রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
যশোরের ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়নে রাস্তার নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার ও বালু কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার ও প্রজেক্ট সভাপতির বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, শিডিউল অনুযায়ী এক নম্বর ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও নামে কিছু এক নম্বর ইট দিয়ে অর্ধেকের বেশি অংশে দুই নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিন ইঞ্চি করে বালু দেওয়ার কথা থাকলেও দু এক জায়গায় স্বল্প পরিমান বালুর দেখা মিললেও অধিকাংশ রাস্তায় বালুর কোন বালাই নেই। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ঝিকরগাছার শংকরপুরে রাস্তা নির্মাণে লুটপাট! নিম্নমানের ইট ও বালি কম ইউএনও পরিদর্শনে অভিযোগ
এদিকে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহি অফিসার ভুপালি সরকার উপজেলা ব্যাপি গ্রামীন অবকাঠামো নির্মান কাজের পরিদর্শনের অংশ হিসেবে শংকরপুর ইউনিয়নে যান।এসময় তিনি কাঁচা রাস্তার ইটের সলিং কাজের অগ্রগতি দেখতে গিয়ে নিম্ন মানের ইট -বালুর প্রত্যক্ষ করেন।সেখানে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোক না থাকায় তিনি এলাকাবাসির সাথে কথা বলেন।এলাকাবাসিও এসব কাজের গুনগতমান নিম্ন মানের হওয়াই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।এসময় উপজেলা নির্বাহি অফিসার ভুপালি সরকার কাজের গুনগতমান বজায় না রাখলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে ও দরপত্রের শর্তানুযায়ী কাজ বুঝে নিতে গ্রামবাসিকে অনুরোধ জানান।
জানা গেছে,শংকরপুর গ্রামের রাজ্জাকের বাড়ীর মোড় হইতে বেত্রাবতী নদীর অভিমুখে, নায়ড়া গ্রামের পুর্বপাড়া কলিম উদ্দীনের বাড়ী হইতে কবিরের বাড়ীর অভিমুখ ও বড়পাদাউলিয়া গ্রামের আবজালের বাড়ী হইতে কবিরের বাড়ির অভিমুখ প্রায় দুই শত ২৪ মিটার রাস্তা।এটি গ্রামীন অবকাঠামে উন্নয়ন আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।এ রাস্তার নির্মান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্বে আছেন আব্দুস সামাদ।

ঝিকরগাছার শংকরপুরে রাস্তা নির্মাণে লুটপাট! নিম্নমানের ইট ও বালি কম ইউএনও পরিদর্শনে অভিযোগ
অপরদিকে জগদানন্দকাঠি গ্রামের ইসমাইলের বাড়ীর মোড় হইতে আকবারের বাড়ির অভিমুখ, রাজবাড়ীয়া গ্রামের স্কুলের মোড় হইতে অজোর মোড়ের অভিমুখ,ছোটপোদাউলিয়া গ্রামের শরিফুলের বাড়ী হইতে শাহিনুর বাড়ী ভায়া মুসারাফের বাড়ির অভিমুখ, খাটবাড়িয়া গ্রামের জহিরের মোড় হইতে মিরাজের বাড়ির অভিমুখ ও কুলবাড়ীয়া গ্রামের দক্ষিননপাড়া রাজ্জাকের বাড়ি হইতে জেলেপাড়া আনন্দ বাড়ির অভিমুখের রাস্তার ইটের সলিং করনের ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্বে আছেন হাবিবুর রহমান।
এছাড়া টিআর প্রকল্পের আওতায় শংকরপুর গ্রামের বটতলা মোড় হইতে নদীর পাড় অভিমুখ, কুমরি মফিজুলের বাড়ি হইতে কুদ্দুসের বাড়ীর অভিমুখ ও শংকরপুর গ্রামের ইটের সলিং মোড় হইতে কাশেম ফকিরের বাড়ীর অভিমুখেে রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা পুনঃ নির্মান কাজের প্রজেক্ট সভাপতি হিসেবে চেয়ারম্যান গোবিন্দ চন্দ্র চ্যাটাজি ও ইউপি সদস্য আসাদুল ইসলাম দায়িত্বে রয়েছেন।যেখানে নিম্ন মানের ইটের পাশাপাশি মাটির কোন বালায় নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক নম্বর ইটের পরিবর্তে শুরু থেকেই দুই নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিম্নমানের। এমনকি রাস্তায় বালু দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যেখানে তিন ইঞ্চি বালু দেওয়ার কথা, সেখানে এক ইঞ্চির বেশি বালু দেওয়া হচ্ছে না বলে তারা জানান।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার আব্দুস সামাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,বালু সব জায়গায় তিন ইঞ্চি পড়েনি এটা ঠিক আছে। কোন জায়গায় ৬/৭/১০ ইঞ্চি করে বালু পড়েছে।বেড ও বালু ভিজে তাই পড়েনি। আর ইটের ১৯/২০ আসতে পারে। খারাপ ইট দিয়েছি তা না।ইটের কালার এ রকম হতে পারে। সব ভাটার ইট তো সমান না বলে তিনি জানান।তবে বালু কম ও নিম্ন মানের ইটের বিষয়টি অস্বীকার করে ঠিকাদার হাবিবুর রহমান বলেন, আমি এক নম্বর ইট দিয়ে কাজ করেছি। কোন দুই নম্বার ইট ব্যবহার করিনি।তিনি যশোরে আছি ল্যাব টেস্ট করানোর জন্য। এছাড়া বালু সঠিক ভাবে দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

ঝিকরগাছার শংকরপুরে রাস্তা নির্মাণে লুটপাট! নিম্নমানের ইট ও বালি কম ইউএনও পরিদর্শনে অভিযোগ
ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম মোল্লা জানান, ইট ও বালির ব্যাপারে অভিযোগ আমরাও পেয়েছি । ইট আমারা ল্যাবে টেস্ট করাবো ও সরোজমিনে আমরা যেয়ে তদন্ত করে তাদের প্রতি ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ভুপালি সরকার জানান, গ্রামীন অবকাঠামো নির্মানকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেছি।পরিদর্শন কালে নিম্নমানের ইট বালু ব্যবহারের সত্যতা পেয়েছি।নিম্নমানের কাজ বন্ধের পাশাপাশি ঠিকাদারি লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।