রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
হুমায়ন কবির মিরাজ, শার্শা: ইতিহাস যেন ফিরে এলো নতুন করে। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর, যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উলাশীতে দেশের প্রথম স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেন, তখন তরুণ শাহাদাত হোসেন ছিলেন সেই উদ্যোগের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। হাতে ঝুড়ি আর কোদাল নিয়ে তিনি নেমেছিলেন মাটির কাজে, স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষি ও জনজীবনের পরিবর্তনের।
দীর্ঘ ৪৮ বছর পর, সময়ের প্রবাহে অনেক কিছু বদলেছে। কিন্তু স্মৃতি রয়ে গেছে অমলিন। আজ সেই শাহাদাত হোসেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ, আশি ছুঁইছুঁই এক বৃদ্ধ। তবুও সোমবার উলাশীর সেই ঐতিহাসিক খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি প্রত্যক্ষ করলেন এক অন্যরকম দৃশ্য তার যৌবনের স্মৃতিবিজড়িত খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করছেন শহীদ জিয়ার সন্তান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী যখন উপস্থিত বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত, তখনই তার নজরে আসে সাদা দাড়িওয়ালা, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শাহাদাত হোসেন। মুহূর্তেই তিনি এগিয়ে যান তার কাছে। গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতায় বৃদ্ধের হাত ধরেন এবং স্নিগ্ধ হাসিতে জানতে চান, “চাচা, আমার বাপের নাম কী?”
প্রশ্নটি যেন মুহূর্তেই স্মৃতির দরজা খুলে দেয়। আবেগে আপ্লুত হয়ে শাহাদাত হোসেন দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম। সঙ্গে যোগ করেন, “আপনার বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আর আপনার মা খালেদা জিয়া-ও তো এই দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।”
এরপর কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তার বয়স জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “যখন এই খাল খননের কাজ শুরু হয়, তখন আমার বয়স ছিল ৩০-এর কিছু বেশি। আর এখন আমি আশি পার করা একজন মানুষ।
পরিস্থিতি কিছুটা হালকা করতে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, চাচা, আজকে আবার খাল কাটতে পারবেন? এমন কথায় উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। বৃদ্ধ শাহাদাত হোসেনও হাসতে হাসতে, তবে আবেগঘন কণ্ঠে জবাব দেন, “বাবার সঙ্গে একবার এই মাটিতে কোদাল দিয়েছিলাম, এখন আর সেই শক্তি কোথায়, বাজান!
এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তটি যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের সংযোগের প্রতীক হয়ে ওঠে ইতিহাস, সংগ্রাম ও স্মৃতির এক জীবন্ত সাক্ষ্য।
উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে সোমবার যশোর সফরে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি যশোর ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন, যশোর ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করবেন এবং যশোর ঈদগাহ ময়দানে এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
স্থানীয়দের মতে, উলাশী খালের পুনঃখনন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয় এটি একটি ইতিহাসের পুনর্জাগরণ, যা নতুন প্রজন্মকে অতীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে এবং এলাকার কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা জাগাচ্ছে।