শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের ওপর বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ উঠেছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক জিসান আহম্মেদ রাব্বী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা জিসান আহম্মেদ রাব্বী। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর এশিয়ান টিভিতে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার দায়িত্ব নিতে বেনাপোলে ফিরে এসে বাংলা নিউজ ২৪ ডটকমের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পারিবারিক ব্যবসাও দেখাশোনা করতেন।
সম্প্রতি আমড়াখালী এলাকার হক ফিলিং স্টেশনে ট্রাকের তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে তেল পাম্পের সিরিয়াল নিয়ে সৃষ্ট ওই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পান্তাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে তরিকুল ইসলাম রাজু, মান্দারতলা গ্রামের আব্দুল্লাহ, কাগমারি আমড়াখালী গ্রামের রজব আলীর ছেলে হাসান, আজগর আলীর ছেলে মোস্তাক, ইউনুস আলীর মেয়ের জামাই হাসান ওরফে ঘরজামাই হাসান, কাগজপুকুর গ্রামের মমিন হুজুরের ছেলে আব্দুল্লাহসহ ৮ থেকে ১০ জন যুবক জিসানের ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ৬৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় জিসান আহম্মেদ রাব্বীকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জিসানের ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ভবেরবেড় গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে সোহাগ হোসেন বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। মামলা নম্বর ১৪/২৬, তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৬। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই মিলন হোসেনের ওপর, যিনি পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মামলার অগ্রগতি না হওয়া তো দূরের কথা, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিলন হোসেন বাদীসহ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করছেন। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, তিনি আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে তাদের আগাম জামিন পেতে সহায়তা করেছেন।
ডিজেলের বাজারে অস্থিরতা লিটার ও কেজির মারপ্যাঁচে ঠকছেন কৃষক
এদিকে আসামিরা জামিনে মুক্ত থেকে বেপরোয়া আচরণ করছে এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক জিসান আহম্মেদ রাব্বীসহ তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগী জিসান আহম্মেদ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিলন হোসেন বলেন, আমি মামলার তদন্ত করছি। জিসান আহম্মেদ খুব ভালো ছেলে। তার ওপর হামলার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। আসামিরা আদালত থেকে জামিনে রয়েছে, ফলে চাইলেও তাদের আটক করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং দ্রুত কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।