Logo
শিরোনাম :
সাভার ওয়াইএমসিএ যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত সৌদিতে বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রবাসির মর্মান্তিক মৃত্যু সাভার ইউনিয়নের ৮টি মসজিদে আর্থিক অনুদান প্রদান করলেন মাজহারুল ইসলাম রুবেল চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্ট ভুক্ত ১০ আসামি গ্রেপ্তার আশাশুনিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশেষ আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায়; ওসি গোলাম কবির নৌকা বিজয়ের লক্ষে ঝিকরগাছা শংকরপুরে ঐক্যের ডাক বারদী ৯নং ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় জাকির সরকার এর গনসংযোগ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাখি উদ্ধার করলো শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাটকেলঘাটায় যুবলীগের আয়োজনে শান্তি ও সম্প্রীতি মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত শার্শার নাভারণে জাতীয় সড়ক দিবস পালিত

অসুস্থ মজিদের চিকিৎসায় পাশে দাড়ালেন আকরাম হোসেন বাদশা

রোমান আহমেদঃ গাজীপুর

অল্পই জমি কিনেছিলো মজিদ মিয়া তাও আবার ১৫ বছর হলো। দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে একটি টিনের ছাপড়া দিয়ে সন্তান সন্ততি নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। কি একটা ফ্যাক্টরিতে কাম করতে গেলো তার পর তারপর থেকেই এই অবস্তথা। ঘরের বিতর প্রচন্ড উত্তাপ তাই প্রায়ই ঘর থেকে বেরিয়ে এসে উঠোনের পাশেই ইট সলিং করা রাস্তায় পাটি বিছিয়ে শুয়ে থাকে।

পায়ে পচন আর দুর্গন্ধ সঙ্গী করেই নিদারুন কষ্টে দিনের পর দিন কাটাচ্ছেন আব্দুল মজিদ। এরই মধ্যে পচনে পোকা ধরেছে সে পায়ে। এখন এক বেলা ওষুধ কেনার সামর্থ নেই তাঁর। কান্না থামাতে বৃদ্ধা স্ত্রী পা থেকে পোকা বের করেন। এখন শুধু মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তিনি
একটু শান্তির অবকাশ খোঁজতে। মাঝে মাঝে এতো জোরে চিৎকার করে আর বলে আমাকে পা কেটে দাও আমি শান্তি পাচ্ছিনা। এমন কষ্টের বুক চাপা আর্তচিৎকারের বিবরণ দিচ্ছিলেন
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিন বাগমারা ছাপড়া মসজিদ এলাকায় অসুস্থ মজিদের প্রতিবেশীরা।নিজ বাড়িতে শুয়ে শুয়ে এমন আর্তনাদ করে যাচ্ছেন আবদুল মজিদ।

৮ই অক্টোবর ২০২১ইং রোজ শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বাগমারা ছাপড়া মসজিদ এলাকায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন আকরাম হোসেন বাদশা।

এসময় চিকিৎসা ও পারিবারিক খরচের জন্য নগদ টাকার পাশাপাশি চিকিৎসা চলাকালে যাবতীয় ঔষধ পাওয়ার ব্যবস্থা করে যান।
উপজেলার শ্রীপুর পৌর এলাকার ২নম্বর ওয়ার্ডের বাগমারা ছাপড়া মসজিদ এলাকার অসুস্থ আব্দুল মজিদের এমন করুন পরিস্থিতির খবর জানতে পেয়ে শ্রীপুরের গরীব দুঃখী মানুষের নির্ভরতা ও আস্থার প্রতিক মানবিক মানুষ মানবতাকে ফেড়ি বেড়াচ্ছেন পুরো শ্রীপুর অঞ্চল জুড়ে।সেই আকরাম হোসেন বাদশা।
মজিদ মিয়ার এমন পরিস্থিতি দেখে তাৎক্ষণিক এর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন তিনি।পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি মজিদ মিয়ার দেখাশোনার জন্যও স্থানীয় দুইজন ব্যক্তিকে দ্বায়িত্ব দিয়ে যান।

আবদুল মজিদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলের মেরাহনা গ্রামে।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, পনের বছর আগে এ গ্রামে একটু জমি কিনে একটি টিনের ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছেন মজিদ মিয়া। তাদের ছোট্ট ঘরে ৩মেয়ে ও ১ছেলে আছে।

স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, আব্দুল মজিদ মিয়া অনেকদিন পূর্বে একটি পোশাক কারখানায় লেবার হিসেবে কাজ করতেন। এর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন। কিছু দিন যেতেই হাতে পায়ের চামড়া উঠতে শুরু করে। পরে বিভিন্ন ওষুধ খেলেও কোনো উপকারে আসেনি। কিছু দিন পর পায়ে বড় বড় ঘাঁ দেখা দেয়। আর কিছু দিন যেতেই পচন ধরে সে পায়ে পোকা ধরে ফেলে। এখন পচন আর পোকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এখন এক বেলা ওষুধ খাওয়ার সামর্থ্য নেই। নিদারুন কষ্টে জীবনযাপন করছে তাঁরা। ছোট ছেলের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে তিন হাজার টাকা বেতনে না পাড়ছে চিকিৎসা চালাতে না পাড়ছে সংসার টানতে! কখনো কখনো না খেয়েই তাদের দিন কাটে।

অসুস্থ আবদুল মজিদ জানান, কোনাবাড়িতে একটি পোশাক কারখানার জিন্সের প্যান্ট তৈরির কেমিক্যাল মিশ্রিত পানিতে কাজ করতেন। পরে অসুস্থতা দেখা দিলে তিনি চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন। কিছু দিন যেতেই হাত পায়ে ঘাঁ দেখা দেয়। দিন দিন সে ঘাঁ বাড়তে থাকে। এক সময় পায়ের ঘাঁ বাড়তে বাড়তে পচন ধরে গেছে। তিনি জানান, একটি ছেলে তিনটি মেয়ে তাঁর সংসারে। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। তবে তাঁদের কোনো যত্ন খোঁজ খবর নেয়না। ছেলেটি ছোট্ট। অন্যের দোকানে ৩ হাজার টাকায় চাকরি করে। তিনি কথা বলতে বলতে কান্না শুরু করে দেন। তিনি আতর্নাদ করে বলেন “বাবাগো আমার পাওডা কাইট্টা দেইন।বিষের যন্ত্রনায় বেচে থাকবে বড় কষ্ট হচ্ছে! এমন সময় তিনি চিকিৎসার কথা শুনতে পায় কেও একজন তার চিকিৎসা করাচ্ছে। নিমিষেই চোখ দুটো ছলছল হয়ে যায় পানিতে। মানব প্রেমিক মানবতাকে ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ করে মানুষের কাছে বিলিয়ে দিচ্ছেন। আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন।

মজিদের স্ত্রী বেগম তারা বিবি বুক চাপা কান্না কন্ঠে বলেন একটি পুত হেরে স্কুলে দিছিলাম। কিন্তু টেহার অভাবে পড়া বন্ধ। মাইনসের দোহান(দোকান) কাম করে। তিনার ওষুধই কিন্তারি না বই খাতা কেমনে কিনাম ? এক সময় তিনি হাউমাউ কাঁদতে থাকেন। তিনি বলেন মেয়েরা স্বচ্ছল কিন্তু কোনও খুঁজ খবর ই রাখে না। সারা দিনে বহুবার পচন থেকে পোকা বের করতে হয়। দুর্গন্ধ আর অনটনেই কাটে আমাদের দিন। তিনি আরও বলেন স্বামীর চিকিৎসা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন আমি কৃতজ্ঞ আপনার প্রতি। আপনার মতো মানুষ বেচে আছে বলেই আমাদের মতো গরীব নতুন করে বেচে থাকার গল্প লিখতে জানি ।আল্লাহ আপনার কল্যাণ দান করুক। এর উত্তম প্রতিদান আপনি পাবেন ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও

দাবি জানিয়ে বলেন সরকার যদি একটু তাঁর (স্বামীর) চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো তাহলে খেয়ে না খেয়ে তাদের নিয়ে কাটিয়ে দিতাম।

এসময় আকরাম হোসেন বাদশা সাহেবের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন কলামিস্ট ও পরিবেশ বিদ সাইদ চৌধুরী, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার রাজিবুল হাসান,খবর বাংলাদেশের প্রতিনিধি সোহাগ, দৈনিক তৃতীয় মাত্রার গাজীপুর বিশেষ প্রতিনিধি মুহিদুল আলম চঞ্চল সহ আরও অনেকে।

এসময় আকরাম হোসেন বাদশা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন মানুষ মানুষের জন্য এটার আমার কাছে চিরন্তন সত্য বাণী। একজনের বিপদে পরলে অন্যজনকে সহযোগিতা করবে এমনটাই হওয়া উচিত। এই বৃদ্ধ লোকটি আজ পা হারাতে বসেছে! কি নিদারুণ কষ্ট তার জীবন কাটাতে হচ্ছে তার। অনেকেই বিত্তবান আছেন যারা ইচ্ছে করলেই এই মানুষটির পাশে দাড়াতে পারেন। আপনাদের সহযোগিতায় পুরো একটি পরিবার হাসতে পারবে আবার নতুন করে।আমি আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো। যাতে এই ব্যক্তি চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে হাসতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!