Logo
শিরোনাম :
সাভার ওয়াইএমসিএ যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত সৌদিতে বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রবাসির মর্মান্তিক মৃত্যু সাভার ইউনিয়নের ৮টি মসজিদে আর্থিক অনুদান প্রদান করলেন মাজহারুল ইসলাম রুবেল চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্ট ভুক্ত ১০ আসামি গ্রেপ্তার আশাশুনিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশেষ আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায়; ওসি গোলাম কবির নৌকা বিজয়ের লক্ষে ঝিকরগাছা শংকরপুরে ঐক্যের ডাক বারদী ৯নং ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় জাকির সরকার এর গনসংযোগ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাখি উদ্ধার করলো শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাটকেলঘাটায় যুবলীগের আয়োজনে শান্তি ও সম্প্রীতি মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত শার্শার নাভারণে জাতীয় সড়ক দিবস পালিত

বাঘারপাড়ায় সাংবাদিক আক্তারের বিরুদ্ধে চাঁদা বাজির অভিযোগ

ক্রাইম রিপোর্টার ।।
যশোরের বাঘারপাড়ায় চাকরি দেয়ার নাম করে একজনের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আখতারুজ্জামান নামে কথিত এক সাংবাদিক। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবে একাধিক ব্যক্তি আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, বাঘারপাড়ায় কথিত সাংবাদিক আখতারুজ্জামানের চাঁদাবাজির দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে। বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে মোটরসাইকেলে ‘সাংবাদিক’ স্ট্রিকার লাগিয়ে সরকারি-বেসরকারি অফিসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের আগ্রাইল গ্রামের লিলি ঘোষ বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার ছেলে প্রান্তের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে আখতারের আমাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে সে আমাকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে এবং প্রান্তকে সরকারি চাকরি দেয়ার প্রস্তাব দেয়। বিশ্বাস করে তার হাতে আমরা নগদ ৯ লাখ টাকা তুলে দিই। প্রায় এক বছর পর আখতার সেনাবাহিনীর একটি যোগদানপত্র দেয়, কিন্তু সেটি ছিল ভুয়া। বিষয়টি তাকে জানালে আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নিরুপায় হয়ে আমরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য কিশোর কুমার জানান, আমাদের পরিবারটি যৌথ পরিবার। আমাদের সব ভাইয়ের সংসার একসাথে। আমার ভাইপো প্রান্তর মাধ্যমে আখতারুজ্জামান আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া শুরু করে এবং আমাদের সাথে প্রান্ত চাকরির বিষয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ৯লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বিভিন্ন সময়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে আরো প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করায়। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্রও সে আমাদের প্রদান করে। নিয়োগপত্র ভূয়ার বিষয়ে তাকে জানালে সে আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এখন খোঁজ খবর নিয়ে দেখি সে একজন প্রতারক। সে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে অনেক টাকা নিয়েছে বলেও বিভিন্ন লোকে আমাকে জানিয়েছে। সর্বশেষ নিরুপায় হয়ে আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি।

ডিবি পুলিশের এসআই সুলাইমান হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাঘারপাড়ার বেসরকারি আনোয়ারা ক্লিনিকের পরিচালক মাহবুবুর রহমান জানান, গত মার্চ মাসে আখতার তাদের ক্লিনিকে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেন। কোনভাবে তাকে বুঝিয়ে বিদায় দেন তারা। পরবর্তীতে কয়েকবার ক্লিনিকে গিয়ে রিপোর্ট করবেন বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে দশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে ক্লিনিকের ম্যানেজার, সেবিকা ও কর্মচারীরা তাকে ধাওয়া করলে ক্যামেরাপার্সন নিয়ে সটকে পড়েন তিনি।

জানা যায়, দিন কয়েক আগে উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের ভগবানপুরে একটি বিয়ে বাড়িতে গিয়ে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন আখতারুজ্জামান। টাকা না দেয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বরযাত্রীর গাড়ি আটকিয়ে নগদ তিন হাজার টাকা আদায় করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক মাস আগে টিভি চ্যানেলটির জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে আখতারুজ্জামান ২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন। চাঁদা দিতে শিক্ষকদের নির্দেশ দেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম নুর-ই-এলাহী। এ কাজে সহযোগিতা করেন মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ সমাদ্দার, বেতালপাড়ার প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম, পাঠান পাইকপাড়ার প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সেন ও জহুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী কুন্ডু।

জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা দেয়ার জন্য আমি কোন স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ফোন করিনি। সুভাষ স্যার টাকা দেয়ার জন্য আমাকে মেসেজ করেছিলেন।’

চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক সুভাষ সমাদ্দার বলেন, ‘কাউকে টাকা দেয়ার জন্য বাধ্য করা হয়নি। ওই সাংবাদিক আখতারই আমাকে প্রথমে বলেছিলেন। পরে এটিও স্যারও ফোনে আমাকে বলেলেন ভালো কাজ, আপনারা সবাই সহযোগিতা করেন।’

এ ব্যাপারে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম নুর-ই-এলাহী বলেন, ‘টেলিভিশনের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে আমরা টাকা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছি।’

যোগাযোগ করা হলে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘চাকরি দেয়ার জন্য আমি নিজে টাকা নেইনি। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার মসজিদের সাবেক ইমাম রমজানকে টাকা দেয়া হয়েছিলো। আমার উপস্থিতিতেই টাকাটা দেয়া হয়। আমি নিজেও ওই ইমামের কাছে চার লাখ টাকা দিয়ে ধরা খেয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবে একাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে সভাপতি আমাকে (আক্তারকে)ফোন করে জানিয়েছেন। অভিযোগ কেউ করতেই পারেন। তবে আমিও একজন গণমাধ্যমকর্মী, আপনিও গণমাধ্যমকর্মী। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে লেখেন। কোন সমস্যা নেই।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!