Logo
শিরোনাম :
রূপগঞ্জে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের পর হত্যা; খুনি গ্রেফতার শার্শায় নৌকার মনোনয়ন জেরে হামলা: ইউপি সদস্যসহ আহত ২০ রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কলামিস্ট মীর আব্দুল আলীমের পিতৃবিয়োগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে ফায়ার সার্ভিসের অনন্য দৃষ্টান্ত ; জীবন বাঁচালো শালিক পাখির পটুয়াখালীর দশমিনায় ছাত্রদলের কর্মিসভা অনুষ্ঠিত আহমদিয়া ডলমপীর (রাঃ) সিনিয়র মাদ্রাসায় বার্ষিক ঈদে মিল্লাদুদ্নবী (সাঃ) সম্পন্ন মধুপুরে আনারস ও পেয়ারা প্রক্রিয়াজাতকরণে উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রশিক্ষণ পাটকেলঘাটায় যুবঐক্য পরিষদের আয়োজনে গণঅনশন-গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল সাভার ওয়াইএমসিএ যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত সৌদিতে বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রবাসির মর্মান্তিক মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী শিক্ষিত যুবক তুষার

ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বছর তিনেক আগে শখের বসে দু’টি ছাগল পালন শুরু করেছিলেন শিক্ষিত বেকার যুবক সারওয়ার হোসেন তুষার। এখন তার খামারে ছাগলের সংখ্যা ৫০ টি। যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা। তার খামারে দেশি ছাগলের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশি প্রজাতির ছাগল। তুষারের সফলতা দেখে অনেকেই ছাগলের খামার করতে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের গোয়ালটুলি গ্রামের তার বসত বাড়ির পাশেই গড়ে তুলেছেন টু-টেক ফার্ম নামে ছাগলের খামার। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় শখের ছাগল পালন এখন তার পেশা।

টু-টেক ফার্মের স্বত্বাধিকারী সারওয়ার হোসেন তুষার, ‘২০১৫ সালে হিসাব বিঞ্জানে মাস্টার্স পাসের পর নানা রকম প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও চাকুরির জন্য ছুটাছুটি না করে নিজে উদ্যেক্তা হয়ে ছাগল পালনে ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি তিনি ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) শেষ করে কুয়াক (Quack Dr) হিসেবে কাজ করেন। এবং ছাগলের চিকিৎসার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর জীবিকার তাগিদে বাবার সাথে টিউশনি ও হোমিওপ্যাথি ব্যবসা থেকে শুরু করে কৃষি কাজ কোনও কিছুই বাদ দেইনি এই আত্মবিশ্বাসী যুবক। কিন্তু কোনও কাজেই সফল হতে পারেনি। পরে ২০১৭ সালে শখের বসে ১০ হাজার টাকায় দু’টি ছাগল কিনে লালন-পালন শুরু করেন, পরিশ্রমী ও আত্মবিশ্বাসী শিক্ষিত যুবক তুষার। তার এক বছরের মধ্যে ছাগল দু’টি ৮টি বাচ্চা দেয়।

ওই ছাগলগুলো বিক্রি করে তা থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেই ছাগলের খামার করার। এরপর উপজেলা প্রাণী সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শক্রমে যমুনা পাড়ি, তোজাপাড়ি, হরিয়ান ও ব্লাক বেঙ্গল প্রজাতির ছাগল কিনে ম্যাচিং পদ্ধতিতে খামার গড়ে তুলে। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তার খামারে চার প্রজাতির ৪০টি ছাগল রয়েছে।’

তুষার বলেন, ‘আমি নিজেই ছাগলের খাওয়ানো পরিচর্যা থেকে শুরু করে ছাগলের সবকিছু দেখাশুনা করে থাকি। এমনকি ছাগলের সকল রোগের চিকিৎসা আমি নিজেই দিয়ে থাকি। এ কাজে আমার পরিবারের লোকজনও সহযোগিতা করে। এছাড়াও বাড়ির পাশের পতিত জায়গায় আবাদ করেছেন হাইড্রোপ্রোনিক ঘাস (মাটি ছাড়া ট্রেতে আবাদ করা ঘাস)। যা ছাগলের জন্য উৎকৃষ্টমানের খাবার, সেই ঘাস দিয়েই ছাগলের খাবারের বেশিরভাগ চাহিদা মেটাচ্ছেন।’

তিনি আরও জানান, এই একটি মাত্র প্রাণী যার বছরে দু’বার প্রজনন ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবার প্রজননে একাধিক বাচ্চা দেয়। রোগ-বালাইও কম হয়। বছরে একবার পিপিআর, গডপক্স ভ্যাকসিন দিলেই আর কোনও ওষুধ লাগে না। তাই অল্প খরচে বেশি আয় করা সম্ভব। যেখানে একটি বিদেশি গাভি পালন করলে প্রতিদিন ৩০০ টাকার খাবার খায়। আর সেখানে ৩০০ টাকা হলে প্রতিদিন ৩০টি ছাগলকে খাওয়ানো যায়।

ছাগলের খাদ্য হিসেবে খাওয়ানো হয় গম, ভুট্টা ও ছোলা বুটের গুড়ো সেই সঙ্গে সয়াবিন ও খড়ের ছন। যা ছাগলের জন্য খুবই পুষ্টিকর। এছাড়াও দেশের বাজারে ছাগলের বেশ চাহিদার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই ছাগল রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব।

টু-টেক ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী তরুণ উদ্যেক্তা তুষার বলেন, প্রতি বছর ২ টি করে ছাগল কুরবানী রাখি। যেটা খামারের লাভ থেকে পুষিয়ে যায়। সদা হাস্যোজ্জ্বল তুষার মৃদু হেসে এই প্রতিবেদককে আরও বলেন, ‘আমার ছাগলের খামার দেখতে প্রতিদিন লোকজন আসছেন। তারা আমার কাছে এ সম্পর্কে ধারণা ও নানা ধরনের পরামর্শ নিচ্ছেন। তারাও ছাগলের খামার গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে পি-পি-আর এর ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত পাওয়া যায় না, তাই সরকারের নিকট আবেদন যেন সকল খামারিদের যথাসময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন এবং আর্থিক সহায়তা সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়।

খামার দেখতে ও পরামর্শ নিতে আসা রামচন্দ্রপুরহাটের কাওসার আলি বলেন, ‘ছাগলের খামার গড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার খবর শুনে খামারটি দেখতে এসেছি। এছাড়াও বাজারে ছাগলের চাহিদা বেশ রয়েছে ও দাম ভালো রয়েছে তাই ছাগল পালনে ভালো লাভবান হওয়ায় তার কাছ থেকে খামারের বিভিন্ন পরামর্শ নিলাম আমিও তার মতো ছাগলের খামার গড়ে তুলবো।’

সারওয়ার হোসেন তুষারের বাবা জেলার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মোঃ তরিকুল আলম মাষ্টার বলেন, আমার ছেলেকে আমি ছাগলের খামার করার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছি। লিখাপড়া শিখে শুধু চাকুরী করতে হবে সেটা না, নিজে সয়ংস্বম্পন্ন হওয়াটা বড় কথা। আমার ছেলে সেটাই করেছে, তাই আমার ছেলের জন্য আমি গর্ববোধ করি। দোয়া করি যেনো আমার শিক্ষিত ছেলে তুষার ছাগল খামারের মাধ্যমে অনেক বড় ব্যবসায়ী হতে পারে। সেই সাথে জেলার শিক্ষিত বেকার যুবকদের শু-পরামর্শ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মোঃ আবু রেজা তালুকদার বলেন, ছাগল পালন করে মোটামুটিভাবে সফল হয়েছেন সারওয়ার হোসেন তুষার। আমরা নিয়মিত তার ওই ছাগলের খামার পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এখন অনেকেই ছাগলের খামার গড়ে তুলতে পরামর্শের জন্য আমাদের কাছে আসছেন। তাদেরকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!