বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
বেনাপোলে ব্যবসায়ী সংগঠন দখলে মনগড়া কমিটি গঠনের অভিযোগ ভারতের বিরুদ্ধে বাগআঁচড়ার সামটা টেংরা একাদশের খেলোয়াড়দের জার্সিউপহার দিলেন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন স্ক্যানিং পয়েন্টে অসুস্থ যাত্রীদের মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন: কাস্টমস কর্মকর্তা মিজানের অপেশাদার আচরণে ক্ষোভ শার্শার বাগআঁচড়া থেকে দুই মোটরসাইকেল থেকে ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার, আটক ১ শার্শায় সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাগআঁচড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মাছ চুরিতে বাধা দেওয়া বাবা-ছেলেকে কু*পি*য়ে জখমের অভিযোগ শার্শায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বিএইচই ইউনি শার্শায় গভীর রাতে বসতঘরে ঢুকে নারীকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ,আহত ৩ শার্শা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব গ্রেপ্তার জনসেবাকেই রাজনীতির মূল লক্ষ্য করার প্রত্যয় ইমদাদুল হক ইমদাদ

বন্ধুত্বের আড়ালে অন্তর্ঘাত: যেসব লক্ষণে বুঝবেন ‘টক্সিক’ সম্পর্ক

Reporter Name / ৭৯ Time View
Update Time : বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
বন্ধুত্বের আড়ালে অন্তর্ঘাত: যেসব লক্ষণে বুঝবেন ‘টক্সিক’ সম্পর্ক
বন্ধুত্বের আড়ালে অন্তর্ঘাত: যেসব লক্ষণে বুঝবেন ‘টক্সিক’ সম্পর্ক

বিবিএস ফিচার ডেস্ক: বন্ধুত্ব মানেই ভরসা, আস্থা আর নির্ভরতার এক নিরাপদ আশ্রয়। জীবনের কঠিন সময়ে যে মানুষটি ছায়ার মতো পাশে থাকে, আর সাফল্যে নিঃস্বার্থ আনন্দে ভেসে যায় তাকেই আমরা প্রকৃত বন্ধু বলে জানি। তবে সব বন্ধুত্ব সমান হয় না। কখনও কখনও কাছের মানুষই অজান্তে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনোবিজ্ঞানে এই ধরনের আচরণকে বলা হয় ‘ফ্রেন্ডশিপ স্যাবোটাজ’ বা বন্ধুত্বের অন্তর্ঘাত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট আচরণ দেখে সহজেই বোঝা যায় বন্ধু আসলে আপনার ভালো চাইছে কি না। নিউরোসাইকোলজিস্ট ড. জুডি হো গাভাজ্জার মতে, আপনার বড় কোনো অর্জনে যদি বন্ধু আন্তরিকভাবে খুশি না হয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যায় বা এমন মন্তব্য করে যা আপনার আনন্দকে ম্লান করে দেয়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

এছাড়া প্রতিটি বিষয়ে অকারণ প্রতিযোগিতা করাও একটি লক্ষণ। আপনি কোনো সুখবর শেয়ার করলে সেটিকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, নিজের গল্প বড় করে তুলে ধরা এসব আচরণ সম্পর্কের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অসুস্থ প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্বাসভঙ্গও টক্সিক বন্ধুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্যক্তিগত কোনো তথ্য বন্ধুকে জানিয়ে তা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বুঝতে হবে সেই সম্পর্ক আর নিরাপদ নেই। একইভাবে ‘ব্যাকহ্যান্ডেড কমপ্লিমেন্ট’ প্রশংসার আড়ালে অপমান বন্ধুত্বের মধ্যে নেতিবাচক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এমন বন্ধুর দেওয়া পরামর্শ বারবার ভুল পথে নিয়ে যায়। অন্যদের সামনে ছোট করা, তুলনা টানা বা নেতিবাচক মন্তব্য করাও এই প্রবণতার অংশ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো তারা নিজেদের ভুল স্বীকার না করে উল্টো আপনাকেই দোষারোপ করার চেষ্টা করে, যা ‘গ্যাসলাইটিং’-এর লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।

মনোবিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আচরণের পেছনে কাজ করে হীনম্মন্যতা, নিরাপত্তাহীনতা ও ঈর্ষা। থেরাপিস্ট জেনা নিলসেন জানান, অন্যের সাফল্য অনেক সময় নিজের ব্যর্থতার অনুভূতিকে উসকে দেয়, যা থেকে অবচেতনভাবে নেতিবাচক আচরণ জন্ম নিতে পারে। এছাড়া অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মানসিকতা বা অতিরিক্ত সহানুভূতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও এর কারণ হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে করণীয় কী?

প্রথমত, নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। কোনো সম্পর্ক যদি বারবার অস্বস্তির কারণ হয়, সেটিকে অবহেলা করবেন না।
দ্বিতীয়ত, সরাসরি কথা বলুন। নির্দিষ্ট আচরণে কষ্ট পাচ্ছেন এটি বন্ধুকে জানান। সে যদি সংশোধনের চেষ্টা করে, তবেই সম্পর্কটিকে আরেকটি সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন। সব বন্ধুকে জীবনের সব বিষয় জানানো প্রয়োজন নেই।
সবশেষে, যদি কোনো বন্ধুত্ব আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তবে সেখান থেকে সরে আসাই সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।

কারণ, জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত তাই এমন মানুষদের সঙ্গেই থাকুন, যারা আপনার অগ্রগতি ও মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

Spread the love


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *