Logo
শিরোনাম :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচেন দলীয় মনোনয়ন পেতে বিতর্কীত টিটুর দৌড়ঝাপ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাজমুল হাসানকে ফুলের শুভেচ্ছা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উজ্জ্বল ঝিকরা ৪নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে ঘাতক বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত। অভয়নগরে মসজিদের পাশে ময়লার স্তুপ হেফ্জখানার শিক্ষার্থীরা বিপাকে আজমীর সভাপতি টুটুল সাধারণ সম্পাদক ঝালকাঠি টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা উজিরপুরের সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন ইউপি সদস্যের যুগিখালীর চেয়ারম্যান প্রার্থীর পোষ্টার ও বিলবোর্ডের মুখমন্ডল গোল করে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা আশাশুনির বড়দলে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে আশাশুনিতে গ্রাম আদালত বিষয়ক সভা

রূপগঞ্জে ব্যবসায়ী হেকমত আলী হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে স্বজন ও এলাকাবাসির মানবন্ধন।

রিপন মিয়া,রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ
অপহরনের ৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কালাদি এলাকার মটরপার্টস ব্যবসায়ী হেকমত আলী (৪০)র মরদেহ উদ্ধার করেন পিবিআই সদস্যরা। আর হেকমত আলীকে পরিকল্পিতভাবে প্রথমে অপহরন, পরে খুন করে তারই দোকানের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম সবুজ। এ ঘটনায় অপহারন মামলার পর মুল অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসি। আর গ্রেফতাকৃতদের দ্রæত বিচারের আঁওতায় এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবীতে শুক্রবার সকালে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদি এলাকায় মানববন্ধন করেছেন তারা। এলাকাবাসির সঙ্গে এ মানববন্ধনে যোগ কাঞ্চন পৌরসভার দেন ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিকুল ইসলাম খান, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রোকন উদ্দিন, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নবী হোসেন, হাফিজুর রহমান, রোকসানা বেগম, নাসির উদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা রহমউল্যাহ প্রমূখ।
এ সময় নিহত হেকমত আলীর স্ত্রী মামলার বাদী রোকসানা বেগম বলেন কোন অবস্থায়ই সবুজ একা এমন খুন করতে পারে না। তার পরিবারের লোকজন আমার স্বামীর দোকান বাগিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবেই এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। তাই সবুজসহ যারা আমার স্বামী হত্যায় জড়িত তাদের ফাঁসি কার্যকর করার দাবী জানাচ্ছি।
এ সময় স্থানীয় কাউন্সিলর রোকন উদ্দিন বলেন, হেকমত আলী খুব ভালো লোক ছিলেন। তিনি কারো সনেই বিবাদে জড়াতেন না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তার কাছের কর্মচারী দ্বারাই এমন ভাবে খুন হয়েছেন। তাই এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবী করছি।

উল্লেখ্য যে, গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের পার্শের উপজেলার কোশাব এলাকার একটি মাছের খামারের বন্ধ ড্রাম থেকে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায় হেকমত আলীর লাশ উদ্ধার করে পিবিআই ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ । নিহত হেকমত আলী উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদি এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে।
মামলার বাদী স্ত্রী রোকসানা বেগম জানায়, হেকমত আলী একজন মটরপার্সের ব্যবসায়ী। ভুলতা নুরম্যানশন মার্কেটে হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো রফিকুল ইসলাম সবুজ। রফিকুল ইসলাম সবুজ কেরাব মোল্লা বাড়ী এলাকার ইয়াকুব মোল্লার ছেলে। ওই কর্মচার্রীটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি তার দখলে নিতে চেষ্টা করার ঘটনায় হেকমত আলীর সঙ্গে দ্বন্ধ ছিলো।
গত ৪ এপ্রিল সকালে রফিকুল ইসলাম সবুজ নিজের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যাবার কথা বলে হেকমত আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আর বাড়ি ফিরেনি। পরিবারের সদস্যরা আতœীয় স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজির পর না পেয়ে আইনের আশ্রয় নেয়। এ ঘটনায় গত ১৪ এপ্রিল রফিকুল ইসলাম সবুজ, রফিকুল ইসলাম সবুজের ভাই মাহাফুজুর রহমান, মামুন মিয়া ও বাবা ইয়াকুব মোল্লাকে আসামীকে করে হেকমত আলীর স্ত্রী রোকসানা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ ও গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে রফিকুল ইসলাম সবুজকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। তবে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি নারায়ণগঞ্জ পিবিআইকে তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। পিবিআই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও আসামীকে নিবির ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটি উদঘাটিত হয়। নিহত হেকমত আলীর দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের এসপি এ আর এম আলিফ জানান, কয়েকদিন আগে মামলাটি তদন্ত করার জন্য আমাদের দেয়া হয়। পরে পিবিআই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও আসামী রফিকুল ইসলাম সবুজকে নিবির ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে আসামী রফিকুল ইসলাম সবুজ হত্যাকান্ডের ঘটনা শিকার করেছে এবং এ হত্যাকান্ড একাই ঘটিয়েছে বলে দাবি করছে। তবে এ হত্যাকান্ডটি একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে পুলিশ ধারনা করছে। ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারে এ জন্য তদন্তের মাধ্যমে খুজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
রফিকুল ইসলাম সবুজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এসপি আরো জানান, শ্বাসরোধে হত্যার পর বস্তাবন্ধির পর একটি ড্রামে ঢুকিয়ে ড্রামের মুখটি সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের পার্শের একটি মাছের খামারে ফেলে দেয়া হয়। নিখোজের প্রায় তিন মাস পর লাশটি উদ্ধার করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!