Logo

খুলনা বটিয়াঘাটায় জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের জন্য ইউএনও বরাবর অভিযোগ

মহিদুল ইসলাম( শাহীন) বটিয়াঘাটা খুলনা, সারাদেশের ন্যায় খুলনা বটিয়াঘাটা উপজেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী মাছের বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে ২০মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। সেজন্য এই আপদ কালীন সময়ে জেলেদের সহযোগিতার জন্য বিশেষ ভিজিএফ ৫৬ কেজি করে চাল খাদ্য সহায়তা হিসাবে প্রত্যেক জেলেকে প্রদান করে। উক্ত খাদ্য সহায়তা প্রদানে এ উপজেলায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে । তবে কার্ড থেকে বাদ পড়া একাধিক ব্যক্তি জানান,উপজেলা মৎস্য অফিসের যারা লীপের দায়িত্ব আছেন তাদের সহায়তায় এসকল অনিয়ম হয়েছে। এলাকার অনেক মৎস্য চাষি জানান, প্রকৃত জেলেদের নাম কেটে যারা জীবনে কখনও জাল সেলাই করতে পারেনা বা বিন্দু পরিমাণ জেলেনা এমন লোকজন জেলে কার্ডে স্থান পেয়েছে।
এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী কার্ডধারী খাদ্য সহায়তা বঞ্চিত একাধিক জেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩৫১৭ জন । তারমধ্যে জলমায় ৪৫৯ জন,সদরে ৬৩৩ জন, গঙ্গারামপুর ৫৮৭ জন, সুরখালী ৬৮৮ জন , ভান্ডারকোট ৪০৪ জন , বালিয়াডাঙ্গায় ৪৫৮ জন ও আমীরপুরে ইউনিয়নে ২৮৮ জন । এরমধ্যে কার্ডধারী জেলের সংখ্যা ২৯৬০ জন । উক্ত কার্ডধারী জেলেদের বাদ দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য,ট্যাগ অফিসার ও মৎস্য অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে জেলে নয় এমন লোকদের এই বিশেষ ভিজিএফ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে । যে কারনে প্রকৃত কার্ডধারী যারা পূর্বে সহায়তা পেত, কিন্তু বর্তমানে সহায়তা না পেয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে । এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী কার্ডধারী অভিযোগ দায়ের করা কার্ডধারী প্রকৃত জেলে সদর ইউনিয়নের ৯ নং অয়ার্ডের বাসিন্দা সুখেন হালদার ও দেবপ্রসাদ মন্ডল, এ প্রতিবেদককে জানান, ট্যাগ অফিসার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কমলেশ বালা, ইউপি সদস্য কিশোর বিশ্বাস ও সুব্রত হালদার মিলে আমাদের কাছে ৫ শত টাকা দাবী করে । আমরা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমাদের নাম অন্য পেশা দেখিয়ে বাদ দিয়ে দেয় । আমরা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি । এ ব্যাপারে উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কমলেশ বালার নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা । এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল মামুন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ উপজেলায় মোট ৩৫১৭ জন নিবন্ধিত জেলেকে বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে । অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে । ইউনিয়ন কমিটি সরেজমিনে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!