শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
যশোরের শার্শার বাগুড়ি কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাতে স্কুলে জুয়ার বোর্ড বসানো,নারী ও খদ্দের এনে অনৈতিক ব্যবসা সহ চুরি ও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকদফা স্কুল কতৃপক্ষ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখত অভিযোগ দিয়েছে এলাকাবাসী।
পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে সমস্ত অভিযোগ প্রমানিত হলেও কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় মাতব্বর,, স্কুল কতৃপক্ষ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাদের এমন কর্মকান্ডে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে। তারা উদ্বর্তন কর্মকর্তাদের কাছে কামরুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
সম্প্রতি এমন একটি খবর গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আসলে অনুসন্ধানে নেমে এ ঘটনার সত্যতা পান।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, আওয়ামী সরকারের আমলে ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী কামরুজ্জামান যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হওয়ায় স্কুলে রাতে মেয়ে ও খদ্দের নিয়ে ব্যবসা,জুয়ারবোর্ড সহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলো।আওয়ামী সরকার পতনের পর কিছুদিন বন্ধ রেখে পরে আবার একই কর্মকাণ্ড চালাতে থাকলে গ্রামবাসি তাকে জুয়ার বোর্ড চলাকালীন সময় ধাওয়া দিলে সে পালিয়ে যায়।পরে তার অপসারণ চেয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর গ্রামের ৪৮ জন অভিভাবক ও সচেতন ব্যক্তির সাক্ষরিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।পরে প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী কামরুজ্জামানের বিষয়ে অবহিত করলে তিনি তিনজন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট
তদন্ত কমিটি গঠন করে পাঠান।তদন্ত কমিটির কাছে অভিযুক্ত দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী কামরুজ্জামান সমস্ত অপরাধ স্বীকার করলেও এলাকার একটি কুচক্রী মহলের তদবিরে তাকে মাত্র বিশ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে স্বপদে চাকরিতে বহাল করে রাখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান,গ্রামের কয়েকজন মাতব্বরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ওই দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী কামরুজ্জামান। তাদের তদবিরে ও প্ররোচনায় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা বানু এত জঘন্য অপরাধ করার পরেও কামরুজ্জামানকে বহাল তবিয়তে চাকরি সুযোগ করে দিয়েছেন।
অভিযুক্ত কামরুজ্জামান জানান,তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সত্য। তিনি ওই কাজে জড়িত ছিলেন বলে নিজে স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে এলাকাবাসী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে শার্শা বাগুড়ী কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তার জানান,কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সত্য প্রমানিত হয় এবং তদন্ত কমিটি কাছে সে নিজে তার অপরাধ স্বীকার করে।পরে এলাকাবাসীর অনুরোধে তাকে এবারের মতো ক্ষমা করা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা বানু জানান,কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আংশিক প্রমানিত হয়েছে এবং তাকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে বলে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কিমিটি আামকে রিপোর্ট দিয়েছিলো।তবে তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ উঠায় তিনি নতুন করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
শার্শা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানান,বিষয়টি তার জানা নেই।তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইবেন বলে তিনি জানান।এ সময় তিনি বলেন ওই দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরীর বিরদ্ধে যদি এ সকল অভিযোগ প্রমানিত হয় তাহলে তাকে ক্ষমা করার কোন সুযোগ নেই।