Logo
শিরোনাম :
শার্শায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নাজমুল হাসানের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন বহদ্দারহাট এখলাছুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটে দিলেন নৌকার প্রার্থী- রেজাউল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবির পৃথক অভিযানে মাদক সহ ৩ জন আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে হত্যা মামলার ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি নলছিটিতে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে কেএম মাসুদ খানের প্রার্থীতা বহালের নির্দেশ সুপ্রিমকোর্টের জেলা ক্রীড়া পরিষদের কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায়ে সক্রিয় না থাকায় যুবকরা আজ মাদকাশক্ত পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের বিভাগীয় টিম’র প্রথম প্রস্তুতিমুলক সভা   চাটমোহরের নব নির্বাচিত পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের অভিষেক অনুষ্ঠান-অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়ি থানার আলমগীর হোসেন ৫ম বারের মত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি মনোনীত বাগেরহাটে ৪৮হাজার করোনা ভ্যাকসিন পাঠাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

তেঁতুলিয়ায় পুলিশ ও শ্রমিক সংঘর্ষের প্রায় এক বছর , প্রকাশ্যে ঘুরছে মুলহোতারা

মোঃ ইমরান হোসেন রাজু ,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর বাজারে পুলিশ ও পাথর শ্রমিকের সংঘর্ষের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু সংঘর্ষের মূলে যে সকল ড্রেজারের হোতারা ছিলেন, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাঁরা । রাতের আধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন অনেকেই ।যাদের বেশিরভাগই বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে বেশ ভালোই আছেন ।কিন্তু তাদের এই ড্রেজারের জন্য আজ পঞ্চগড় জেলায় কর্মহীন হাজারো পরিবারের সদস্যদের বেহাল দশা ।যাদের খবর নেয়নি কেউ ।তাদের দাবি অনুযায়ী এই সকল ড্রেজার মেশিনের মূল হোতাদের এখনো শাস্তির আওতায় আনা হয় নি। অথচ উপজেলার সর্বত্র সবার মুখে মুখে লাইনম্যান হিসেবে পরিচিত সব ড্রেজারের মূল হোতাদের নাম । শুধু তাই নয় বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তাদের নাম উল্লখ করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল।উল্লেখ্য ২০২০ সালের (২৬-জানুয়ারি) রবিবার সকাল নয়টার সময় উপজেলার ভজনপুর বাজারে পুলিশ ও শ্রমিক এক অনাকাঙ্খিত সংঘর্ষে জরিয়ে পরে ।যার ফলস্বরূপ মোঃ জুমারউদ্দিন (৬০) নামের অসহায় শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।পরবর্তীতে তার পরিবার সুত্রে জানা গেছে, মৃত জুমার উদ্দিন পেশায় বাঁশের শ্রমিক ছিলেন । তিনি মানুষের ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ করতো।ঘটনার দিন সকালে বাড়িতে মেহমান আসার খবর পেয়ে বাজারে গরুর মাংস কিনতে যায় ।মাংসও কিনেছিলেন ।কিন্তু মাংস কিনে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ শ্রমিক সংঘর্ষের বলি হয়ে ছিলেন তিনি ।গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ।তাছাড়াও পুলিশ ও র‌্যাবের -১১ জন সদস্য সহ অনেক পাথর শ্রমিক আহত হয়েছিলেন ।পুলিশ, র‌্যাবের চারটি গাড়ি সহ ভাংচুর করা হয়েছিল বেশ কয়েকটি যানবাহন ।যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করে যেখানে একটিতে ৭৬ জনের নাম উল্লখ করে এবং অন্যটিতে অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করা হয় ।ঘটনার কারন ছিল তেঁতুলিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করতো কয়েক হাজার মানুষ । পাশাপাশি পঞ্চগড় জেলা সহ পার্শবর্তী কয়েকটি জেলার অনেক মানুষ এই উপজেলায় পাথরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পূর্ব মূহুর্তে কিছু সংখ্যক অর্থলোভী মাটি কেটে পাথর উত্তোলন করার পরিবর্তে অবৈধ ভাবে পরিবেশ ধ্বংসকারী ড্রেজার মেশিন দিয়ে রাতের আধারে পাথর উত্তোলন করতে থাকে । ফলে প্রশাসন পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় । এতে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পরে।ফলে পাথর শ্রমিকরা সনাতন পদ্ধতিতে ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলনের দাবিতে ঘটনার দিন সকালে পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা মহাসড়ক ভজনপুর বাজারে অবরোধ করে। পুলিশ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে গেলে পাথর শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপসহ তাদের চারটি গাড়ি ভাঙচুর করে শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।চার ঘন্টার বেশি সময় ধরে চলা ব্যাপক সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ । ঐসব অর্থলোভী ড্রেজারের লাইনম্যান হিসেবে পরিচিত মুল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দাবি সাধারণ শ্রমিকদের ।

এ বিষয়ে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেঁতুলিয়া থানা পুলিশের (ওসি তদন্ত) মোঃ আবু সাঈদ বলেন, ঘটনার পর পুলিশ যাদের আটক করেছে তাদের মধ্যে প্রায় ৬০\৬৫ জন জামিনে মুক্ত হয়েছে। করোনা মহামারীর জন্য সামনে তেমন ভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নি ।তদন্ত চলমান রয়েছে ।এতে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!