Logo

রংপুরে পাঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ জেলার ছয় উপজেলায় দায়িত্বরত ছয় উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা

আফরোজা বেগম, রংপুর
উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের রংপুরের পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা একেএম মাহবুব আলম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি অনিয়ম ও অধিনস্থদের হুমকি প্রদর্শনসহ নানাবিধ অভিযোগ করেছেন জেলার ছয় উপজেলায় দায়িত্বরত ছয় উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা।

প্রকল্প পরিচালক বরাবর লিখিত ও ২০জুন সাক্ষরিত ওই এক অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে- চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা একেএম মাহবুব আলম বিশ্বাস কুড়িগ্রাম থেকে রংপুরে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত হন। এর পর থেকে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অধিনস্থদের ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি রংপুর সদরের প্রকল্প অফিসের সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে প্রকল্পের নাম বাদ দিয়েছেন এবং প্রকল্পের অর্থ সম্পূর্ণরূপে আত্মসাৎ করেছেন।

এনিয়ে কথা বললেই দায়িত্বরত উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নানাভাবে শাসান। বীজ পরিবহণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ চাইলেই তিনি অশালীন আচরণ করেন এবং তিনি সেই অর্থ ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে নিতে বলেন। রাসায়নিক সার কেনার জন্য ট্রেজারী খরচের নামে প্রত্যেক উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে গ্রহণ করেছেন। চলতি অর্থ বছরে রাসায়নিক সার কেনা বাবদ চার লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু চার লাখ ১৪ হাজার টাকা খরচ করলেও বাকী ৪৬ হাজার টাকা ট্রেজারী খরচের কথা বলে পকেটস্থ করেছেন। তিনি রংপুরে যোগদানের পর থেকে প্রকল্পের অর্থ একাই উত্তোলন করে খরচ করছেন। আর রেজিস্ট্রারে উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তাদের জোর করে সাক্ষর নিয়ে রাখছেন।

এ পর্যন্ত তিনি কোন অফিসেই স্টেশনারী পণ্য দেননি এবং তিনি তা’ কখনো দেবেননা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। আসবাব পত্র কেনার জন্য উপজেলা অফিসে চার হাজার টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও অর্থ বছর শেষেও তিনি তা’ দেননি। গভীর রাত অবধি বাইরের লোক নিয়ে অফিসে আড্ডা দেয়ায় এরই মধ্যে একটি অফিসের ভাড়া বাতিল হয়েছে। নতুন অফিসের তালার চাবি এখন পর্যন্ত সদর অফিসের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার হাতে তুলে দেয়া হয়নি। জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে রংপুর সদর উপজেলা ও গঙ্গাচড়া উপজেলায় দুর্নীতি দমণ কমিশন পৃথক দু’টি মামলা করেছে। একারণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কৃষি অফিসার কিংবা পল্লী উন্নয়ন অফিসাররা প্রকল্পের কাগজপত্রে সাক্ষর করতে ভয় পান। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করতে গেলে পূর্বের প্রকল্প পরিচালক ড. রেজাউল করিমকে ভাড়াটে গুণ্ডারা লাঞ্ছিত করে। এটা নাকি পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার গর্বের বিষয়। কারণ যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে তিনি লাঞ্ছিত করতে পেরেছেন।

একথা বলেই তিনি উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নানাভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শণ করেন। কুড়িগ্রাম জেলায় কর্মরত অবস্থায় তিন বস্তা ভিত্তি পাটবীজ নিয়ে আসেন এবং রংপুর জেলায় বরাদ্দকৃত আরো তিন বস্তা ভিত্তি পাটবীজ সহ মোট ছয় বস্তা ভিত্তি পাটবীজ তিনি বাজারে বিক্রি করে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। গঙ্গাচড়া উপজেলা ছাড়া বাকী পাঁচ উপজেলায় উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ভ্রমণ ভাতা বিলে তিনি আজো সাক্ষর করেননি। তিনি দীর্ঘ ১৮বছর ধরে নানাভাবে রংপুরে কর্মরত রয়েছেন। রংপুর শহরে তার নিজস্ব বাসা রয়েছে। একারণে স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছেন। আর ওই প্রভাব খাটিয়ে তিনি অধীনস্থদের শায়েস্তা করে থাকেন। এর পাশাপাশি তিনি সরকারি দলের এক মন্ত্রী ও সংসদের ডেপুটি স্পীকারের কাছের মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রচার করেন এবং অধীনস্থদের চাকরী খাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দেন।

এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ‘উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। যাতে সাক্ষর করেছেন- রংপুর সদরের খোরশেদ আলম, কাউনিয়ার আবু রায়হান, মিঠাপুকুরের তপন কুমার রায়, পীরগাছার পরিতোষ কুমার, গঙ্গাচড়ার মাসুদ রানা, তারাগঞ্জের ফখরুল ইসলাম ও বদরগঞ্জের আসাদুজ্জামান নূর।

এবিষয়ে জানতে রংপুরের পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা একেএম মাহবুব আলম বিশ্বাসের সাথে সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোনকল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!