি আলম, মৃত মুতালেবের স্ত্রী মনোয়ারা ওরফে মনি, ইব্রাহীমের ছেলে কাজী ইকরাম উদ্দীন ও তার শশুর মৃত নৈয়মুদ্দীনের ছেলে ইব্রাহিম শেখ।
মামলায় তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিঃ) সাইদুজ্জামান জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন ১০/৩০ এর আইনে মামলার আসামী কাজী ইকরাম উদ্দীন ও তার শশুর ইব্রাহিম শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং অপর আসামীদেরকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!