রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
বিবিএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে নতুন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা করছে মালয়েশিয়া সরকার। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগদাতারা সরাসরি শ্রমিক বাছাইয়ের সুযোগ পাবেন, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা সীমিত হতে পারে।
‘ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম’ নামে আলোচিত এই সিস্টেমে একটি অনলাইন পোর্টাল থাকবে, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধন করে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নির্বাচন করতে পারবে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের ঝুঁকি কমবে।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আশাবাদী। তবে এটি এখনও পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তবায়নের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)’ ব্যবহার করা হয়, যেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বীমা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত প্ল্যাটফর্মটি এই বিদ্যমান ব্যবস্থার বিকল্প বা পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এ উদ্যোগ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, সম্পূর্ণভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক সরাসরি নিয়োগ করা বাস্তবিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
এছাড়া, যেসব দেশ থেকে মালয়েশিয়া শ্রমিক নেয়, সেসব দেশের স্থানীয় নিয়োগ কাঠামোর কারণে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, প্রস্তাবিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়িত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়ম কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর কাঠামো, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও পর্যালোচনা করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সফল করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়, কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তবেই বিদেশি শ্রমবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।