Logo
শিরোনাম :
আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাজমুল হাসানকে ফুলের শুভেচ্ছা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উজ্জ্বল ঝিকরা ৪নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে ঘাতক বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত। অভয়নগরে মসজিদের পাশে ময়লার স্তুপ হেফ্জখানার শিক্ষার্থীরা বিপাকে আজমীর সভাপতি টুটুল সাধারণ সম্পাদক ঝালকাঠি টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা উজিরপুরের সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন ইউপি সদস্যের যুগিখালীর চেয়ারম্যান প্রার্থীর পোষ্টার ও বিলবোর্ডের মুখমন্ডল গোল করে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা আশাশুনির বড়দলে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে আশাশুনিতে গ্রাম আদালত বিষয়ক সভা নাভারণে ফ্রি খাবার বাড়ি থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি চুরি

ঝালকাঠিতে থামছে না খাদ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তাদের দূর্নীতি

রিপোর্ট : ইমাম বিমান

ঝালকাঠিতে খাদ্য কর্মকর্তা ও গুদাম রক্ষক এই দুই কর্মকর্তার সহায়তায় একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ দিন থেকে এরা দুর্নীতি অনিয়ম করেও বহাল তবিয়তে এসব চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানাযায়, ঝালকাঠি খাদ্য বিভাগের খাদ্য কর্মকর্তা আ: ছালাম চলতি বছরে ছাটাইয়ের আমন ধান খুলনায় পাঠানোর সময় বড় একটি চালান প্রশাসনের হাতেনাতে ধরা পড়ে। গত বছরের বরাদ্দকৃত ধানের ৩৩০ টন ধান গুদামে না পাওয়ায় গুদাম রক্ষক মাজহারুলকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও এখানো তিনি ঝালকাঠিতে কর্মরত আছেন। আর এসব ঘটনার সূত্রপাত ধরেই বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল।

এ বিষয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, চলতি বছর ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৭টি মিলের সাথে চুক্তি দেখানো হয়। যাদের গুদামের দেয়া আমন ধান ছ্টাাই করে চাল সরবরাহ করার কথা। ৭টি মিলে মোট ১৫শত ৯২ মেট্রিক টন ধান সমহারে ছাটাইয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হয়। চুক্তি অনুযায়ি কাজ করতে ১১০% হারে মিল মালিকদের কাছ থেকে ৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা জামানত রাখার কথা জানানো হয়। সরকার টন প্রতি মিল মালিকদের পরিবহন খরচ বাবদ ১৫শত টাকা এবং ছাটাই খরচ ১২শত টাকা বরাদ্দ দেয়। এ হিসাবে উল্লেখিত ধান ছাটাইয়ের জন্য মোট বরাদ্দ টাকার পরিমান ৪৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। কিন্তু তালিকায় মিল মালিকদের ভূয়া নাম থাকায় বরাদ্দ টাকা লুটাপাটের অভিযোগ রয়েছে এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

খাদ্য বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গুদামে সংগ্রহ করা নতুন আমন ধান ছাটাইয়ের জন্য মিল মালিকদের কাছে পাঠানোর কথা বলে বাহিরে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এরপর কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নিম্নমানের চাল কালো বজারে কম মূল্যে কিনে শুন্য স্থান পূরণ করা হচ্ছে। সূত্র জানায় পুড়ানো ধানের চাল ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা টন দরে বিক্রয় হয়। কিন্তু নতুন আমন ধানের চাল টন বিক্রি হয় ৩৬ হাজার টাকা। এভাবেও টন প্রতি ১৪ হাজার টাকা বেশি দরে এই চাল বিক্রয় করে সিন্ডিটেরা হাতিয়ে নিচ্ছে বিশাল অংকের টাকা। এই দুর্নীতির জন্য গুদামের চালের সাথে মজুদের গড়মিল থেকেই যাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্ত টিম এসে ঝালকাঠি খাদ্য গুদামে ৩৩০ মেট্রিক টন আমন ধান মজুদ পায়নি। তাই গুদাম রক্ষক মাজহারুলকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও তিনি জেলা খাদ্য কর্মকর্তার সহায়তায় ঝালকাঠিতেই কর্মরত আছেন।

ঝালকাঠির খাদ্য গুদাম থেকে গত ২৫ জুন ২টি ৮০০ বস্তা ধান ভর্তি ট্রাক খুলনা যাবার পথে রাজাপুর উপজেলার বাইপাস মোড়ে আটক করা হয়। গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাক দুটি আটক করেন রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার। সাথে সাথে মোবাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আঃ ছালামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। উত্তরে আঃ ছালাম জানান, বিষয়টি তার জানা আছে। এটা সরকারি বরাদ্দের ক্রয় করা ধান। ঝালকাঠির মিল মালিকরা খুলনা থেকে চাল বানিয়ে পলিশ করে আবার নিয়ে আসবে। শেষ পর্যন্ত ধানের ট্রাক ছেড়ে দেয়া হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।ড গত ২৯ জুন ঝালকাঠি খাদ্য গুদাম থেকে একই ভাবে আরো ৩ টি ট্রাকে মোট ১২শ বস্তা ধান উঠিয়ে খুলনায় পাঠানো হয়। দুপুরে গুদামের সামনে ধান বোঝাই (ঢাকামেট্রা-১৬০৯৭৩) নম্বর ট্রাকের চালক মো. হাসান জানায়, এই ধান কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে তা তাকে গুদাম কর্মকর্তা তখন পর্যন্ত জানায়নি।

ছাটায়ের ধান খুলনায় পাঠানোর কারন জানতে চাইলে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আঃ ছালাম বলেন, ঝালকাঠির শেখেরহাট ইউনিয়নের আমিন রাইচ মিলের মালিক এ ধান ছাটাইয়ের জন্য তার মিলে নিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমিতো জানি চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকরা তাদের মিলে চাল তৈরীর জন্য ধান নিচ্ছে। খুলনা পাঠানোর বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। ঝালকাঠির চুক্তিবদ্ধ ৭টি মিল মালিকদের নাম ঠিকানা জানতে চাইলে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা ১টি মিলের মোবাইল নম্বর দিয়ে বলেন বাকিদের নাম আমার এই মুহুর্তে জানা নেই। মোবাইলে শেখেরহাট রাইচ মিলের মালিক হালিম ও মাসুদের এ প্রসঙ্গে জানায়, তারা কত টন ধান ঝালকাঠির খাদ্য গুদাম থেকে ছাটাইয়ের জন্য এনেছেন তাদের জানা নেই। আমরা ঝালকাঠি গুদাম থেকে ট্রলারে ধান আনি। ট্রাকে ধান আনতে খরচ বেশি হয়। এপর্যন্ত কত টন ধান এনেছি তার হিসাব গুদামের এসএমও মাজহারুল ও খাদ্য কর্মকর্তা ছালাম স্যার জানেন। ২৯ জুন তারা গুদাম থেকে কোন ধান ট্রাকে নেয়নি বলেও জানায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!