Logo
শিরোনাম :
ষাটগুম্বজ মযজিদে পর্যটক গণ মানছেন না কোন বিধিনিষেধ শিবগঞ্জ শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে জেলা প্রশাসক বাগআঁচড়ায় থানা বিএনপির ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় মধুপুরের বহুল আলোচিত পুলিদা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ৪১দিন পর গ্রেফতার ঝিকরগাছা শংকরপুর ইউনিয়নের সাবেক আলীগের নেতার আকষ্মিক মৃত্যু ঘরোয়া পরিসরে একই পোশাকে ঈদ উদযাপন করলো এক হাজি পরিবার ঝিকরগাছা কুলবাড়ীয়া শংকরপুর ফেরিঘাট জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে ঈদের নামাজ পড়তে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে এক মুসুল্লির মৃত্যু   চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি মোজাফফর হোসেনের ঈদ উল ফিতরের শুভেচ্ছা চাঁপাইনবাবগঞ্জের চুনাখালি-মহাজনপাড়া ঈদগাঁ’র উদ্বোধন: দেশবাসীকে ঈদ উল ফিতরের শুভেচ্ছা

বাবার মৃত্যু বার্ষিকীতে ছেলের স্মৃতি চারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় দৈনিক পুনরুত্থান নাটোর প্রতিনিধি, মোঃ বেল্লাল হোসেন বাবু’র বাবা নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বিনাহার গ্রামের মরহুম গফুর প্রামাণিকের ছেলে আবু বক্কার সিদ্দিক এর আজ ২য় মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি গত ২০১৯ সালের ১৫ ই এপ্রিল সকাল ১০ টায় ইন্তেকাল করেন।

স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বেল্লাল হোসেন বাবু জানান, আমার বাবা আমাদের কে নিয়ে কথা বলতে বলতে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে যান।
বাবা বলতেছিলো বেটা আমার খুব ঘুম আসতেছে,এই ঘুম আমার শান্তির ঘুম।বাবার অতীতের কথা গুলো মনে পড়লে খুবই কষ্ট পাই। এই কষ্ট নিয়ে এখন দিন কাটাচ্ছি। বাবাকে হারানোর দুই বছর পূর্ণ হয়েছে।

বাবাহীন একজন ছেলের জীবন যে কতটা বিয়োগান্ত হয়, তা হয়তো যাদের বাবা বেঁচে আছেন তারা কখনোই বুঝতে পারবে না। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয় সত্যি আমি বড়ই একা। একটু ভালোবাসা দেওয়ার, সান্ত্বনা দিয়ে সামনে চলার প্রেরণা জোগানোর মানুষটি আজ বেঁচে নেই। বাবাকে ছাড়া বাঁচতে পারব এ কখনো কল্পনা করিনি। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন। কেটে যাচ্ছে একেকটি দিন, মাস।

বাবার অনেক স্মৃতি, অনেক কথা, যা ভুলতে পারি না, ভোলা যায় না। বাবাহীন প্রত্যেক দিন একেকটি ঝামেলা, একেকটি একাকিত্ব। ছায়াহীন পথ, আর লক্ষ্যহীন সকল যুক্তি। বাবাকে খুব মনে করছি। বাবার জন্য অনেক কষ্ট হয়। বাবা না থাকাটা যতটুকু কষ্টের, তার চেয়েও বেশি ঝামেলার।

বাবা, তুমি আমাদের সকলকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছ । তুমি বেঁচে থাকতে তোমার গুরুত্ব আমরা কখনো বুঝিনি। আজ আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি তোমার অনুপস্থিতি। তোমার চলে যাওয়া আমাদের জীবনে বিশেষ করে আমার জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি।

আমার আর এই যান্ত্রিক জীবন ভালো লাগে না বাবা। তোমার ছায়ায় যতটা দিন ছিলাম ভালোই তো ছিলাম। ছোট্ট পুঁচকে একটা ছানার মতো জীবনটা এগোচ্ছিল। বাবা আমার মতো এই পুঁচকে ছানার ঘাড়ে এত বড় সংসারের দায়িত্ব কীভাবে দিয়ে গেলে বাবা? আমি আজকাল বড্ড ক্লান্ত হয়ে গেছি বাবা। জীবনের দুইটা বছর তোমাকে না দেখে কাটিয়ে দিয়েছি আমি।

সত্যি ভাবতে বড় অবাক লাগে। জানিনা কীভাবে সময় এত দ্রুত ক্ষয়ে যায় বাবা। সবকিছু যদি ক্ষণিকের জন্য উল্টো হয়ে যেত, খুশিতে আত্মহারা হয়ে যেতাম। কী ফিরে পেতাম জানি না, তবে তোমাকে আবারও ফিরো পেতাম ঠিকই বাবা। ফিরে পেতাম সেই সোনাঝরা আনন্দের দিনগুলো। বুকের পাঁজরে আটকে রাখতাম তোমায় বাবা। যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ বাবা।

জানি না জীবনের খাতায় আর কিছু হারাবার আছে কিনা। তবে তোমাকে হারানোর পরে মনে হয়েছিল দুনিয়াটা বড়ই নিষ্ঠুর একটা জায়গা বাবা। পৃথিবীতে যুগে যুগে একজন মানুষের আবির্ভাব ঘটে। আমার চোখে আমার বাবা তাদের একজন। যিনি সারা জীবন কল্যাণ করেছেন মানুষের। অনেক মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। যিনি জীবনে কষ্ট করেছেন কিন্তু কখনো তার নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। সগৌরবে পাড়ি দিয়েছেন জীবনের ৫৬ টি বছর।

সুখী মানুষের কাছে ৫৬ বছর হয়তো কিছুই না। কিন্তু আমার বাবা জীবনে ৫৬ বছরের প্রতিটি মুহূর্ত সংগ্রামের সঙ্গে পাড়ি দিয়েছেন। গড়ে গেছেন এক বর্ণাঢ্য জীবনের ইতিহাস। আমার লেখনীর মাধ্যমে তার জীবনী বা তাকে সম্পূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলার স্পর্ধা আমার নেই। কোনো কালে হবে কিনা জানি না। বাবার বিবেক আর তার দেখানো পথে হাঁটছি অবিরাম। জানি না এই পথের শেষ আছে কিনা। যদি বা শেষ না হয় এই পথের, ক্ষতি নেই। জীবন তো চলবেই জীবনের মতো। ভয় কী, বাবার আশীর্বাদ আমার সঙ্গেই আছে। বাবা, তোমায় বুকে ধারণ করেই বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেব। তুমি যেখানেই থাকো ভীষণ ভালো থেকো বাবা। তোমার ছেলে তোমার অপেক্ষায়।
আমার বাবার চলাফেরায় কেউ যদি মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন,
আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দিবেন।

আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। -আমিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!