Logo
শিরোনাম :
নাটোরে পর্নোগ্রাফি সংফক্ষন ও সাপ্লায়ের দায়ে পাঁচ কম্পিউটার ব্যাবসায়ী আটক রাণীশংকৈলে দোকান পাট খোলা রাখায় ও মাস্ক না পড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা বাবার মৃত্যু বার্ষিকীতে ছেলের স্মৃতি চারণ বেনাপোল পোর্ট থানায় ২ কেজি গাঁজা সহ আটক ১ গাজীপুরের গাঁছা থানা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবককে হত্যার চেষ্টা বাইশারীতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঘর নির্মাণে কোন অনিয়মের সত্যতা পাননি ইওএনও শার্শায় মোট নমুনা সংগ্রহ ২০১৪, পজিটিভ ৩৩৩, মোট সুস্থ্য ৩১০, মৃত্যু ৩, নতুন আক্রান্ত ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট-গোমস্থাপুর সড়কে আবারও ডাকাতি।। রেহাই পেলোনা গরীব ভ্যান চালক আশাশুনিতে প্রশাসনের তৎপরতার মধ্যদিয়ে লকডাউন চলছে করোনায় আক্রান্ত রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশাকে ঢাকায় রেফার্ড

দীর্ঘ ২০ বছর বিছানায় শুয়ে আছেন সালেহা পাশে দাঁড়ালেন উদ্ভাবক মিজান

জসিম উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের শার্শায় দীর্ঘ ২০ বছর বিছানায় শুয়ে আছেন সালেহা খাতুন নামে ৭০ উর্দ্ধো এক বৃদ্ধা মা। মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটায় সারাদিন বিছানায় শুয়ে পাগলের মতো বিলাপ করতে থাকেন দিনের অধিকাংশ সময়।
হালকা প্যারালাইসের কবলে পড়ে বিছানগত হওয়ার পর আর বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেননি তিনি। এখন তার দুই হাত এবং পা দুটি বাঁকা হয়ে অবস অবস্থায় আছে।
২০ বছরের মধ্যে বিছানা থেকে উঠতে হয়নি তার তবু তিনি পরিস্কার পরিছন্নতায় সুন্দর পরিবেশে জীবনের অন্তিমকাল পার করছেন। কিন্তু কি আছে এই সালেহা খাতুনের পিছনের গল্পে।
অসহায় সালেহা খাতুনের পিছনের গল্প এবং বর্তমানকে সামনে এনেছেন শার্শার কৃতি সন্তান বারবার পরিবেশ পদক প্রাপ্ত সমাজ সেবক ও দেশ সেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমান।
বুধবার বিকালে পঙ্গু এই বৃদ্ধা মাকে খোঁজ খবর নিতে শার্শার রামপুর গ্রামস্ত তার বাড়িতে হাজির হন তিনি। এসময় সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজকের এই সালেহা খাতুন বিগত দিনে জেলা পরিষদের সহাতায় বনায়ন কর্মসূচীতে ২ বছর মেয়াদিতে চাকরি করতেন।
দীর্ঘদিন চাকুরিতে থাকা অবস্থায় শার্শা থানার চটকাপোতা মোড় হতে জামতলা বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে ৫ হাজার রেইনট্রি গাছ রোপন করেন।
আজ সে সব গাছ মাথা উঁচু করে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও বিধাতার নির্মম পরিহাসে এই বৃক্ষ মাতা ২০ টি বছর শুয়ে আছেন।
সে সময় বৃক্ষ রোপনের কারনে জেলা পরিষদ থেকে অর্থ সহায়তা দেওয়া কথা থাকলেও চাকরি হারানোর কারনে আর তা পাওয়া হয়নি সালেহা খাতুনের।
শেষবার বিগত তিন বছর আগে অর্থ প্রাপ্তির জন্য উপজেলা ডাকবাংলোতে কর্মরত শের আলীর কাছে আবেদন জমা দিলেও এখনো তার কোন জবাব আসেনি।
সালেহা খাতুন ৩ সন্তানের জননী। স্বামী ফকির চান মোড়লও স্ত্রী সন্তানদের কে এতিম করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। চাকরি হারিয়ে স্বামী হারিয়ে মানষিক ভাবে ভেঙে পড়েন এই বৃদ্ধা মা।
মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে প্যারালাইস্ট হয়ে বিছানগত হন তিনি। এর মধ্যে সালেহা খাতুনের দুই মেয়ের বিবাহ হলেও একমাত্র ছেলে মনির হোসেনের বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও তিনি বিয়ে করেননি।
কেন তিনি বিয়ে করেননি তার পেছনেও রয়েছে এক আশ্চর্যজনক গল্প। এদিকে একটি মেয়ে স্বামীর সংসার ফেলে অসহায় মা জননীকে দেখভালের জন্য চলে এসেছে।
মনির হোসেনের ভাবনা স্ত্রী আসলে তার মায়ের দেখাশোনা করতে পারবে না। তাই নিজেদের সুখ শান্তি বিশর্জন দিয়ে দুই ভাই বোন মিলে মায়ের সেবা যত্ন করছেন ২০ টি বছর ধরে।

মনির হোসেন বর্তমানে ইঞ্জিন চালিত মটর ভ্যান চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করেন। অর্থাভাবে চলছে তাদের সংসার। টাকা পয়সার ঠিকঠাক জোগান দিতে না পারায় মায়ের চিকিৎসাও চলছে ঢিলেঢালা ভাবে।
জানতে চাইলে উদ্ভাবক মিজান বলেন, এই মায়ের অসহায়ত্বের কথা শুনে তাকে দেখতে ছুটে এসেছি। ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমার সকল শুভানুধ্যায়ীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি এই মায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
তার অর্থের প্রয়োজন, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং বাসস্থানের প্রয়োজন রয়েছে। এখনো তার হয়নি বয়স্ক ভাতা, নেই প্রতিবন্ধি ভাতাও। জেলা পরিষদ যেন দ্রুত সালেহা খাতুনের বিষয়টি যেন আমলে নেন।
জেলা পরিষদের আওতাধীন শার্শা উপজেলা ডাকবাংলো কর্মকর্তা শের আলী জানান, সালেহা খাতুন অর্থ সহায়তার তিন বছর আগে একটি আবেদন জমা দিয়েছিলো। তার ওই সহায়তা আসেনি তবে নতুন করে আবার আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ বিসয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!