Logo
শিরোনাম :
সাভার ওয়াইএমসিএ যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত সৌদিতে বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রবাসির মর্মান্তিক মৃত্যু সাভার ইউনিয়নের ৮টি মসজিদে আর্থিক অনুদান প্রদান করলেন মাজহারুল ইসলাম রুবেল চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্ট ভুক্ত ১০ আসামি গ্রেপ্তার আশাশুনিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশেষ আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায়; ওসি গোলাম কবির নৌকা বিজয়ের লক্ষে ঝিকরগাছা শংকরপুরে ঐক্যের ডাক বারদী ৯নং ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় জাকির সরকার এর গনসংযোগ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাখি উদ্ধার করলো শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাটকেলঘাটায় যুবলীগের আয়োজনে শান্তি ও সম্প্রীতি মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত শার্শার নাভারণে জাতীয় সড়ক দিবস পালিত

মাস্টার্স পাশ করা অদম্য মেধাবী সাহিদাকে মনে রাখেনি কেউ : শেষ স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এলেন উদ্ভাবক মিজান

জসিম উদ্দিন,নিজস্ব প্রতিবেদক : অনার্স-মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করার পরও ভাল নেই তিন হাত-পা ছাড়াই বিশেষ প্রতিবন্ধী সাহিদা খাতুন। লেখাপড়ার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও জোটেনি বিশেষ কোটায় কোন সরকারি বা বেসরকারি চাকরি।

নানান প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে সমাজ উন্নয়নে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের জন্য একাধিক জয়িতা সম্মাননা পেলেও আজও অন্ধকারময় তার জীবন।

২০১৫ সালে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বেকার জীবনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে শিখেছেন হস্ত ও কুঠির শিল্পের নানান কাজ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতায় হয়নি কোন সুযোগ সুবিধা। অপরদিকে সরকারি কোঠায় চাকরির বয়সসীমাও পার হতে আর মাত্র একটি বছর আছে তার।

সাহিদার লেখাপড়ার যোগ্যতা, তার কাজের দক্ষতা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে অনেকে সাহায্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও কেউ কথা রাখেনি।

দিনে দিনে সকল আশা ভরসা বিলীন হতে থাকা অদম্য মেধাবী সাহিদা খাতুন নিজ গ্রামে একটি প্রতিবন্ধি স্কুল গড়ে তুলতে সহযোগিতা চান সমাজের বিত্তশালী ও বিবেকবান মানুষের কাছে।

শার্শার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও দেশ সেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমানের হাত ধরে সর্বশেষ প্রতিবন্ধি স্কুল গড়ার স্বপ্ন দেখেন সাহিদা খাতুন।

দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সংগ্রহে মিজানের সর্বোচ্চ চেষ্টায় লম্বা পথের অপেক্ষাও যেন নিজের মন মানষিকতাকে বিষাদের কাল অন্ধকারে হাবুডুবু খেতে থাকে সমাজের এই বিশেষ মানুষটি।

সর্বশেষ অনেক অপেক্ষার পর আজ সেই মাস্টার্স পাস তিন হাত-পা ছাড়াই বিশেষ প্রতিবন্ধী সাহিদার স্বপ্নের প্রতিবন্ধী স্কুল তৈরির কাজ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানান সাহিদা খাতুন।

সাহিদা খাতুন জানায়, সর্বচ্চো লেখাপড়া করেও সমাজ এবং পরিবারের মাঝে বোঝা হয়েই ছিলাম। কঠিন প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে দেখিয়ে দিয়েছি কিন্তু কোন কোটাই আমার একটা কর্ম সংস্থান হলোনা। আজ উদ্ভাবক মিজান ভাইয়ের অক্লান্ত চেষ্টায় আমার শেষ স্বপ্নটি পূরণ হতে চলেছে।

সাহিদার স্কুল তৈরিতে যারা অর্থায়ন করেছেন তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে উদ্ভাবক মিজানুর রহমান বলেন, সাহিদা খাতুন একজন বিশেষ প্রতিবন্ধি হলেও একটি মাত্র হাতে ভর করে লেখাপড়ার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছে।

দৈনিক যশোর পত্রিকা সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাহিদাকে নিয়ে সংবাদ প্রচার করলেও সকল সরকারি বেসরকারি বা ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কোন সুযোগ সুবিধা পায়নি সে।

অনেক চেষ্টার ফলে ছোট ছোট সাহায্য নিয়ে সাহিদার শেষ স্বপ্নটি বাস্তবায়ন করার জন্য বাঁশ খুটি ঢেউটিন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছি সাহিদার বাসায়।

ছোট ছোট সাহায্য নিয়ে সাহিদার স্কুল তৈরির কাজ শুরু হবে আজ রবিবার থেকে। কিন্তু কোন কাজ সহজ নয়। বাঁশ খুঁটি টিন দিয়ে শুরু হলেও বাকি রইলো এখনো অনেক কিছু।

প্রতিবন্ধি স্কুলের জন্য চেয়ার, বেঞ্চ, ফ্যান, বিদ্যুৎ, টয়লেট, পানির ব্যবস্থা সহ প্রতিবন্ধি শিশু ও বয়স্কদের জন্য চাই পরিবহনের সুবিধা।
সাহিদা খাতুন বলেন, আমার স্কুলে শুধু প্রতিবন্ধি শিশুরাই নয়, বয়স্ক ও বিধবা নারী এবং শিক্ষিত প্রতিবন্ধি নারী-পুরুষ কর্মসংস্থানের শতভাগ সুযোগ পাবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি এখানকার বিশেষ প্রতিবন্ধিরা হস্ত ও কুঠির শিল্পের নানান কাজ শিখে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখবে।

শাহিদা খাতুন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া গোপিনাথপুর গ্রামের রফি উদ্দিনের মেয়ে।

অদম্য মেধাবী মাস্টার্স ডিগ্রী পাশ করা সাহিদার শেষ স্বপ্ন প্রতিবন্ধি স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন উদ্ভাবক মিজান ও সাহিদা খাতুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!