রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
কায়বা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন গ্রেপ্তার ভারতের জেল থেকে মুক্ত ৫ বাংলাদেশি নারী, বেনাপোল দিয়ে ফেরত বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চান ইমদাদুল হক ইমদাদ যশোরে ১৬০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ২ জন গ্রেপ্তার অসুস্থ সাবিরা নাজমুল এমপির খোঁজ নিলেন শার্শা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বনবিভাগের গাছের নামে সওজের সরকারি জমির শতবর্ষের সম্পদ উজাড়! ৫ লাখ টাকার মেহগনি কাটায় তোলপাড় অনলাইন জুয়ার মূল হোতা ‘সুন্দরী আর্জেন্টিনা সমর্থক’ আটক নাভারণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রর্থী হিসাবে তারুণ্ চাই সাধারণ ভোটাররা শার্শা সীমান্তে ৪৮৬ বোতল ভারতীয় নেশার সিরাপ উদ্ধার শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

বনবিভাগের গাছের নামে সওজের সরকারি জমির শতবর্ষের সম্পদ উজাড়! ৫ লাখ টাকার মেহগনি কাটায় তোলপাড়

Reporter Name / ১৭ Time View
Update Time : রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বাগআঁচড়া পাঁচপুকুর এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি থেকে প্রায় ৪০-৪৫ বছর বয়সী পাঁচটি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বনবিভাগের গাছ ক্রয়ের অনুমোদন দেখিয়ে সরকারি এই গাছগুলো কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেহরাব ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও সমন্বয়হীনতায় পুরো বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে গাছ কাটার ঘটনা স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে শ্রমিকদের বাধা দেন। পরে খবর পেয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেও কে প্রকৃত মালিক, কার অনুমতিতে গাছ কাটা হচ্ছে এবং কোন দপ্তরের তালিকাভুক্ত গাছ এসব বিষয়ে একেকজন কর্মকর্তা একেক ধরনের বক্তব্য দেন। এতে জনমনে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে সওজ বিভাগের মালিকানাধীন জমিতে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার দশক আগে লাগানো হয়েছিল রেইনট্রি ও মেহগনি গাছ। বছরের পর বছর ধরে এসব গাছ সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সড়কের পাশের মাটি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মঙ্গলবার হঠাৎ করেই মেহরাব ট্রেডার্সের শ্রমিকরা ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে গাছ কাটতে শুরু করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা এগিয়ে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।

বাধার মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, তারা সরকারি অনুমোদন নিয়েই কাজ করছেন এবং তাদের কাছে মোট ৪২টি গাছ কাটার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়রা সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সরেজমিনে দেখা যায়, যে স্থানে গাছ কাটার কাজ চলছে সেখানে মোট ৪২টি গাছের অস্তিত্বই নেই। ফলে স্থানীয়দের অভিযোগ, বনবিভাগের গাছের অনুমোদন ব্যবহার করে সওজের সরকারি জমির গাছ কেটে নেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলো বহু বছর আগে জেলা পরিষদের উদ্যোগে রোপণ করা হয়েছিল। এতদিন এগুলো কখনো বনবিভাগের সম্পদ হিসেবে পরিচিত ছিল না। হঠাৎ করে সেগুলো বনবিভাগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি তারা রহস্যজনক বলে মনে করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই গাছগুলো এখানে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা জানি এগুলো জেলা পরিষদের লাগানো গাছ। এখন হঠাৎ করে বলা হচ্ছে এগুলো বনবিভাগের গাছ। তাহলে এতদিন এগুলোর মালিক কে ছিল? সরকারি সম্পদের মালিকানা কি এভাবে বদলে যায়?

আরেক বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, বনবিভাগের অনুমোদনের কাগজ দেখিয়ে সওজের মূল্যবান সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এটা শুধু কয়েকটি গাছ কাটার ঘটনা নয়, বরং সরকারি সম্পদ রক্ষায় বড় ধরনের গাফিলতির উদাহরণ। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেহরাব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান দাবি করেন, ২০২৪ সালে নিয়ম মেনেই টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে সেই টেন্ডারের আওতায় পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। অনুমোদিত তালিকার বাইরে একটি গাছও কাটা হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে মিল পাওয়া যায়নি। শার্শা উপজেলা সামাজিক বনায়ন কেন্দ্রের ইনচার্জ ইউনুচ আলী প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,
“আমরা ওই গাছ কাটিনি। আপনাদের কাছে যে তথ্য গেছে তা সঠিক নয়।

অন্যদিকে, যশোর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আশরাফুজ্জামান মঞ্জু বলেন, ২০২৪ সালে গাছ কাটার বিষয়টি আমরা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। সম্প্রতি আবার গাছ কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। পরে বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে আপাতত বিষয়টি আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সরকারি দপ্তরের অনুমোদন দেখিয়ে অন্য সরকারি দপ্তরের সম্পদ কেটে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদি সময়মতো এলাকাবাসী বাধা না দিতেন, তাহলে আরও গাছ কেটে নেওয়া হতো।

পরিবেশবিদদের মতে, মহাসড়কের পাশের পুরোনো গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং ঝড়-ঝঞ্ঝা ও বৃষ্টির সময় সড়কের মাটি ক্ষয় রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে এসব গাছ কেটে ফেললে ভবিষ্যতে সড়ক ভাঙন, পরিবেশের ক্ষতি এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

এ ঘটনায় সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা, বনবিভাগ ও সওজের সম্পদের সঠিক তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Spread the love


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *