Logo
শিরোনাম :
হবিগঞ্জে পুলিশ সুপার মুরাদ আলীর পচেষ্টায় ১৩০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেল ৪৪ জন পরীক্ষামূলকভাবে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি ৩৩ কেভি লাইনের বিদ্যুৎ চালু পোরশা সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে এক বাংলাদেশী আটক বটিয়াঘাটা দলিল লেখক সমিতি নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় সভায় যোগদান বটিয়াঘাটা দলিল লেখক সমিতি নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় সভায় যোগদান আলীকদমে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি, ইউএনও কর্তৃক মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল বাগআঁচড়ায় নৌকায় ভোট চাইলেন জেলা ছাত্রলীগ বঙ্গমাতা পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা সাজেদা চৌধুরী সভাপতি ও আনিছুর রহমান সম্পাদক পাবনায় মাছ শিকার করে ৪ লাখ টাকা পুরষ্কার জিতলেন দুই ব‍্যবসায়ী সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত ১২নং ওয়ার্ড গড়তে এম.এ মনজুরের বিকল্প নেই

সিডরের ১৪ বছরেও স্বাভাবিক হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনযাত্রা

আতিক নাঈম, বরগুনা জেলাঃ আজ সেই দুঃসহ স্মৃতি বিজড়িত ভয়াল ১৫ নভেম্বর। উপকূলীয় এলাকায় ২০০৭ সালের এই দিনেই আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন সিডর।

১৪ বছর আগের এই দিনে উপকূলের প্রকৃতি ও মানবতাকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল সুপার সাইক্লোন সিডর। দিনটি উপকূলবাসীর জন্য বেদনার। আজ উপকূলীয় জেলাগুলোর কয়েক হাজার বাড়িতে সৃষ্টি হবে শোকাবহ পরিবেশ, ঝড়ে এইদিনে আপনজনদের হারিয়ে ফেলেছেন তারা।

আরও হাজার হাজার মানুষ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বয়ে বেড়াচ্ছেন এই দিনে পাওয়া আঘাতের ক্ষত। তবে প্রকৃতিতে সিডর যে ছাপ রেখে গেছে তা এখনও মুছে ফেলতে পারেনি মানুষ, কাটিয়ে উঠতে পারেনি সেই ঝড়ের ক্ষয়-ক্ষতি। বলা যায়, সিডরের পর ১৪ বছরেও স্বাভাবিক হয়নি বরগুনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুরসহ উপকূলবাসীর জীবনযাত্রা।

ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট। মহাবিপদ সংকেতের কথা শুনে আতঙ্কিত উপকূলের মানুষ। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে বইছিল দমকা হাওয়া। সচেতন মানুষ পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে যাচ্ছে বুঝতে পেরে যেতে শুরু করলেন আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে সরকারি মাইকিংয়ে কান না দিয়ে বেশির ভাগ মানুষই রয়ে গেলেন বাড়িতে। তাদের ধারণা ছিল, কত ঝড়ই এলো-গেলো, এবারেও তাদের কিছু হবে না। তবে তাদের বিশ্বাস ভেঙেচুরে যেতে থাকে আরেকটু পরই। সিডর আঘাত হানতে শুরু করে উপকূলীয় এলাকায়।

মানুষ টের পেলো ঝড়ের গতি যেন ঘর উড়িয়ে নিয়ে যাবে এখনই। এর সঙ্গে বাড়তে থাকে পানির প্রবাহ। তবে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গোপসাগরের সব জল যমদূতের মতো উঠে এসে মানুষকে নাকানিচুবানি দিয়ে কেড়ে নিতে শুরু করে এক একটি তাজা প্রাণ। সেই ঝড়ের সঙ্গে আসা মাত্র ১০ মিনিটের জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের কয়েক হাজার মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

পুরো এলাকা হয়ে যায় লণ্ডভণ্ড। সকালে উপকূলবাসীর মনে হয় যেন কেয়ামত হয়ে গেছে। চারদিকে ধ্বংসলীলা। লাশের পর লাশ। পানির কারণে কবর দেওয়ার জায়গাও নেই। এক একটি কবরে ২-৩ জনের লাশ মাটি চাপা দেওয়া হলো। সিডরের এতো বছর পরেও নিহতের সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সিডরের আঘাতে বরগুনা জেলায় ১ হাজার ৩৪৫ জন মানুষ মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৫৬ জন। ৩০ হাজার ৪৯৯টি গবাদি পশু ও ৬ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯টি হাঁস-মুরগি মারা যায়। জেলার ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬১টি পরিবারের সবাই কমবেশি ক্ষতির শিকার হন। সম্পূর্ণভাবে গৃহহীন হয়ে পড়ে ৭৭ হাজার ৭৫৪টি পরিবার। তবে বেসরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৬শ’ জনের ওপরে।

বরগুনা সদর উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নলটোনা। এই এলাকায় সিডরের এক বছর আগে থেকেই বেড়িবাঁধ ছিল না। ফলে সিডরের সময় এই জায়গায় জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল ২০ ফুটের মতো। ঘূর্ণিঝড়ের পরদিনই সেখানে অর্ধ শতাধিক মানুষের লাশ পাওয়া যায়। তখনও এলাকাটি পানির নিচে হাবুডুবু খাচ্ছিল।

লাশ দাফনের জন্য কোনও স্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। লাশগুলো নিয়ে আসা হয় বরগুনা-নিশানবাড়িয়া সড়কের পাশে পশ্চিম গর্জনবুনিয়া গ্রামে। দাফনের কাপড় ছাড়াই ২৯ জনকে ১৯টি কবরে মাটি চাপা দেওয়া হয়। জায়গার অভাবে ৪টি কবরে ৩ জন করে ১২ জন, ৩টি কবরে ২ জন করে ৬ জন ও ১২টি কবরে ১ জন করে ১২ জনের লাশ দাফন করা হয়। কবরগুলোকে একটু উঁচু করে রাখা হয়েছে।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা সংগ্রাম প্রাথমিকভাবে ইট দিয়ে কবরস্থানটি ঘিরে দিয়েছিল। বর্তমান জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বরগুনা প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় সেখানে সিডর স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছে। সারিবদ্ধ কবর দেখে মানুষ এসে এখনও সেখানে থমকে দাঁড়ায়। সিডরের স্মৃতি হয়ে আছে এসব কবর।

কবরগুলোতে শুয়ে আছেন নলটোনা গ্রামের তাসলিমার বাবা আবদুর রশিদ (৫৫), মা আম্বিয়া খাতুন (৫০), ছেলে আল আমিন (৭), ফোরকানের বাবা দিন আলী (৬৫), হাসি বেগমের মেয়ে শাহিনুর (৪), শাহজাহানের মা তারাভানু (৬০), মেয়ে খাদিজা আক্তার (৩), আনিসের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩০), ছেলে আবু বকর (৩), রফেজ উদ্দিনের স্ত্রী বিউটি বেগম (৩৫), মাসুমের মা হেলেনা আক্তার (৩০), বাদলের মা লালবরু (৬৭), বাবুলের মেয়ে জাকিয়া আক্তার (৮), আবদুস সত্তারের স্ত্রী সাফিয়া খাতুন (৩০), ছেলে রেজাউল (১২), রেজবুল (৭), মেয়ে সাবিনা (৯), সগির হোসেনের মেয়ে সোনিয়া আক্তার (৩), আবদুর রবের ছেলে হোসেন আলী (১২), মেয়ে ময়না (৭), হোসনেয়ারা (৫), শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম (৫০), সরোয়ারের স্ত্রী জাকিয়া আক্তার (৩০), মেয়ে রোজিনা (৪), ছত্তারের স্ত্রী বেগম (৫০), পুত্রবধূ নাজমা আক্তার (৩০), নাতি পারভেজ (৪), নাসির উদ্দিনের স্ত্রী হোসনেয়ারা (২৬) ও গর্জনবুনিয়া গ্রামের গনি বিশ্বাসের ছেলে জাহিদ হোসেন (৫)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By ThemesWala.Com
error: Content is protected !!