বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
শার্শার ত্রিমোহনী মাদকের স্বর্গরাজ্য মামলার আসামি বাবা ছেলে শার্শা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতির রোগমুক্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত শার্শায় চোর সন্দেহে আটক ৬ জন আদালতে শার্শায় ৫০ পিস ইয়াবাহ গ্রেপ্তার ১ হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির কেন আমাদের পাহারা দিতে হবে? বাংলাদেশ সবার -জাহাঙ্গীর হোসেন কাগজপুকুর-কাগমার সড়কের দুর্ভোগ দ্রুত দূর করতে চাই—ইমদাদুল হক ইমদা ঝিকরগাছায় ২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক, মোটরসাইকেল জব্দ বেনাপোলে ব্যবসায়ী সংগঠন দখলে মনগড়া কমিটি গঠনের অভিযোগ ভারতের বিরুদ্ধে বাগআঁচড়ার সামটা টেংরা একাদশের খেলোয়াড়দের জার্সিউপহার দিলেন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন স্ক্যানিং পয়েন্টে অসুস্থ যাত্রীদের মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন: কাস্টমস কর্মকর্তা মিজানের অপেশাদার আচরণে ক্ষোভ

ক্রেন সংকটে থমকে বেনাপোল বন্দর: ব্যাহত আমদানি বাণিজ্য, ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

Reporter Name / ১৫৫ Time View
Update Time : বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন

বেনাপোল প্রতিনিধি: দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভারী পণ্য ওঠা-নামানোর কাজে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্রেন ও ফর্কলিফট না থাকায় আমদানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক ক্ষতি।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী ধরনের, যা খালাস করতে ক্রেন ও ফর্কলিফট অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় যন্ত্রপাতির সংখ্যা অনেক কম। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে কমপক্ষে ১২টি ক্রেন ও ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট।

এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময়ই এসব যন্ত্র অচল থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদনমুখী শিল্পখাত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি থমকে যাচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ।” তিনি আরও জানান, এই পরিস্থিতিতে অনেক আমদানিকারক বিকল্প বন্দর ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন, যা বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে, বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, বর্তমান ঠিকাদারের অদক্ষতা ও যন্ত্র সংকটের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে ঠিকাদার পরিবর্তনের দাবিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লাহ বলেন, ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অর্ধেক সক্ষমতা নিয়ে এই বিশাল কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই এই সংকট নিরসন করা হবে বলে আমরা আশাবাদী।

উল্লেখ্য, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়, যা থেকে সরকারের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। দেশের অর্থনীতির অন্যতম এই প্রবেশদ্বারে এমন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

Spread the love


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *