Logo
শিরোনাম :
শার্শায় ভাই ভাই ফার্মেসির শুভ উদ্বোধন গর্জনিয়ায় বাড়ি ভাংচুর মারধোর অপহরণ ও হত্যার হুমকি আলোচনার শীর্ষে টিউবওয়েল মার্কার প্রার্থী জাকির হোসেন চৌধুরী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টিতে রাস্তার বেহাল দশা; সচেতন মহলের দাবি দ্রুত সংস্কারের চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নবাসী স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিএমএসএফ’র উদ্যোগে দোহারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন বাঁশখালীতে বাস সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন গুরুতর আহত কালো জাম মানব দেহে রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে করে শার্শা উপজেলায় সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাটগ্রামে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে প্রতিবেশী শ্বশুর- বউমা উধাও!

অবেসশন আকাশ পরিচ্ছন্ন

লেখক সায়মা জাহান সরকার

সকালের আলো চারপাশের গাছগাছালিতে ঝলমল করছে। নরম কচি আলো কার না ভালো লাগে!
যারা ঘুম থেকে দেরিতে ওঠে প্রকৃতির এমন কোমল সৌন্দর্য দেখার সুযোগ তাদের ঘটে না।নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করছে তাসফিয়া।
বেলকনিতে এসে দাঁড়িয়েছে।চারপাশে নরম স্নিগ্ধ আলোর ঝলকানি। কাঁচারোদে বেলকনির গ্রিল ঝাঁপিয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে তাসফিয়ার দেহ।আলতো ছোঁয়া লাগছে শান্ত মনের গহীন কোণে।
একটি কাক আকস্মিক উড়ে এসে গ্রিলের ওপর বসেছে।
এতো কাছে কাক এসে বসে!ইস্ কী ময়লা! কা কা ডাক জুড়ে দিয়েছে কাকটি।
বেলকনিতে রয়েছে কোমর সমান দেয়াল।দেয়ালের ওপর দিয়ে একটি কালো সরু লাইন,এ-মাথা থেকে ও-মাথা পর্যন্ত বিস্তৃত -লাইনটি কালো পিঁপড়ের। পিঁপড়ের দল সারিবদ্ধভাবে যাচ্ছে, চলমান একটি কালো রেখা যেন হেঁটে যাচ্ছে।
একদল পিঁপড়ে একটি মরা টিকটিকির দেহখন্ড নিপুণ ঢংগে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। গড়িয়ে গড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে টিকটিকির দেহখন্ডটি।কাকটি আচমকা নড়ে ওঠে। দেয়ালের ওপর দিয়ে গড়িয়ে যাওয়া টিকটিকির দেহখন্ডটি ছোঁ মেরে পাখা ঝাপটিয়ে উড়াল দেয়।পাখা ঝাপটানোর সাথে সাথে পঁচা ময়লার গুঁড়া তাসফিয়ার মুখে এসে পড়ে।ভয়াবহ চিৎকার দেয় তাসফিয়া। যে কেউ তা শুনে ভাবতে পারে ভয়াবহ কোনো বিপদ ঘটেছে। মুহুর্তের মধ্যে ছুটে আসে বাথরুমে, মুখ ধোয়।প্রথমে পানি দিয়ে ধোয় তারপর সাবান নেয়-লাইফবয় গোল্ড। পুনরায় লাইফবয় গোল্ড মুখে ঘষে। চোখের পাতার ওপর থেকে ওড়না দিয়ে সাবানের ফেনা মুছে নেয়।পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায়। লুকিং গ্লাসে ফেনা মুখে নিজেকে দেখে।ধোয়ার জন্য উদ্যত হয়ে নিজেকে থামায়।মনে মনে ভাবে -সাবান আরেকটু থাকুক। বেশিক্ষণ না থাকলে জীবাণু মারা যাবেনা।প্রায় বিশ মিনিট সাবান মুখে বাথরুমে দাঁড়িয়ে থাকে তাসফিয়া। এবার মুখ ধোয়।ভালো করে ঘষে ঘষে সাবান তুলে নেয়।নিশ্চয়ই জীবাণু চলে গেছে। লুকিং গ্লাসের পাশে ঝোলানো আছে পরিষ্কার তোয়ালে।তোয়ালেটি হাতে নিয়ে মুখের পানি মুছে নেয়। অনেকক্ষণ তোয়ালেটি মুখে চেপে রাখে।
ওহ!শান্তি!! জীবাণু তাড়িয়ে শান্ত হয় তাসফিয়া। ফিরে আসে বাথরুম থেকে। দরজার চৌকাঠ পেরোনোর সাথে সাথে তার মনে হয়,’না জীবাণু যায়নি।জীবাণুগুলো মুখে লেগে আছে এখনো।’কথাটি মনে জাগার সাথে সাথে বাথরুমে ঢু্কে যায়, আবারও সাবান মাখে,অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।ফিরে আসতে গিয়েও পারেনা।আবার পানি ঢালে মুখে।আবার।বারবার।সময় গড়িয়ে যায়।টের পায়না তাসফিয়া।রুমে একা সে।বাথরুমও সংযুক্ত আছে বেডরুমের সাথে। কেউ খবর নেয়না,অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ডাকেনা।তাসফিয়া! এই তাসফিয়া! কোথায় তুমি!ডাকতে ডাকতে মা রুমে ঢোকেন। তাসফিয়া রুমে নেই।বাথরুমের দরজা খোলা।দরজা খোলা রেখে বাথরুমে কি করে সে?ডাকতে ডাকতে মা বাথরুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। দ্রুত এসো তাসফিয়া। সবাই ডাইনিং টেবিলে বসা।তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। বলে মা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালেন। তাসফিয়া মুখ ধোয়া বন্ধ করে মা’র দিকে তাকায়।তাকিয়ে বলে, এত তাড়াতাড়ি নাস্তা কেন মা? ক’টা বাজে?বলিস কী?ন’টার ঘর পেরিয়ে যাচ্ছে ঘড়ির কাটা।তুই বলছিস এতো সকাল!মা বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকে।।সকল কাজে তাসফিয়ার একটু দেরি হয়,মা তা জানেন।আজ এতো দেরি হচ্ছে! মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বল্লেন,তাড়াতাড়ি করো।মায়ের তাড়া খেয়ে ফিরে আসার জন্য পা বাড়ায়। থমকে যায় আবারও।মনে আবারও চিন্তা আসছে -‘এখনো জীবাণু লেগে আছে। ‘নাহ্ প্রবোধ দেয় তাসফিয়া। অনেকক্ষণ ধুয়েছে সে।আর জীবাণু থাকার কথা নয় ।বার বার ধুয়েছে সে।নিশ্চিত সে জীবাণু নেই।তবুও মনের ভেতর থেকে চিন্তা জেগে ওঠছে।ইচ্ছের বিরুদ্ধে কথাটি বারবার মনে ভেসে উঠছে।কথাটি ঠেকাতে চেষ্টা করছে তাসফিয়া, পারছেনা ঠেকাতে যাতনা হচ্ছে তার।বুঝতে পেরেছে কথাটির কোনও ভিত্তি নেই,নেই কোনও বাস্তবতা। বুঝতে পেরেছে পুরোপুরি অযৌক্তিক চিন্তা এটি। তবুও চিন্তাটি আটকাতে পারছেনা।এটি বাহির থেকে মনে ঢোকে না।নিজ মনের ভেতর থেকেই এমন অযৌক্তিক চিন্তা জেগে ওঠে।তবুও এবার নিজেকে দৃঢ় করে।আর মাত্র একবার ধোবে।ব্যাস।সত্যি সত্যি পেরেছে সে।একবার ধুয়ে দ্রুত বেলকনিতে আসে।
বাহিরে কচি রোদ আর নেই।দিনের আলো এখন বেশ কড়া হয়ে উঠেছে, মনে হচ্ছে যৌবনে পা দিয়েছে। পিঁপড়ের দল লাইন ধরে ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। কাকটিও নেই।কাকের দল দূরে আড়ালে লুকিয়ে আছে। কেবল তাসফিয়ার সময় বয়ে গেছে, অনেকটা বয়ে গেছে। টেরই পায়নি সে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!