Logo
শিরোনাম :
শাজাহান খান আগামীতে শেখ হাসিনারও পদত্যাগ চাইতে পারে। দোহার প্রেসক্লাব নির্বাচন: প্রতীক বরাদ্দ শার্শায় ভাই ভাই ফার্মেসির শুভ উদ্বোধন গর্জনিয়ায় বাড়ি ভাংচুর মারধোর অপহরণ ও হত্যার হুমকি আলোচনার শীর্ষে টিউবওয়েল মার্কার প্রার্থী জাকির হোসেন চৌধুরী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টিতে রাস্তার বেহাল দশা; সচেতন মহলের দাবি দ্রুত সংস্কারের চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নবাসী স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিএমএসএফ’র উদ্যোগে দোহারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন বাঁশখালীতে বাস সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন গুরুতর আহত কালো জাম মানব দেহে রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে করে

বগুড়া আদমদীঘিতে বিধবা ভাতার কার্ডটি ফেরত দিতে চান লাজিনা বেওয়া

হুমায়ুন আহমেদ
ষ্টাফ রিপোটার,আদমদীঘি বগুড়াঃ
অনেক অসহায় মানুষ যখন ঘুষ দিয়েও যখন বিধবা ভাতার কার্ড পাচ্ছেন না ঠিক তখন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার লাজিনা বেওয়া নামের এক বিধবা নারী সেই ভাতার কার্ড ফেরত দেয়ার সীদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ধুলাতইর গ্রামের মৃত হাদিস আলীর স্ত্রী। আজ সন্ধ্যায় পারিবারিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তার ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিধবা লাজিনা বেওয়া কালের কণ্ঠকে জানান, ১৯৮২ সালে মাত্র ১০ শতাংশ সম্পত্তি রেখে স্বামী হাদিস আলী মারা যান। মাত্র ২২ বছর বয়সে বিধবা হন তিনি। ছোট দুটি মেয়ে ও ৬ মাস বয়সী ছেলে মামুনুর রশিদ মামুনকে আকড়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। ছেলে-মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে ১৯৯৮ সালে বিধবা ভাতার তালিকাভুক্ত হন। অনেক কষ্টের মাঝেই মেয়ে দুটিকে বিয়ে দেন। এদিকে ছেলে মামানুর রশিদ মামুন পড়াশোনা শেষ করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ২০১৪ সালে মাত্র তেত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে সরকারিভাবে (জি টু জি পদ্ধতিতে) মালেয়শিয়ায় পাড়ি জমান। দু’বছর পর দেশে ফিরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে চাকরি পান। এতে তার পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। তিনি আরো জানান, যখন বিধবা ভাতা তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন তখন মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ‘যদি কখনো সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসে, তাহলে বিধবা ভাতার কার্ডটি ফেরত দিবেন’। আজ তার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি কার্ডটি ফেরত দিতে চান। কষ্টের দিনে এমন সহযোগিতা পাওয়ায় সরকারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, সবাই যখন পেতেই ব্যস্ত তখন তিনি ফেরত দিতে চান। এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক ঘটনা। এ ইউনিয়নে আগে এভাবে কেউ কার্ড ফেরত দেয়নি। সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই নারীর ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন বিষয়টি মুঠোফোনে আমাকে নিশ্চিত করেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফ উদ্দীন মুঠোফোনে জানান, দেশে এমন মানুষ বিরল। এ উপজেলায় এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। বিধবা ওই নারীর এমন সিদ্ধান্ত খুব ভালো লেগেছে। তার হিসাব বন্ধের জন্য আবেদন চাওয়া হয়েছে। আবেদন পেলে ওই হিসেব বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে এখান থেকে অন্যদের শিক্ষা নেয়া উচিৎ ‘প্রয়োজন ছাড়া কোনো কিছু নেয়া ঠিক নয়।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!