শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ বাজারে অনুমোদনহীনভাবে ভিসা প্রসেসিং ও বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ‘নাভারণ ভিসা এক্সপ্রেস’-এর বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা ও পাসপোর্ট সংগ্রহের অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার বাসিন্দা বজলুর রহমান একসময় নাভারণ বাজারে ফটোকপি ও ফটোষ্ট্যাটের ব্যবসা করতেন। পরবর্তীতে বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসায় যুক্ত হয়ে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শার্শার ইসলামপুর এলাকায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া, সার্বিয়া, সাইপ্রাস, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, ইতোমধ্যে শত শত পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এসব পাসপোর্টের বিপরীতে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে।
সম্প্রতি সার্বিয়ায় পাঠানো কয়েকজন কর্মী কাজ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, চাকরির আশ্বাসে বিদেশে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে তারা প্রত্যাশিত কাজ পাননি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বজলুর রহমান। অতীতে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন বলেও দাবি করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, চুক্তি অনুযায়ী ভিসা বা চাকরির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর একপর্যায়ে বজলুর রহমান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। পরে এলাকায় ফিরে এসে আবারও একই ধরনের কার্যক্রম শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পাসপোর্ট সংরক্ষণ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আগে সংগৃহীত পাসপোর্ট নাভারণের অফিসে রাখা হলেও বর্তমানে সতর্কতার সঙ্গে ম্যানেজার ও কর্মচারীদের বাসাবাড়িতে গোপন স্থানে রাখা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নাভারণ ভিসা এক্সপ্রেসের ম্যানেজার কবির হোসেন বলেন, “প্রথমে পাসপোর্টপ্রতি এক লাখ টাকা জমা নেওয়া হয়। সার্বিয়ায় যেতে বর্তমানে মোট ১৪ লাখ টাকা রেট নির্ধারণ করা হয়েছে।”
অন্যদিকে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক রাহেনুর ইসলাম বলেন, দেশে বৈধভাবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। বিদেশগামীদের বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। অবৈধভাবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে নাভারণ ভিসা এক্সপ্রেসের মালিক বজলুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও প্রতিষ্ঠানের বৈধতার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।