Logo
শিরোনাম :
সাংবাদিক ফয়সাল রাকিব’র জন্মদিন উদযাপন নওগাঁর পোরশা বিষ্ণপুর গ্রামে BNP এর জোড়পূর্বক হাসুয়া রামদার ভয় দেখিয়ে জমি দখল শার্শার বিশিষ্ট বস্ত্র ব্যাবসায়ীর আকষ্মিক মৃত্যু নদী ভাংঙ্গ মেঘনা পাড়ের মানুষের কাছে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম আম রাজ্যের তিন রাজার গল্প নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার কখন সিসি ক্যামরার আওতায় আশাশুনির গুনাকরকাটি দরবার শরীফ মসজিদের দানবক্স থেকে টাকা চুরি চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলার নিষ্পত্তি চায় এলাকাবাসী রূপগঞ্জে সাংবাদিকের রিয়াজের উপর সন্ত্রাসী হামলা, অবস্থা আশঙ্কাজনক ঝিকরগাছা বড়পোদাউলিয়ায় রাস্তা দখল করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

আশাশুনির বিভিন্নস্থানে পাউবো’র বেড়ীবাঁধ ভেঙে ও ওভারফ্লো হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

বি এম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্তত ২০টি পয়েন্টে পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ও ওভারফ্লো হয়ে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

উপজেলার ২০ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ ঝুঁকিতে থাকায় এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদ-নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া উপকূলবর্তী এলাকায় চলতে চলতে দুপুর ১২ টার দিকে প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে দু’টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ওভারফ্লো হয়ে ভেতরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্রবল বেগে পানি ভিতরে ঢুকতে শুরু করে। প্রায় ৩০০ ফুট মত বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যতলা, চাকলা, কল্যাণপুর, রুইয়ের বিল, আনুলিয়া ইউনিয়নের নাকনা সহ ৬টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ওভারফ্লো হয়।

আশাশুনি সদর ইউনিয়নের বলাবাড়িয়া, জেলেখালী, মানিকখালী, শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালি, পুইজালা, কাকড়াবুনিয়া, কলিমাখালী, বড়দলের কেয়ারগাতি, বানমনডাঙ্গা, খাজরার গদাইপুর, কাদাকাটির আদর্শগ্রাম সংলগ্নসহ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ও ওভারফ্লো হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, পাাউবো’র কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ, প্রশাসন ও স্থানীয় জনসাধারণ সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ রক্ষার কাজে এগিয়ে যান। আশাশুনি উপজেলায় ১১০ কিঃমিঃ পাউবো’র বেড়ী বাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে ২০ কিঃমিঃ বাঁধের অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

বছরের পর বছর এই ২০ কিঃমিঃ বাঁধ টেকসই করার দাবী জোরালো ভাবে উচ্চারিত হলেও অদ্যাবধি সেটা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলেন, প্রতাপনগরে জাইকার উদ্যোগে বাঁধ রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।

ফলে সেখানে বাঁধ ওভারফ্লো ও ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটেছে। টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মান ও বাঁধের লেবেল উচু না করা হলে এমন ঘটনা প্রতি বছর ঘটতেই থাকবে বলে তারা মনে করেন। আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বলেন, ইয়াসের ঝুঁকি থাকায় এলাকার ঝুকিপূর্ণ স্থানে বাঁধ রক্ষার জন্য জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঝুকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আমরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে বাঁধ রক্ষার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছি। উপজেলা নির্বাহি অফিসার নাজমুল হুসাইন খাঁন বলেন, কয়েকটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে এবং ওভারফ্লো হয়েছে। কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ রক্ষা করা হবে। সাইক্লোনের ছোবল থেকে প্রাণহানি রোধে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২৬টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও ৮০টি সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মেডিকেল টিম সকল এলাকায় দায়িত্বরত আছে।

জেলা প্রশাসন মহোদয় দুর্যোগ কবলিতদের সহায়তার জন্য প্রতি ইউনিয়নে ২৫ হাজার টাকা করে রিজার্ভ বরাদ্দ দিয়েছেন। গোখাদ্য বাবদ ১ লক্ষ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ১ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আলমগীর হোসেন জানান, প্রতাপনগর, শ্রীউলা, আশাশুনি সদর ইউনিয়নে অনেক স্থানে ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ও ওভারফ্লো হয়েছে। তাৎক্ষণিক ভাবে ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বাঁধ রক্ষা ও ওভারফ্লো ঠেকাতে কাজ করা হচ্ছে।

দ্রুত বাঁধ সংস্কারের কাজ করা হবে। এদিকে, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানজিরুল ইসলাম। এসময় তিনি জেলা প্রশাসকের সার্ভিস দিকনির্দেশনায় আশাশুনি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ নির্মাণ ও প্লাবিত মানুষের খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!