Logo
শিরোনাম :
সেহরি না খেয়ে রোজা, জেলা প্রশাসকের কাছে চাইলেন খাবার  নিজস্ব অর্থায়নে যুবলীগ নেতা মুফিদুল আলম মুফিজের মাস্ক বিতরণ নাটোরে পর্নোগ্রাফি সংফক্ষন ও সাপ্লায়ের দায়ে পাঁচ কম্পিউটার ব্যাবসায়ী আটক রাণীশংকৈলে দোকান পাট খোলা রাখায় ও মাস্ক না পড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা বাবার মৃত্যু বার্ষিকীতে ছেলের স্মৃতি চারণ বেনাপোল পোর্ট থানায় ২ কেজি গাঁজা সহ আটক ১ গাজীপুরের গাঁছা থানা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবককে হত্যার চেষ্টা বাইশারীতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঘর নির্মাণে কোন অনিয়মের সত্যতা পাননি ইওএনও শার্শায় মোট নমুনা সংগ্রহ ২০১৪, পজিটিভ ৩৩৩, মোট সুস্থ্য ৩১০, মৃত্যু ৩, নতুন আক্রান্ত ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট-গোমস্থাপুর সড়কে আবারও ডাকাতি।। রেহাই পেলোনা গরীব ভ্যান চালক

শত বছর বয়সী ডিম বিক্রেতার খবর নিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব

জসিম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি : গ্রামে গ্রামে পায়ে হেঁটে ঝালমুড়ি, দুধ, ডিম ইত্যাদি খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করেন শত বছর বয়সী মোনছোপ আলী। বয়সের ভারে নুঁয়ে পড়লেও থেমে নেই তার সংগ্রামী জীবনের পথ চলা।
জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন তিনি মাইলের পর মাইল ছুটে চলেন পায়ে হেঁটে। জীবনের শেষ সময়েও সংগ্রামী জীবনে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন তিনি। শত বছর পার করলেও জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড।
বলছিলাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বকুলিয়া গ্রামের ১ শত ২ বছর বয়সের মোনছোপ আলীর কথা।
১৯১৯ সালে বকুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সে অনুযায়ী বর্তমানে তার বয়স ১০২ বছর। তার পিতার নাম- মৃত আব্দুল হামিদ, মাতার নাম- মৃত বেশো বেগম।
স্ত্রী মারা গেছেন প্রায় ২৫ বছর আগে। নিঃসঙ্গ মোনছোপ আলীর চার সন্তানের মধ্যে ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। তার চার সন্তানই বিবাহিত। তিনি বর্তমানে এক ছেলের সংসারে থাকেন।
মোনছোপ আলী জীবনের অধিকাংশ সময় পার করেছেন গ্রামে গ্রামে পায়ে হেঁটে ডিম ফেরি করে। দিন শেষে তার আয় হয় ১০০-১৫০ টাকা। এতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
৬৫ বছর পূর্ণ হলে সরকারি ভাবে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা থাকলেও তিনি পাননা কোন সরকারি সুবিধা। ফলে ছেলের অভাবি সংসারে নড়বড়ে শরীর নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন মোনছোপ আলী।
মোনছোপ আলী বলেন, এখন অনেক বয়স হয়েছে। চোখে ঠিকঠাক দেখতে পায়না। ভাল ভাবে চলতে কষ্ট হয়। গত ৩ বছর ধরে বয়স্ক ভাতার কার্ড করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ধর্ণা দিয়েও কোন লাভ হয়নি।
গেলেই বলে এবারও তোমার কার্ড হবেনা। আজ শুধু একটা কথা জানতে ইচ্ছে করে আর কত বয়স হলে কার্ড পাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, আমার বড় বোনের বয়স ১শত ৫ বছর দুঃখের বিষয় সেও এখনো বয়স্ক ভাতার আওতাই পড়েনি।
ছোট ছোট কন্ঠে মোনছেপ আলী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনিত অনুরোধ যতদিন বেঁচে থাকি তিনি যেন আমাকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেন।

উল্লেখ্য : সম্প্রতি শার্শা উপজেলার এক নিষ্ঠাবান সাংবাদিকের মাধ্যমে ফেইসবুকের পাতায় প্রকাশ পায় মোনছোপ আলীকে নিয়ে ছোট্ট একটি প্রতিবেদন।
পরে শার্শার কৃতি সন্তান দেশ সেরা উদ্ভাবক খ্যাত সমাজ সেবক মিজানের নজরে আসলে বিষয়টিকে সামনে আনেন তিনি। শনিবার দুপুরে চাল, ডাল, তেল সহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে মোনছোপ আলীর বাড়িতে হাজির হন তিনি।
মোনছেপ আলীর বাড়িতে কেন এলেন তিনি জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার ফেইসবুক পেজে আপলোড করার পর নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুস সামাদ ফারুক মহোদয় লিংকে কমেন্ট করে মোনছেপ আলীর বাড়িতে আসতে বলেন এবং তাকে সাহায্য করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে মনস্থির করেন।
সে কারনেই আজ আমার এখানে আসা। আশা করছি খুব দ্রুতই মোনছোপ আলীর জন্য তার বাড়ির পাশেই একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। গ্রামে গ্রামে আর ঘুরতে হবেনা তার।
পাশাপাশি মোনছোপ আলীর বয়স্ক ভাতার জন্য শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেছার আলীর সাতে কথা হয়েছে। তিনি বয়স্ক ভাতার কার্ড দ্রুত করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
উদ্ভাবক মিজান এসময় আরো বলেন, শতবর্ষী এক বাবাকে দেখতে এসেছিলাম। এখানে এসে আরও এক শতবর্ষী মাকে পেলাম। এই মায়ের জন্যও একটি হুইলচেয়ারের পাশাপাশি বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করতে চাই।
সমাজের বৃত্তবান এবং মানবপ্রেমীরা যদি এমন একজন করে শতবর্ষী বৃদ্ধ বাবা মাকে খুঁজে খুঁজে বের করে পাশে দাঁড়ান তাহলে শতবর্ষী বাবার কাঁধে থাকবেনা ডিমের ঝুঁলি, থাকবেনা শতবর্ষী মায়ের কষ্ট।
আমরা সবাই যদি স্বস্ব অবস্থান থেকে তার মতো পরিশ্রমী হতে পারতাম, দেশমাতৃকার জন্য ভূমিকা রাখতে পারতাম! তাহলে আজ বাংলাদেশের অবস্থান থাকতো সুউচ্চ শিখরে।
স্যালুট জানাই আমাদের দেশের আইকন একজন কঠোর পরিশ্রমী মুরব্বিকে যিনি অন্যের কাছে হাত পেতে নয়, পরিশ্রম করে খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন বলেন, মনছোপ আলীর বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। এই মুহুর্তে বয়স্ক ভাতার কার্ড নেই তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তার জন্য একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা করবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!