Logo
শিরোনাম :
সাভার ওয়াইএমসিএ যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত সৌদিতে বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রবাসির মর্মান্তিক মৃত্যু সাভার ইউনিয়নের ৮টি মসজিদে আর্থিক অনুদান প্রদান করলেন মাজহারুল ইসলাম রুবেল চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্ট ভুক্ত ১০ আসামি গ্রেপ্তার আশাশুনিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশেষ আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায়; ওসি গোলাম কবির নৌকা বিজয়ের লক্ষে ঝিকরগাছা শংকরপুরে ঐক্যের ডাক বারদী ৯নং ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় জাকির সরকার এর গনসংযোগ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাখি উদ্ধার করলো শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাটকেলঘাটায় যুবলীগের আয়োজনে শান্তি ও সম্প্রীতি মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত শার্শার নাভারণে জাতীয় সড়ক দিবস পালিত

ঝালকাঠিতে পিতা কতৃক পুত্রকে হত্যা, বিচারের দাবিতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

ইমাম বিমান :

ঝালকাঠির রাজাপুরে পুত্র হত্যার ঘটনায় বাদী হয়ে পিতার মামলা দায়েরর ঘটনায় পুলিশি তদন্তে বাদী পিতাই যখন পুত্র হত্যা মামলার আসামী। আর সেই পাষন্ড পিতার শাস্তির দাবীতে স্বজন ও এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন করেছে। ০৫ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাব সম্মেলন কক্ষে আলামিন (২০) হত্যা বিচারের দাবীতে নিহত আলামিনের পিতা আমির হোসেনের বিরুদ্ধে আলামিনের স্বজন ও এলাকাবাসীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানাযায়, জেলার রাজাপুর উপজেলাধীন কানুদাসকাঠি গ্রামের মো: আমির হোসেন তার নিজ পুত্র সিরাজুল ইসলাম ওরফে আলআমিন (২০) কে ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে পিতা হয়ে নিজ সন্তানকে মেরে ফেলে। আবার পুত্র হত্যার অভিযোগ এনে পিতা নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। নিচে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

” ভাড়াটে লোকজন দিয়ে পুত্রকে হত্যা করে পিতা, ন্যয় বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ”

রাজাপুর উপজেলার কানুদাসকাঠি গ্রামে মো. আমির হোসেন তার পুত্র সিরাজুল ইসলাম ওরফে আলআমিন (২০) কে ৫০হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে হত্যা করায়। নিজেই আবার হত্যা মামলার বাদী হয়ে দু’জনকে আসামী করে রাজাপুর থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তকালে এসআই মিজানুর রহমান পিতা আমির হোসেনসহ ৭জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলার বিচারকার্যক্রম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান আছে। আমির হোসেন মামলায় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত করতে বিভিন্ন স্থানে ও লোকজনের কাছে দৌড় ঝাপ করছেন। পুত্র হারানোর শোকে নিহত আল আমিনের মা মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। আমরা তার পরিবারের পক্ষ থেকে মহামান্য আদালত ও সরকারের কাছে ন্যায় বিচার দাবী করছি।

সিরাজুল ইসলাম ওরফে আলআমিন (২০) পিতা- আমির হোসেন, গ্রাম- কানুদাসকাঠি, থানা রাজাপুর, জেলা- ঝালকাঠি। গত ০৩-০৭-২০০৯ তারিখে হত্যার স্বীকার হয়। এঘটনায় আমির হোসেন বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় পরেরদিন ওই এলাকার হারুন অর রশিদ ও মন্টুকে আসামী করে মামলা (নং ০২, তারিখ- ০৪-০৭-২০০৯) দায়ের করেন। হত্যাকান্ডের সময় আলআমিনের পরিহিত লুঙ্গির গোচরে থাকা মোবাইল (নোকিয়া ১১০০) সেটটি পরে গেলে তার সুত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মোজাম্মেল আকনকে গ্রেফতার ও মোবাইল উদ্ধার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) রাজাপুর থানার এসআই মিজানুর রহমান। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দেয় মোজাম্মেল আকন। জবানবন্ধিতে তিনি আমির হোসেনের সাথে ৫০হাজার চুক্তিতে ৬জনে মিলে হত্যাকান্ড পরিচালনা করে। এ হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ড আমির হোসেন মাস্টার উল্লেখ করে মোজাম্মেল আকন আদালতকে জানায়, মো. আমির হোসেনের অবাধ্য সন্তান আলআমিন। পিতার কাছে ৫লাখ টাকা দাবি করেছে। ওর দাবিকৃত টাকা না দিলে তাদের উপর জুলুম নির্যাতন চালাবে। তাই তাকে হত্যা করতে না পারলে আজীবন এ নির্যাতন সহ্য করতে হবে। এজন্য আলআমিনকে খুন করতে আমাদের ৫জনকে দায়িত্ব দেয়। ৫০হাজার টাকা ব্যায়ে সে আমাদের সাথে চুক্তি করে। ঘটনার দিন (০৩-০৭-২০০৯ তারিখ) রাতে তাকে খাবারের সাথে ঘুমের ওষু খাইয়ে অচেতন করার দায়িত্বও পালন করে আমির হোসেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী অচেতন জ্বালামিনকে ঘর থেকে রাত ১১টায় গলায় তোয়ালে দিয়ে নামিয়ে নেয় রুহুল গাজী ও মোজাম্মেল আকন। অচেন অবস্থায় থাকায় আলআমিন চিতকার করতে না পারায় তাকে দরজায় নেয়া মাত্রই রুহুল, মোজাম্মেল, মজিবর, রশিদ, কুদ্দুস, বাবুল ঝাপটিয়ে ধরে আলামিনেরর গলায় তোয়ালে পেঁচিয়ে শোয়াইয়ে ফেলা হয়। এসময় আমির হোসেন ১০/১৫হাত দূরে দাড়িয়ে থেকে তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ আলআমিনের লুঙ্গি খুলে গেলে গোচরে থাকা মোবাইলটি পরে যায়। সবাই ধরে টেনে হিচড়ে নিয়ে শোয়াইয়া মোজাম্মেল আকন চাপাতি দিয়ে আলআমিনকে জবাই করে। মজিবর ও আইন শ

রুহুল গাজী ও রশিদ বুক, হাত, বাহু, মাথা চেপে ধরে। বাবুল ও বেলায়েত টর্চ লাইট জ্বালিয়ে হত্যায় সহযোগিতা করে। হোসেনের নির্দেশে লাশ খালের ভিতরে ফেলে দেয়া হয়। এসময় হত্যাকারীরা এলাকা থেকে উল্লাস করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আলামিনের ব্যবহৃত মোবাইলটি সিম পিরবর্তন করে ব্যবহার করি। একই স্বীকারোক্তি দিয়েছে হত্যাকান্ডে অগ্রভাগে অংশনেয়া মজিবুর রহমান মন্টু ও আব্দুর রশিদ বড় মিয়াও।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই মিজানুর রহমান সার্বিক তদন্ত কার্য সম্পন্ন করে ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র (নং- ৬৫, তারিখ- ২৫-০৭-২০১০) দাখিল করেন। মামলার তদন্তকার্য চলাকালে আ. রশিদ বড় মিয়া মারা যাওয়ায় তাকে এ মামলার বিচারকার্য থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন আইও। মামলার অপর আসামী আইউব আলী ও কুদ্দুস গাজী ইতিমধ্যে মারা গেছেন। এমামলার বিচার কার্যক্রমে প্রধান পরিকল্পনা ও হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী আমির হোসেন নিজেকে নির্দোশ প্রমাণ করে মামলা থেকে খালাস পেতে বিভিন্ন অপকৌশল চালাচ্ছে। পুত্র হারা শোকে মা মানসিক বিকারন্থ অবস্থায় আছেন সেই থেকেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!