বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ন
শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে ১৭ শতক জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জমি দখল করে নির্মাণাধীন ঘরের ভিত্তি ভেঙে ফেলা, গাছপালা কেটে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন জমির দাবিদার মো. আমিরুর ইসলাম মিন্টু (৪৪)। এসব ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে তেবাড়িয়া গ্রামের ইমান আলী মুন্সির কাছ থেকে ১৭ শতক ধানি জমি ক্রয় করেন আমিরুর ইসলাম মিন্টু। জমি কেনার পর রাস্তার পাশের একটি বড় গর্ত ভরাট করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি তার।
আমিরুর ইসলাম মিন্টুর দাবি, দীর্ঘ সময় জমিটি নিয়ে কোনো বিরোধ না থাকলেও পরবর্তীতে ইয়াকুব আলী মুন্সি জমির মালিকানা দাবি করে শার্শা জোনাল ও যশোর সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে মামলা করেন। ওই মামলার রায় বা সিদ্ধান্ত তার পক্ষে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে চলতি বছর জমির পশ্চিম পাশের মালিক মো. মমিনুল হক ও মো. রমজান আলী জমির কিছু অংশ নিজেদের বলে দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন আমিরুর। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৫ জুলাই এ ঘটনায় মামলা করার পর তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে চাপ প্রয়োগ করে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে তার জমিতে নির্মাণাধীন দুই কক্ষের একটি ঘরের ভিত্তি ভেঙে ফেলা হয় এবং জমিতে থাকা শিশুগাছ, মেহগনিসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমিরুর ইসলাম মিন্টু বলেন, জমির বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিনি নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারছেন না এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।
এ ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার ও সহযোগিতার অভিযোগও তুলেছেন আমিরুর ইসলাম মিন্টু। তাদের মধ্যে ডিহি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুতাসসাম খোকন, লক্ষ্মণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদ, অলিয়ার রহমান সরদার, সাহেব আলী, আশা, লতা, হান্নান ও রওশন মাস্টারের নাম উল্লেখ করেন তিনি। তার অভিযোগ, তাদের নেতৃত্ব ও সহযোগিতায় জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে লক্ষণপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মুতাসসাম খোকন বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত যাদের নাম বলা হচ্ছে, তাদের কাউকেই আমি চিনি না। আমি লক্ষ্মণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
এদিকে ভুক্তভোগী আমিরুর ইসলাম মিন্টু জমির কাগজপত্র ও রেকর্ড যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, দখলের চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শার্শার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিনুল হক জানান, এ বিষয়ে আমি কোন অভিযোগ পাইনি। যদি লিখিত অভিযোগ পাই তাহলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেব।
জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের রেকর্ড, খতিয়ান, দলিলপত্র ও আদালতের নথি যাচাই প্রয়োজন। পাশাপাশি গাছ কাটার ঘটনা, ঘরের ভিত্তি ভাঙা এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগেরও আইনগত তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।