রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
বেনাপোলে সোহাগ হত্যাচেষ্টার গ্রেফতার নেই,উদ্ধার হয়নি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ, আটক ১ রাজধানীতে ডিবির জালে যশোরের বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জনি পানির সংকটে বাড়ছে উৎকণ্ঠা, কালশী বস্তির ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৩ ইউনিট কালিহাতিতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ ঈদে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকছে বেনাপোল বন্দর, তবে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক শার্শায় শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, বৃদ্ধ আটক শার্শায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ কলাবাগানে ডেকে নিয়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণ, এক মাস পর শ্বশুর গ্রেফতার খুলনায় চালু হলো নতুন গ্রামীণফোন সেন্টার

ইউরেনিয়ামের বদলে অর্থ’ যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ

Reporter Name / ৩২ Time View
Update Time : রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
ইউরেনিয়ামের বদলে অর্থ’ যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ
ইউরেনিয়ামের বদলে অর্থ’ যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ। ছবি সংগ্রহিত বিবিএস নিউজ 24

বিবিএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে বড় ধরনের সমঝোতার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে, যেখানে ‘ইউরেনিয়ামের বদলে অর্থ’ এমন একটি প্রস্তাব গুরুত্ব পাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিন পাতার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু চলমান সংঘাত কমাতেই নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায়ও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রস্তাবের মূল বিষয়
আলোচনায় থাকা খসড়া অনুযায়ী, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত—প্রায় ২ হাজার কেজি—হস্তান্তর বা নিষ্ক্রিয় করতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের স্থগিত সম্পদ অবমুক্ত করার কথা বিবেচনা করছে। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।

ইউরেনিয়াম ইস্যুতে বিকল্প পথ
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও কয়েকটি বিকল্প সামনে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—তৃতীয় কোনো দেশে ইউরেনিয়াম পাঠানো, ইরানের ভেতরেই কম সমৃদ্ধ করা (ডাউন-ব্লেন্ড) অথবা আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় সংরক্ষণ করা।

মতভেদের জায়গা
চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার সময়সীমা। যুক্তরাষ্ট্র চায় অন্তত ২০ বছরের জন্য এই কার্যক্রম স্থগিত থাকুক, বিপরীতে ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে। এই ব্যবধান কমানোই এখন আলোচনার মূল চ্যালেঞ্জ।

কূটনৈতিক তৎপরতা
চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। আলোচনা সফল হলে ইসলামাবাদে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দুই পক্ষের লক্ষ্য
এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে দূরে রাখা। অন্যদিকে ইরান চায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পুনঃপ্রবেশ এবং আটকে থাকা সম্পদ ফেরত পাওয়া।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও ধোঁয়াশা
এমন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অতীতে ইরান চুক্তিতে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি কঠোরভাবে সমালোচনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা। এবার একই ধরনের প্রস্তাব সামনে আসায় ‘দ্বৈত মানদণ্ড’-এর প্রশ্ন উঠছে।
তবে আলোচনার অগ্রগতির কথা স্বীকার করলেও ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, “কোনো অর্থ লেনদেন হবে না”—যা পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমবে, পারমাণবিক ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে ঝুঁকিও কম নয়—ইরান চুক্তির শর্ত পুরোপুরি মানবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্রদের, বিশেষ করে ইসরায়েলের আপত্তি পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে।

Spread the love


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *